dead-dinajpur24(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত তিন যুবক নাটোর পৌর যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে তাদের পরিবার ও নাটোর পৌর শাখা যুবলীগ। সোমবার সকালে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে হরিপাড়া- কলাবাড়ি’র মাঝে মহা-সড়কের পাশে পুলিশবক্সের কাছ থেকে ওই তিনজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তারা হলেন, নাটোর পৌর যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ও শহরের কানাইখালী এলাকার সোনা মিয়ার ছেলে রেদওয়ান সাব্বির, একই এলাকার হাফেজ লুৎফর রহমানের ছেলে আব্দুল্লাহ ও শহরের কালুর মোড় এলাকার কালু মিয়ার ছেলে সোহেল রানা। নিহতদের মাথায় গুলির চিহ্ন রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নাটোর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী  জানায়, গত শনিবার রাতে সদর উপজেলার তকিয়া বাজার এলাকায় কাজ শেষে যুবলীগ নেতা সাব্বির তার দুই বন্ধু আব্দুল্লাহ ও সোহেল একটি চায়ের দোকানে চা পান করছিল। রাত ১১টার দিকে সেখানে দুটি মাইক্রোবাসযোগে ১৫/১৬জন দুস্কৃতিকারী তাদের মারপিট করে গাড়িতে তুলে নিয়ে রাজশাহীর দিকে চলে যায়। এরপর তাদের খোঁজ না পেয়ে সাব্বিরের মা রুখসানা বেগম রবিবার সকালে নাটোর সদর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন। এছাড়া এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে নাটোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন আহবান করেছিল যুবলীগ।
কিন্তু তার আগেই সোমবার সকালে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে তিন যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের সংবাদ প্রচার হয়। তা দেখে পরিবারের লোকজন সদর থানার মাধ্যমে দিনাজপুরের সংশ্লিষ্ট থানায় খোঁজ নিয়ে ওই লাশ গুলোর ব্যাপারে নিশ্চিত হন। নিহতদের পরিবারের লোকজন লাশগুলো নিতে দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে।
এদিকে তিন কর্মী নিহতের এ ঘটনার পর সোমবার দুপুরে নাটোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে পৌর যুবলীগ। এতে যুবলীগ নেতারা লিখিত বক্তব্যে বলেন, যারা যুবলীগের তিন কর্মীকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নাটোর জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বিপ্লব, সদর যুবলীগ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ডাবলু, পৌর যুবলীগের আহবায়ক সাঈম হোসেন উজ্জল ও যুগ্ম আহবায়ক হাসিবুল ইসলাম বুলেট।
এ ব্যাপারে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, নিহত সাব্বিরের বিরুদ্ধে নাটোর সদর থানায় হত্যাসহ ১২ টি, সোহেলের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা আছে। এছাড়া নিখোঁজের পর সাব্বিরের মা বাদী হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরী করেন বলে জানান তিনি।