জিন্নাত হোসেন (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার গৃহবধু ও দিনাজপুর সদরে শিশু ধর্ষনের সুষ্ঠু বিচারের দাবীতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে। মহিলা পরিষদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম এবং পুলিশ সুপার মোঃ রুহুল আমিন।  ৩০ আগষ্ট রোববার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর দিনাজপুর মহিলা পরিষদের সভাপতি কানিজ রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ড. মারুফা বেগম স্বাক্ষরীত পৃথক পৃথক স্মারকলিপিতে বলা হয় দিনাজপুর জেলার গালতৈড় চিরিরবন্দর এলাকার এক গৃহবধু গালতৈড় চিরিরবন্দর এলাকার আবুব্ক্কর সিদ্দিকের ছেলে বখাটে ওহেদুল ইসলাম কুপ্রস্তাব দেয়। এই কুপ্রস্তাবে গৃহবধু রাজি না হলে, ওহেদুলের তৈরিকৃত অশ্লীল ভিডিও এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আবুব্ক্কর সিদ্দিকের পক্ষ অবলম্বনকারী ৮নং ওর্য়াড এর মেম্বার জালালউদ্দিন ৬ মাস ধরে একঘরে করে রাখার ফতোয়া জারি করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১০ জুলাই আবুবক্কর সিদ্দিরের ৩ ছেলে রাশেদুল,সহিদুল ও ওহেদুলসহ ৬ থেকে ৭ জন গৃহবধুর পিতা ও স্বামীকে খুটির সাথে বেধে পৈশাচিক ও অমানবিকভাবে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে দুই পা ভেঙ্গে দেয়। পা ভাঙ্গা অবস্থায় থানায় মামলা করতে গেলে চিরিরবন্দর থানা মামলার আরজি পরিবর্তন করে ফেলে। বিষয়টি জানাজানি হলে গৃহবধু সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। সাংবাদিক সম্মেলন করার কারণে প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে ২৫ আগষ্ট রাত ৯টার দিকে সাইদুল মাষ্টার,মঞ্জুরুল ইসলাম,রকিবুল ইসলাম ও অজ্ঞাত ১জন গৃহবধুকে জোর পূর্বক তুলে পাশে পুকুর পাড়ে নিয়ে ওড়না দিয়ে হাত-মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে। এই ৩ জনই আগের নির্যাতন মামলার আসামী। পরে যেন মামলা না করতে পারে এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে না পারে এব্যাপারে হত্যার হুমকি দিয়ে জোর পূর্বক একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে ধর্ষকেরা চলে যায়। রেহেনার গঙ্গানির শব্দে বাড়ির লোকজন রাতেই উদ্ধার করে দিমেক হাসপাতালে ভর্র্তি করে। অপর স্মারকলিপিতে বলা হয় দিনাজপুর জেলার সদর উপজেলার ৮নং শংকরপুর ইউনিয়নের শালকি সন্তোষপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস গৃহে প্রধান শিক্ষক মো: শাহিনুর উক্ত বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ৫/৫/১৫ তারিখে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং- ১১ ধারা ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১)। শিশুটির পরিবার থেকে বিষয়টির সুষ্ঠু বিচার ও অপরাধী শিক্ষকের শাস্তি দাবি করা হয়। কিন্তু গত ২৪ আগষ্ট ২০১৫ তারিখে এ মামলার আসামী মো: শাহিনুর মাষ্টার আগমী ৫/০৯/২০১৫ তারিখ পর্যন্ত জামিনে মুক্তি পায়। এ ঘটনা শোনার পর মহিলা পরিষদ,দিনাজপুর এর পক্ষে সভাপতি কানিজ রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ড.মারুফা বেগম,পল্লীশ্রী,এম বি এস কে সহ অন্যান্য সামাজিক সংগঠনের ১২জনের একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থল সহ বাদী এবং বিবাদীর বাড়ী ও গ্রাম পরিদর্শনে যান। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে নির্যাতিত ছাত্রীর গ্রামে পৌঁছাতেই গ্রাম বাসীর সাথে আলাপ কালে ঘটনার সত্যতার সাথে আসামীর জামিনে মুক্তির বিষয়ে তাদেরকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় এবং বুঝা যায় যে,তারা আশাহত হয়েছেন। জামিনের অর্থই শেষ রায় নয় জেনে তাদের মনে আশার সঞ্চার হয় এবং পুনরায় সকলে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। অন্যদিকে একই গ্রামে অবস্থানরত আসামী মো: শাহিনুর এর বাড়ির কাছে গেলে নারী সদস্যদের বাঁধার মুখে পড়তে হয় দলটিকে। কেন এসেছি, আদালতে প্রমান হবে গ্রামের ব্যাপার গ্রামেই মীমাংসা হবে এমন শতকথার মুখে আমরা ফিরে আসতে বাধ্য হই।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহিলা পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক মনোয়ারা সানু, সম্মানীত সদস্য আজাদী হাই প্রমুখ।