-সংগ্রহীত

স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে করোনাভাইরাস শনাক্তের জন্য স্থাপিত পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার ১ সপ্তাহ পরও মিলছে না রিপোর্ট, যাচ্ছে না পাওয়া ফলাফল।এতে করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ শনাক্তের জন্য আসা মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ৫৭ দিন আগে গত ২৬ এপ্রিল করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার জন্য আরটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়। প্রতি শিফটে ৯৪টি করে দুই শিফটে প্রতিদিন ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা থাকলেও প্রতিদিন এই ল্যাবে প্রায় পাঁচ শতাধিক নমুনা পরীক্ষার জন্য জমা পড়ছে। নমুনা দেয়ার পাঁচ-ছয় দিন পর, অনেক সময় এক সপ্তাহের পরও ফলাফল পাচ্ছেন না মানুষ। সংগ্রহ করা নমুনার পরীক্ষা দেরীতে হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সঠিক ফলাফলও পাওয়া যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে প্রথম দিনের পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ হলেও পরদিন একই ব্যক্তির নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসছে। যথা সময়ে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল জানতে না পারায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বিড়ম্বনায় পড়ছেন।

গত শনিবার রাত ৯টায় জেলা সিভিল সার্জন অফিসে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল নিতে আসা শহরের মুন্সিপাড়া এলাকার জনৈক মাহবুব নামে এক ব্যবসায়ী জানান, গত ৪ দিন আগে আমি নমুনা দিয়েছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত ফলাফল পাইনি। শুধু মাহবুব নয়, তাঁর মত এমন অনেকেই আছেন যারা পাঁচ/ছয় দিন আগে নমুনা দিয়েও ফলাফল পাননি।

দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস জানান, ২০ জুন’২০ পর্যন্ত এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ১০৫৭৯টি নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯১৪২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যার মধ্যে ৯৫৮ জনের নমুনায় পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। আর বর্তমানে ১৪৩৭টি নমুনা জমা পড়ে রয়েছে।

দিনাজপুরে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাব সূত্রে জানা গেছে, পিসিআর ল্যাবে যন্ত্র মাত্র একটি। ল্যাব টেকনিশিয়ান রয়েছেন ১০ জন। এই ল্যাবে দুই শিফটে সর্বোচ্চ ১৮৮টির বেশী নমুনা পরীক্ষা করা যায়। অথচ প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক নমুনা পরীক্ষার এখানে পাঠানো হয়। প্রতিদিন পরীক্ষার পর অতিরিক্ত নমুনা ফ্রিজে রাখা হয়।

এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবের পরিচালক কলেজের মাইক্রেবায়োলজি বিভাগে সহযোগি অধ্যাপক ডা. যোগেন্দ্র কুমার জানান, সাধারণত ৭২ ঘন্টা পর করোনার নমুনার কার্যকারিত নষ্ট হয়ে যাওয়া আশঙ্কা থাকে। দিনাজপুর পিসিআর ল্যাবে নমুনা সংরক্ষণ করে রাখার জন্য উন্নতমানের রিফ্রেজারেটরের ব্যবস্থা নাই। এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজারের অধিক নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. শিবেশ সরকার জানান, এখানে একটি মাত্র পিসিআর ল্যাব। এই ল্যাবে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলা থেকে সংগ্রহ করা নমুনার পরীক্ষা করা হয়। তাছাড়া নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতাও কম। যতদ্রুত সম্ভব পিসিআর ল্যাব ও মেশিনের সংখ্যা বাড়ানো ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণের কোন উপায় নেই। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, দিনাজপুর ২০ জুন-২০২০ পর্যন্ত উত্তরের ৪টি জেলার (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী) মোট ৯১৪২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৫৯ জন।