এম.এ সালাম (দিনাজপুর২৪.কম)  দিনাজপুর জেলায় নদ-নদীতে মাছ নেই জেলে পরিবারের দুর্দিন চলছে। দিনাজপুরে পূর্ণভবা নদী, আত্রাই নদী, ডেপা নদী, ছোট যমুনা নদীসহ ছোট বড় সকল নদীই মৃত প্রায়। নাব্যতা হারিয়ে চর জেগে উঠেছে।  কোনো কোনো নদীতে কৃষকেরা ইরি-বোরো আবাদ করছে। ছোট ছোট জলাশয় বিলে মাটি ভরাট করে ফসলি জমিতে পরিণত করা হয়েছে, কৃষি জমিতে মাটি খনন করে আবাদী জমি বিনষ্টের পাশাপাশি নষ্ট করছে বিভিন্ন বিল। কিছু কিছু পুকুর ডোবা খাল বিলে পানি থাকলেও মেশিন লাগিয়ে পানি সেচ এবং বিষ দিয়ে দেশীয় মাছের বংশ ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে প্রায়।
দিনাজপুরের প্রধান নদী পূর্ণভবা, আত্রাই, ডেপা ও ছোট যমুনা নদীর নাব্যতা সংকট বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে নদী খনন ও ড্রেজিং না করার কারণে পূর্ণভবা, আত্রাই, ডেপা ও ছোট যমুনা নদী এখন নালায় এবং মরায় পরিণত হয়েছে। যার কারণে দিনাজপুর জেলায় কমপক্ষে দেড় হাজার জেলে পরিবার বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের নৌকা এখন নদীঘাটের বালু চরে আটকা পড়ে রয়েছে। একারণেই বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অনেকেই ভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়েছে। তারা এখন ওই পেশা ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ও দাদন ব্যবসায়ীদের নিকট চরা সুদে ঋণ নিয়ে বাড়িতে খোরাকি দিয়ে পাড়ি জমিয়েছে ভিন্ন জেলায়। অনেকে রিক্সা-ভ্যান আবার কেউ কেউ রাজমিন্ত্রী, কাঠমিস্ত্রীর জোগালী হিসেবে কাজ করছেন। নদীতে নৌকা চালিয়ে এবং মাছ ধরে যে রোজগার করতো তারা ভিন্ন জেলায় হাড়কাপানো পরিশ্রম করেও পূর্বে মতো রোজগাড় করতে পারছেন না তারা। আত্রাই নদীর পাড়ের জেলে রবিউল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন মাছ ধরা এবং নৌ-শ্রমিকের কাজ করে এসে আজ হঠাৎ করে রিক্সা-ভ্যান চালাতে পারছি না। তারপরও সংসার চালানোর দায়ে এ সব পেশায় পরিশ্রম করতে হচ্ছে।
পূর্নভবা নদীর ধারে বাঙ্গিবেচা এলাকার জেলে অজয় কুমার জানান, নদীতে জল নেই তাই আমরা অলস সময় কাটাচ্ছি। সংসার চলছেনা ঋণগ্রস্থ্য হয়ে পড়ছি। ৮নং শংকরপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার জানান, নদীগুলোর নাব্যতা ফিরে আনতে হলে নদী খনন ও ড্রেজিং করা একান্ত প্রয়োজন। এতে করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরে আসবে। পাশা পাশি নৌ-শ্রমিক ও জেলে সম্প্রদায় নতুন করে আবার তাদের হারানো পেশা ফিরে পাবে। নাব্যতা সংকটের কারণে আজ আমার ইউনিয়নের কমপক্ষে ২৪০ নৌ-শ্রমিক ও জেলে সম্প্রদায় বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।