(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরে ধর্মীয় ভাবগাম্বির্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে লাইলাতুল ক্বদর পালিত হয়েছে। লাইলাতুল ক্বদরে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, তসবিহ-তাহলিল, দান-খয়রাত করেছেন পবিত্র এই মহিমান্বিত রজনীতে। গোরস্থানে গিয়ে মৃত পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন অনেকে।
লাইলাতুল ক্বদর উপলক্ষে মঙ্গলবার (১২ জুন) দিবাগত রাতে দিনাজপুর শহরের প্রতিটি মসজিদে ছিল ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপচেপড়া ভীর। এশা ও তারাবিহ’র নামাজের পূর্বেই প্রতিটি মসজিদ কানায় কানায় ভরে যায়। মসজিদের ইমামগন লাইলাতুল ক্বদরের ফজিলত তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া মাদরাসা, খানকাহ, এতিমখানা ও অন্যান্য স্থানে আয়োজন করা হয় ওয়াজ মাহফিলের। এ সব ওয়াজ মাহফিলে মসজিদের ইমাম ও অন্যান্য আলেম-ওলামাগন লাইলাতুল ক্বদরের ফজিলত সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন।
শহরের জেল রোড কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, স্টেশন রোড জামে মসজিদ, গোর-এ-শহীদ জামে মসজিদ, পশ্চিম পাটুয়াপাড়া জামে মসজিদ, কাঞ্চন কলোনী জামে মসজিদ, ডাবগাছ জামে মসজিদ, সদর হাসপাতাল জামে মসজিদসহ শহরের প্রতিটি মসজিদে লাইলাতুল ক্বদরের তাৎপর্য তুলে ধরে ইমামগন বক্তব্য রাখেন। লাইলাতুল ক্বদরের ন্যায় বছরের অন্যান্য দিনেও মসজিদে এসে নামাজ আদায় করা ও অন্যান্য ইবাদত পালনের আহবান জানান ইমামগন।
লাইলাতুল ক্বদরে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রাত জেগে নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত ও জিকির-আজকার করে রাত কাটিয়েছেন। মসজিদে মধ্য রাতে জামায়াতের সাথে সালাতুল হাজত ও তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করেছেন। অনেকেই গোরস্থানে গিয়ে মৃত পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনদের কবর যিয়ারত করেছেন ও তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।
কেউ কেউ আবার মসজিদ ও গোরস্থানের সামনে ভীড় করা গরীব-দুখী ও অসহায় মানুষকে নগদ টাকা-পয়সা দান করেছেন। আবারে কেউ কেউ সওয়াব লাভের আশায় গরীবদের মাঝে খাবার বিতরণ করেছেন।
মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল ক্বদর। এ রাতে মহান আল্লাহ তাআলা মানুষের গুনাহ মাফ করে দেন। মুসলমানেরা অতীতের ভূলত্রুটির জন্য মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও ভবিষ্যতে পরিশুদ্ধ জীবন-যাপনের তাওফিক চেয়ে রাত জেগে ইবাদত ও দোয়া মুনাজাত করেছেন। পবিত্র কুরআনে লাইলাতুল ক্বদরকে “হাজার মাসের চেয়ে উত্তম” বলা হয়েছে।