(দিনাজপুর২৪.কম)  দিনাজপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট কনফারেন্স রুমে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।  আজ ৯ মার্চ বুধবার দিনাজপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর আয়োজনে স্কীল এন্ড ট্রেনিং এনহান্সমেন্ট প্রজেক্টের অর্থায়নে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনাজপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ আমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরী শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা’র পরিচালক (পি,আই,ইউ) আনম সালাউদ্দীন খান। অনুষ্ঠানে পেপার উপস্থাপন করেন চীফ ইন্সট্রাক্টর (দিপই’র) ড. প্রকৌশলী মোঃ রুহুল আমিন। অনুষ্ঠানে দিনাজপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি কারিগরী শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা’র পরিচালক (পি,আই,ইউ) আনম সালাউদ্দীন খান বলেন. শুদ্ধাচার বলতে সাধারণত ভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদন্ড নীতি ও প্রথার প্রতি অনুগত বোঝানো হয়। বাংলাদেশ একটি উদীয়মান প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক স্বল্পোন্নত রাষ্ট্র। এ জাতির লক্ষ্যে রূপকল্প-২০২১ উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী এক দশকে দেশটিতে ক্ষুধা, বেকারত্ব, অশিক্ষা, বঞ্চনা ও দারিদ্র্যতা থাকবে না, দেশে বিরাজ করবে শান্তি, সুখ, সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধি। সংবিধানের প্রস্তাবনা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা হবে যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হবে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে ‘জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিতকরণ এবং জাতিসংঘের সনদ মেনে চলার প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছে। ন্যায়ভিত্তিক, দূর্নীতিমুক্ত ও শুদ্ধাচারী রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কেবল মানবসত্তার সেই মর্যাদা এবং মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা সম্ভব। শ্রদ্ধাচারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত আইন-কানুন ও নিয়ম-নীতি ও গৃহীত পদক্ষেপ, শুদ্ধাচারের কৌশল প্রণয়নের যৌক্তিক ভিত্তি, জাতীয় শুদ্ধাচারের ব্যবস্থা, প্রেক্ষাপট, চ্যালেঞ্জ, লক্ষ্য ও সুপারিশ, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী সুপারিশ, কর্মপরিকল্পনা, বাস্তবায়নের ব্যবস্থা, পরীবীক্ষণ ও পর্যালোচনা সম্পর্কে পরিচালক বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন।
পরিশেষে অনুষ্ঠানের সভাপতি ও দিপই’র অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ আমিনুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সমাজে দূর্নীতি দমন শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে এই কৌশল পত্রটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্র ও সুশীল সমাজের বেসরকারী খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কৌশলটি একটি বিকাশমান দলিল। শ্রদ্ধাচারের উপর গুরুত্ব দিয়ে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১ দূর্নীতি দমনকে একটি আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সেই অঙ্গীকার কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই সরকার এই শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।