আইন উপদেষ্টা এ্যাড. শারমিন আরা /এম. আহসান কবির (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরে জমে উঠেছে জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। ভোটকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পদপ্রার্থীরা বেশ আনন্দিত। উভয় দলীয় আইনজীবীরা নিজেদের বিজয়ী হবার কথা বলছেন। তিনিরা বলেন, এটি একটি বর্তমান সময়ে মাইলফলক ও চ্যালেঞ্জিং নির্বাচন হবে। অপরদিকে ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও আশা করছেন তারা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। নির্বাচনী সর্বশেষ মিলনমেলা বা প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত পরিচিতি সভায় সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন পরিচালনার জন্য গঠিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ্যাড. কাজেম উদ্দিন আহমেদ। নির্বাচন কমিশিনার এ্যাড. মো. আব্দুর রউফ ও এ্যাড. মো. মজিবর রহমানের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্যজোট মনোনিত প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী এ্যাড. মো. আব্দুল হালিম, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো. খয়রাত আলী, সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ মনোনিত জাহানী-তহিদুল প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী মো. নুরুজ্জামান জাহানী, সাধারণ সম্পাদক পদপ্রাথী মো. তহিদুল হক সরকার, স্বতন্ত্র সভাপতি পদপ্রার্থী এ্যাড. মো. মাজহারুল ইসলাম সরকার, সহ-সভাপতি প্রার্থী এ্যাড. আসফাক আহমদ। পরিচিতি সভায় প্রার্থীরা নিজ নিজ প্যানেলের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে নিজেদের প্যানেলের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে বিজ্ঞ আইনজীবীদের প্রতি আহবান জানান। দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির বাংলা ১৪২৫ সনের বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি ও সহ-সভাপতি পদে দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ১৫টি পদে ২টি প্যানেল থেকে ৩২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্যানেল ২টির মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ মনোনিত জাহানী-তহিদুল প্যানেল ও বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্যজোট মনোনিত হালিম-খয়রাত প্যানেল। এছাড়া সভাপতি পদে এ্যাড. মাজহারুল ইসলাম সরকার ও সহ-সভাপতি পদে এ্যাড. আসফাক আহমেদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ মনোনিত জাহানী-তহিদুল প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন- সভাপতি পদে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান জাহানী, সহ-সভাপতি পদে মো. মজিবর রহমান-৫, সহ-সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম-৪, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. তহিদুল হক সরকার, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে সারওয়ার আহমেদ বাবু, সহ-সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব রায়, কোষাধ্যক্ষ পদে মো. মজনু সরদার, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে শীষ মহল (পপি), পাঠাগার সম্পাদক পদে রনি চন্দ্র রায়, ধর্ম ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক পদে মো. রেয়াজুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য পদে মো. আব্দুল মাসুদ উজ্জল, আবু সোহেল মো. শাহরিয়ার, স্বপন কুমার রায়, মোছাঃ সাহিমা সুলতানা ও মো. মকসেদুর রহমান (সাহাজাদা)।
অপরদিকে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মনোনিত প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন-সভাপতি পদে মো. আব্দুল হালিম, সহ-সভাপতি পদে আবু আলী চৌধুরী, কবির বিন গোলাম চার্লি, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. খয়রাত আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আলহাজ্ব মো. রিয়াজুল ইসলাম শাহ, আবু মাসউদ ওবায়দুল্লাহ (তারেক), কোষাধ্যক্ষ পদে মো. সাইফুল ইসলাম-২, ধর্ম ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক পদে মো. মাইনুল আলম, পাঠাগার সম্পাদক পদে মো. আজেদুর রহমান, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে খুরশিদা পারভীন জলি, নির্বাহী সদস্য পদে মো. রিয়াজুল ইসলাম-০১, নরেশ চন্দ্র প্রামাণিক, মো. ওয়াহেদুজ্জামান ডায়মন্ড, মো. মনিরুল ইসলাম শাহ ও এসএমজি মোস্তাকিম।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করবেন এ্যাডভোকেট কাজেম উদ্দিন আহমেদ, নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করবেন এ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রউফ ও মো. মজিবর রহমান শাহ।
উল্লেখ্য, ৭ এপ্রিল শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে নির্বাচনে ভোট গ্রহন করা হবে। এই নিবাচনে ৪৭২ জন ভোটার ভোট প্রদান করবেন।

প্রার্থী আইনজীবীরা এবার ১০টি নির্বাচনী ইস্তেহার দিয়েছেন। যথাক্রমে- ১। ১২ তলা বার ভবন নির্মাণে অগ্রাধিকার প্রদান ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ২। বারের আয়ের উৎসের ব্যবস্থা করা এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা। ৩। বিজ্ঞ আইনজীনীগণের বার কাউন্সিলের সমুদয় ফি বার সমিতিতে হইতে পরিশোধের ব্যবস্থা করা। ৪। বার ও বেঞ্চ এর মধ্যে সু-সম্পর্ক বজায় রাখা। আদালত প্রাঙ্গণ হইতে টাউট ও দালালদের উচ্ছেদ করা এবং লাইসেন্স বিহীন আইনজীবী সহকারী পরিচয়দানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৬। নতুন আইনজীবীগণের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ওয়ার্কশপ ও সেমিনারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৭। আদালতসহ কোর্ট পুলিশের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি রোধ করা এবং দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৮। ৫০ উর্দ্ধ বিজ্ঞ আইনজীবীগণের সংবর্ধনা প্রদানের ব্যবস্থা করা। ৯। বিজ্ঞ আইনজীবীগণের ডাইরেক্টরী প্রদান করা। ১০। বিজ্ঞ আইনজীবীগণের সন্তানদের শিক্ষাক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনের জন্য সংবর্ধনা প্রদান করা।