(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরের বীরগঞ্জে প্রাইভেট পড়ানোর সময় দশম শ্রেনীর ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দিনাজপুর সরকারী কলেজে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বীরগঞ্জ পৌর শহরের বাসিন্দা আশীষ কুমার সরকার (৪৮) নামে এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ দিকে ছাত্রীটি প্রাইভেট ছুটি পর বাড়ীতে এসে বিষয়টি পরিবারকে জানালে পরিবারের লোকজন শিক্ষকের বাড়ীতে এসে শিক্ষকের উপর চড়াও হয়। ক্ষুদ্ধ লোকজন তার উপর হামলা চালালে সে পালিয়ে প্রতিবেশীর বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ এসে উত্তেজিত জনতাকে সরিয়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বিক্ষুদ্ধ জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককের বিচারের দাবিতে দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেন এবং বীরগঞ্জ থানার ওসি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন উত্তেজিত জনতার উদ্যেশ্যে বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার এবং আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করে। তাঁদের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে রাত সাড়ে ১০টায় অবরোধ তুলে নিলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

ছাত্রীটি অভিযোগ করে বলেন, প্রাইভেট পড়ার সময় প্রচন্ড গরমে স্যারের কাছে কোমলপানীয় খাওয়ার আবেদন করি। স্যার বললেন বাড়ীর ভিতরে ফ্রীজে ঠান্ডা পানি আছে নিয়ে খাও। আমি পড়ার রুমে থেকে ভিতরে গিয়ে ফ্রীজ থেকে পানি বের করতেই দেখি স্যার আমাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরেছে। এ সময় স্যারের বাড়ীর লোকজন কেউ ছিল না। আমি নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বাড়ীতে গিয়ে পরিবারকে সব খুলে বলি। ছাত্রীর মা বিলবিস বেগম জানান, বিকেল ৫টায় তার মেয়ে ঐ শিক্ষককের কাছে প্রাইভেট পড়তে আসে। প্রাইভেট শেষে রাত ৭টায় বাড়ী ফিরে এসে ঘরে বসে কাদতে থাকে। এ সময় তাকে কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করতে ঐ শিক্ষক তাকে জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালায়। পরে আমরা শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে এর প্রতিবাদ জানাই। এবং প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি করি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আশীষ কুমার সরকার বলেন, প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে আমি সন্তানের মতো স্নেহ করি। আজ আমি অদৃশ্য একটি মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার। বীরগঞ্জ থানার ওসি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছাত্রীটির পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের পর শিক্ষককের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। -ডেস্ক