(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরে গত চারদিনে উপজাতী প্রিন্স হত্যা মামলার আসামী, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুমনসহ শতাধিক অপরাধীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশের একটি চৌকস দল প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাতব্যাপী অভিযান শুরু করায় মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ীসহ অপরাধীরা অনেকটা গা ঢাকা দিয়েছে ও ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছে। দিনাজপুর পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিনের নির্দেশে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম খালেকুজ্জামান পিপিএমের নেতৃত্বে একটি চৌকস পুলিশ দল গত ১৮ আগষ্ট থেকে ২১ আগষ্ট পর্যন্ত উপজাতী প্রিন্স হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামী পশ্চিম শিবরামপুর গ্রামের ভবেশ কর্মকারের ছেলে রাজকুমার (৩২), মৃত বলি কর্মকারের ছেলে ভবেশ কর্মকার (৫০), শীর্ষ সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার আসামী গুঞ্জাবাড়ী মহল্লার মৃত সামসুল হকের ছেলে সুমন (২৮), মাদক সম্রাট রুদ্রপুর গ্রামের সোলেমানের ছেলে জালাল উদ্দীন (৪০) আন্তঃ জেলা চোরের সর্দার পশ্চিম বালুয়াডাঙ্গা মহল্লার নাগীনের ছেলে রতন (২৮), মোটরসাইকেল চোরের সর্দার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে রমযানসহ (৩০) শতাধিক অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে।
এদিকে ১ হাজার ৫’শ লিটার দেশীয় মদসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো সদর উপজেলার তাজপুর মন্ডল পাড়া গ্রামের মৃত রমযান আলীর ছেলে তাজমুলকে ২ বছর, খোদমাধবপুর গ্রামের সোম সরেনের  ছেলে  বেনজামিন সরেনকে ১ বছর ও হামযাপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে আমজাদকে ৬ মাসের কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত।
এছাড়া ভ্রাম্যমান আদালত  মাদক সেবনের অপরাধে মোবারক হোসেন (২৬), সোহাগ (১৯), রানা (২৮), আজাদ (২৬), সৈয়দ লিয়ন (৪৪), সুলতান আলীকে (৩০) বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছেন।
পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিন দাবি করেছেন, মাদকদ্রব্যসহ কোন অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না। অভিযান অব্যাহত থাকবে।
দিনাজপুর সদর সার্কেল সিনিয়র এএসপি সুশান্ত সরকার জানান, কোতয়ালী থানাধীন রামসাগর, আনন্দ সাগর, লম্বা পাড়া, হাউজিং মোড়, রামনাগর, কাঞ্চনকলোনী, হঠাৎপাড়া, বাঙ্গিবেচা ঘাট, ষষ্টিতলা ও বালুবাড়ি মেথরপট্টিসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ মাদকদ্রব্য বিক্রেতা ও সেবনকারীকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় বিপুল পরিমান ফেন্সিডিল, চোলাই মদ, ইয়াবা, গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও চোরাইকৃত ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
১৮ আগষ্ট ৫০ জন, ১৯ আগষ্ট ৩৫ জন ও ২০ আগষ্ট ২০ জন ও ২১ আগষ্ট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব  অপরাধীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। -মাহবুবুল হক খান