সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকুরি দেয়ার নাম করে প্রতারণার মাধ্যমে গোলাপী নামে এক মেয়ের কাছ থেকে ১০ লাখ ৪১ হাজার টাকা হজম করেছে পার্বতীপুর উপজেলার চাকার বাজার এলাকায় অবস্থিত খোড়াখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হারুন রশিদ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবরে অভিযোগকৃত দরখাস্তে জানা গেছে, মোছা. গোলাপী বেগম এম.আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিচয় হয় পার্বতীপুর উপজেলার মৃত করিম সর্দারের পুত্র এবং খোড়াখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশিষ্ট প্রতারক মো. হারুন রশিদের সাথে। এক পর্যায়ে গোলাপী বেগমকে দিনাজপুর জেলার যে কোন স্থানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে তিনি নিয়োগ নিয়ে দিতে পারবেন। তিনি এর আগেও বহু নিয়োগ দিয়েছেন বলে জানান। পরিশেষে গোলাপী সুস্থ্য হলে শুরু হয় আর্থিক লেনদেন। এক পর্যায়ে উক্ত প্রতারক শিক্ষক হারুন রশিদ তার নিজ নামীয় ব্যাংক একাউন্টে নেয়া শুরু করেন। যার হিসাব নম্বর-০২৫১১২০৪৭৪৬২, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, নিমতলা শাখা, দিনাজপুর। কিন্তু উক্ত প্রতারক শিক্ষক হারুন রশিদ গোলাপীর সহকারী শিক্ষক পদে ফলাফল বের হলে গোলাপীর নাম নেই!
মাধববাটী করলা গ্রামের বিরল উপজেলার গোলাপীর মা মোছা. আরজিনা বেগম এবং তার পিতা- মো. আফসার আলী জানান, গত ১২/০৫/১৯ তারিখে যথাক্রমে- ১ লাখ ৭০ হাজার, ২৫/০৫/১৯ তারিখে ১ লাখ ৩০ হাজার, ১০/০৫/১৯ তারিখে বিকাশে নিয়েছেন ১০ হাজার টাকা। যার মোবাইল নম্বর-০১৭৭৮২৮৬১৩৬, ২০/০৫/১৯ তারিখে ২০ হাজার, ২৭/০৫/১৯ তারিখে ১ লাখ। এভাবে নিয়মিত মোট ১০ লাখ ৪১ হাজার টাকা উক্ত প্রতারক শিক্ষক হারুন রশিদ কৌশলে নেয়। প্রতারক শিক্ষক হারুন রশিদের কাছে টাকা ফেরত চাইলে সে নানা ধরনের তালবাহানা করে। পরে পার্বতীপুর এক প্রভাবশালী লোকের মাধ্যমে গত ১২/০১/২০২০ তারিখে জনতা ব্যাংক লি: এর কপোরেট শাখার মাধ্যমে ০১০০০০৮০৬০১০৪ গোলাপী বেগমের স্বামী মো. নূর ইসলামের ব্যাংক একাউন্টে ৫০ হাজার ফেরত দেয়। অবশিষ্ট টাকা গোলাপীর পরিবার প্রতারক শিক্ষক হারুনের বাড়ি পার্বতীপুরে গেলে তার ছেলে জুলফিকার এবং জয় ও তার স্ত্রী জুলেখা সহ পরিবারের লোকজন হাতে লাঠি নিয়ে তাদের মারধর করেন। খোড়াখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের এহেন আর্থিক দুর্নীতি, প্রতারণা সহ নানাবিধ দুর্নীতির কারণে পার্বতীপুরের শিক্ষক সমাজ ফুঁসে উঠেছে।
গোলাপী বেগমের পরিবার তাদের জীবনের নিরাপত্তা এবং আর্থিকভাবে ক্ষতি তাদের টাকা ফেরতের জন্য বিষয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী, সচিব, জেলা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অফিসারসহ জেলা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।