picমোহন্ত (দিনাজপুর২৪.কম) শীতের কুয়াশার চাদরে মোড়ানো থকে ভোরের প্রকৃতি। যতদুর চোখ যায় কেবল সাদা আর সাদা কুয়াশার মেলা ছাড়া আর কিছুই চখে পরে না । পরম আলতো করে গায়ে মাখিয়ে প্রকৃতি সেজেছে তার নিজের সাজ। বড় হয়েছে রাত, দিন হয়েছে ছোট, কমছে তাপমাত্রা, মাঠের বিকাল প্রান্তে যেন কুয়াসার ধুম। শিশির ভেজা কোমল ঘাসের ওপর পা দিলে পায়ের তলা শিরশির করে ওঠে। তার উপর দিয়ে খালি গায়ে কেবলই হাঁটতে ইচ্ছে করে। পুকুর গুলো যেন মস্তবড় ভাতের পাতিল। সেই পাতিল থেকে বলক দেয়া ভাতের ধকধবে সাদা তাপ উঠছে। মাঠে দেখা যায় মাঠের খেজুর বাগান। ইতিমধ্যেই গাছি গাছ ভাঁর ঝুলিয়ে দিয়েছে। রাতভর সে ভাঁরে জমা হয় খেজুর রস। খেজুরের রস শীতের সকালে খেতে বেশ মজা লাগে। খেজুরের গাছের মিষ্টি রস সংগ্রহে গাছিরা এখন ব্যস্ত। সর্বত্রই মধু বৃক্ষ খেজুর গাছ তোলার মহাউৎসব শুরু হয়েছে। কিছুদিন পরই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের প্রতিক মধুবৃক্ষ (খেজুর গাছ) ঘিরে গ্রামীণ জনপদে শুরু হবে উৎসব মুখর পরিবেশ। আসছে পুরো শীত মৌসুমে সৃষ্টি হবে এক নতুন আমেজ। তাই খেজুর গাছ থেকে সু-মিষ্ট রস সংগ্রহের জন্য গাছ তোলা চাচাসহ বিভিন্ন রকমের পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে গেছে গাছিরা। ছোট বড় বিভিন্ন রকমের খেজুর গাছ অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়েই তোলা-কাটা করতে হয়। কোমরে মোটা রশি দিয়ে বেঁধে গাছে ঝুলে ঝুলে করতে হয় এ কাজ। পেশাদার গাছিদের তেমন কোনো সমস্যা হয় না বলে জানালেন গাছিরা। এক সময় খেজুরের রস, গুড় ও পাটালী উৎপাদনের জন্য বেশ খ্যাতি অর্জন করেছিল। খেজুর গুড় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে পাঠানো হতো। দেশের বাইরেও এর বেশ কদর রয়েছে। তবে খেজুর গাছ তুলনা মুলকভাবে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় আগের মতো মাঠ জুড়ে আর দেখা যায় না। তবুও প্রায় গ্রামের আর গ্রাম্য মেঠো পথের ধারে কতক গাছ দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। অতীতে এখানকার খেজুর রসের যে যশ ছিল যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। সন্ধ্যা রস আরো মজাদার, বেশ লোভনীয় গুড় ও পাটালী। কদিন পরেই প্রতিটি ঘরে খেজুরের রস দিয়ে পিঠা পুলি পায়েষ তৈরি ধুম পড়বে। মিষ্টি গুড় অত্যান্ত উপকারী। মুড়ি, চিড়া, পিঠা খাওয়া কৃষক পরিবার থেকে শুরু করে সবারই কাছে প্রিয়। এসব আশা নিয়ে শীত মৌসুমে গাছ তোলা চাচা কাটা নিয়ে পরিচিত গাছীদের বেশ ব্যস্ত সময় পার হয়।  এখনো শীত জেকে না বসলেও গাছিরা গাছ তোলা চাচ দেয়ার জন্য দা তৈরি, ঠুঙি, দড়ি, ও মাটির কলস (ভাড়) কেনার কাজ সেরে নিচ্ছে।