স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম) কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে দিনাজপুর গরুর খামারীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। ভালো দাম পাওয়ার আশায় গরুর খামারীরা শেষ সময়ে গরুর পরিচর্যা ও বিভিন্ন হাটে নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন হাটগুলোতে গরু ওঠতে শুরু হয়েছে। তবে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু দেশে না আসলে দিনাজপুর জেলার খামার গুলিতে পালিত গরুর ভালো দাম পাওয়ার আশা করছে খামারীরা। তথ্য সুত্রে জানা যায়, ১ লাখ ৯১ হাজার ২১৪টি গবাদি পশু পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু/মহিষ ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৬৫টি ও ছাগল/ভেড়া ৭১ হাজার ২৪৯ টি। কুরবানীর জন্য প্রস্তুত গবাদি পশুর মধ্যে ৮৯ হাজার ৩৮০টি ষাঁড়, ১২ হাজার ১৩৩টি বলদ, ১৮ হাজার ৩৮৩টি গাভী ও মহিষ রয়েছে ৬৩টি। অপরদিকে ৭১ হাজার ২৪৯টি ছাগল/ভেড়ার মধ্যে ৬৮ হাজার ২৪২টি ছাগল ও ভেড়া ৩ হাজার ৭টি। মাংসের দাম ও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দিনাজপুরে গরু মোটাতাজাকরণ খামার করে ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করেছে খামারীদের। বাণিজ্যিকভাবে কয়েক হাজার গরু মোটাতাজাকরণ খামার গড়ে উঠেছে এই জেলায়। কেউ শখের বশে, কেউ বেকারত্বের অভিশাপ ঘোচাতে, কেউ সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে এসব খামার গড়ে তুলছে। জেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামই এখন যেন একেকটি গো-খামারে পরিণত হয়েছে। গ্রামাঞ্চলের এমন কোন বাড়ি পাওয়া যাবে না যেখানে গরুর খামার নেই। গরু খামারীরা জানান, এবার গো-খাদ্যের দাম বেশি। যার কারণে গরু লালন করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। পশু খাদ্যের দাম বাড়ায় গরুর পালন করতে এবার খরচ হয়েছে বেশি। সে তুলনায় গরুর দাম ভালো না পেলে খামারীদের মাথায় হাত উঠবে। অনেক খামারী জানান, গরু মোটাতাজাকরণ খামার করতে যে ধরনের টাকার প্রয়োজন সে ধরনের অর্থ অনেকেরই নেই। টাকার অভাবেই গরুকে খাওয়াতে পারছে না। ফলে ঈদ আসার আগেই অনেকেই গরু বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা পেলে গো-খামার করে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে দিনাজপুরের বেকার যুবকরা। এ অভিমত অনেক খামারীর। বিগত কয়েক বছর গরু খামার করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে অনেকেই। বেকার যুবক ও দরিদ্ররা খামার করে একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অপরদিকে খামারের গোবর থেকে বায়োগ্যাস করে সংসারে জালানীর সাশ্রয় করছে। ফলে জেলার বিভিন্ন গ্রামে বেকার যুবকরা এ বছরও গরুমোটাতাজাকরনে নজর দিয়েছে। গরুর ভালো দাম পেলে আগামীতেও তারা গরুমোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে বলে অভিমত প্রকাশ করেন। গরু মোটাতাজা করণ প্রসঙ্গে জেলার পশু সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শাহিনুর আলম জানান, জেলার ১৩ উপজেলায় সর্বমোট ৬০ হাজার ৫২০টি গবাদি পশু ও ছাগল/ভেড়া হৃষ্টপুষ্টকারী খামারি/পালনকারী রয়েছে। এসব খামারে/পালনকারীদের নিকট আসন্ন কুরবানীর জন্য ১ লাখ ৯১ হাজার ২১৪টি কুরবানীযোগ্য পশুর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রস্তুতকৃত মোটাতাজা/হৃষ্টপুষ্ট গোবাদি পশুগুলো সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা। প্রতিটি খামারে নিরাপদ উপায়ে গবাদি পশু হৃষ্টপুষ্ট করার জন্য তদারকি করা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিকর ওষুধের ব্যবহার প্রতিরোধে পশু খাদ্য নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। খামারীরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে পশুকে পরিচর্যা ও পুষ্টিকর খামার খাওয়ায় না। ফলে আমাদের খামারীদের পশু সঠিকভাবে বেড়ে ওঠেনা। গ্রামাঞ্চলের অনেক খামারী গরু দ্রুত মোটা তাজা করার জন্য ভারতীয় নি¤œমানের ওষুধ খাওয়াচ্ছেন। এগুলো খাওয়ানো ঠিক না। এতে পশুর চামড়ার নিচে পানি জমে মোটা দেখালেও কার্যত মাংস বৃদ্ধি হয় না। এতে পশুর প্রচন্ড সমস্যা হয়। যে কোন মুহুর্তে ওইসব পশুর দুর্ঘটনা সম্ভাবনা থাকে। এসব এড়াতে দিনাজপুরের খামারীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও গণসচেতনতা সৃষ্টি করা হয় বলে জানালেন জেলার প্রাণী ও পশু সম্পদ কর্মকর্তা। কুরবানির পূর্ব মুহুর্তে পশুকে পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত খামারীরা। চোখে পড়ারমতো গরুগুলো জেলার মাংসের চাহিদাপূরণ করে বাইরে বিক্রির জন্য ঢাকাসহ বিভিন্ন হাটে নেয়া হবে। প্রতি বছর ভারত থেকে গরু আসায় দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় খামারীদের। ভারত থেকে গরু না আসলে এ অঞ্চলের গরুর দাম ভালো পাওয়ার আশা খামারীদের। গত বছর ভারতীয় গরু আমদানীর কারণে গরুর বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়ে। ফলে এ জেলার হাজার হাজার গরু ফেরত আসে। এ কারণে ভারতীয় গরু যাতে বাজার গুলোতে আসতে না পারে সে বিষয়ে সরকারের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেন গরু খামারী ও ব্যবসায়ীরা। ঈদের এখনো প্রায় ১০ দিন বাকি। দিনাজপুরে গৃহ পালিত, খামার লালিত চোখ জুড়ানো পশু জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রির জন্য কুরবানির পশু বাজারগুলোতে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সকলে। অনেক খামারীরা জেলার বাইরে ঢাকা, চিটাগাং গরু বিক্রি করবেন। এ পরিকল্পনা নিয়ে পরিবহন ঠিকও করে ফেলেছেন। ইতোমধ্যেই জেলার বিভিন্ন হাটগুলোও জমতে শুরু করেছে। অনেকেই গ্রামাঞ্চলের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে গরু দেখছেন। কিনছেন অনেকেই। তবে দাম বলছে কম।
ভালো দাম পাওয়ার আশা নিয়ে খামারীরা দেশের বিভিন্ন হাটে বিক্রির পরিকল্পনা করেছে। দেশীয় পশুর বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার ভারতীয় গরু আমদানী বন্ধ করবেন এ দাবি জেলার খামারীদের।