(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ৬৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তারা সবাই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস জানান, দিনাজপুরে শনিবার (২১ মার্চ) পর্যন্ত ৬৫ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এছাড়া সুস্থ হওয়ায় ২ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে অবমুক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় (২০ মার্চ শুক্রবার বিকেল ৫টা হতে ২১ মার্চ শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত) নতুন করে ১৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তির সংখ্যা দাড়িয়েছে ৬৫ জনে। এদের মধ্যে দিনাজপুর সদর উপজেলায় ৩ জন, বোচাগঞ্জে ৫ জন, কাহারোলে ৫ জন, বীরগঞ্জে ৪ জন, খানসামায় ৪ জন, চিরিরবন্দরে ২ জন, পার্বতীপুরে ১৫ জন, বিরামপুরে ১০ জন, নবাবগঞ্জে ২ জন, হাকিমপুরে ৫ জন ও ঘোড়াঘাট উপজেলায় ৪ জন। তবে তারা সবাই ভাল রয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস।
সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস নতুন একটি তথ্য সাংবাদিকদের জানিয়ে বলেন, প্রতি একশ’ বছর পর পৃথিবীতে একটা মহামারী বিশ^কে কাঁপিয়ে তুলে। ১৭২০ সালে প্লেগ, ১৮২০ সালে কলেরা, ১৯২০ সালে ফ্র্যান্স প্লো ও ২০২০ সালে করোনা ভাইরাস। বর্তমানে করোনা ভাইরাস গোটা পৃথিবীকে কাঁপিয়ে তুলেছে। বর্তমানে গোটা পৃথিবী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত।
তিনি বলেন, সবাইকে সঠিকভাবে কোয়ারেন্টাইন মানতে হবে। দিনে কয়েকবার ও বাইরে থেকে ঘরে ফেরার সাথে সাথে সাবান বা ডিটার্জেন্ট দিয়ে ভাল করে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। সচেতন থাকলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
সিভিল সার্জন বলেন, আমরা জনগণকে সম্পৃক্ত করে কোয়ারেন্টাইনের গুরুত্ব বুঝানোর চেষ্টা করছি। দিনাজপুরের সংবাদকর্মীরাও আমাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন। আমরা বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রাপ্ততথ্য প্রতিদিনই আপডেট করার চেষ্টা করছি। বিদেশ ফেরতদের করনীয় বিষয়ে সর্তক করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দিনাজপুরে আমরা অনেকটা ভাল অবস্থায় আছি। বিদেশ থেকে যারা এসেছেন, পুলিশের মাধ্যমে আমরা সে তথ্য পেয়েছি। সে তথ্যগুলো আমরা বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের কমিটির হাতে হস্তান্তর করেছি। সেই তথ্য অনযায়ী স্বাস্থ্য বিভাগের কমিটি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা সম্মিলিতভাবে তারা তথ্য নিয়ে কাজ করছেন।
সিভিল সার্জন বলেন, জেলা প্রশাসনের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি। যাতে আমরা দিনাজপুরকে করোনামুক্ত রাখতে পারবো। স্বাস্থ্য বিভাগের যারা আছেন তাদের প্রটেকশনের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তালিকা পেয়েছি। সেই তালিকা অনুযায়ী প্রটেকশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র, চেম্বার অব কমার্স ও চালকল মালিক গ্রæপ তারাও এগিয়ে এসেছেন। তারা কিছু মাস্ক ও হেল্থ স্যানিটাইজার দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করবেন বলে জানান সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুস।
এদিকে দিনাজপুরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সার্বক্ষনিক কন্ট্রোল চালু রয়েছে। দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলোতে আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে।