-সংগ্রহীত

এম.এ.সালাম / মো.নূর ইসলাম নয়ন (দিনাজপুর২৪.কম) আসন্ন ঈদুল আযাহাকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ মিলে ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৭৩টি কোরবানির পশু প্রস্তুত করেছেন খামারিরা। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত পশু দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। জেলায় চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৫৯ হাজার ২৫৩টি গবাদিপশু।
এবার দিনাজপুর জেলায় সাড়ে ৭০০ কোটি টাকার কেনা-বেচার জন্য গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহিনুর আলম।
এদিকে, কোরবানির ঈদে করোনা মহামারির কারণে গরু-ছাগল বিক্রি এবং ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা। যেহেতু করোনায় অনেক পেশার মানুষের আয়-রোজগার কমে গেছে। এরপরেও পশুর হাটগুলোতে কমই দেখা যায় স্বাস্থবিধি মেনে কেনাবেচা করা। তাই করোনা সংক্রমণের ভয়ে কেনা-বেচা কম হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জেলায় ‘অনলাইন পশুর হাট, দিনাজপুর’ নামে ফেইসবুক পেইজ খুলেছেন। এরপরেও বিভিন্ন উপজেলাতেও অনলাইনে কেনাবেচার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হাকিমপুরের ছাতনি গ্রামের খামারি সফিকুল ও ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন জানান, কোরবানির জন্য লাভের আশায় গরু-ছাগল প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অফিসের পরামর্শে প্রাকৃতিক উপায়ে খড়, কাঁচা ঘাস, খৈল, ভুষি, খুদের ভাত খাওয়ায়ে গরু-ছাগল মোটাতাজা করা হয়েছে। কেউবা উন্মুক্ত মাঠে চরিয়ে গরু ছাগল লালন পালন করছেন। কিন্তু করোনার কারণে গরু-ছাগল নিয়ে চিন্তিত। বাইরে থেকে ক্রেতা আসতে না পারা, পশুরহাটও জমছে না। যেসব বাইরের ব্যবসায়ী আসছেন, তারা দাম কম বলছেন। এসব কারণে গরু-ছাগল বিক্রি করতে পারছি না।
এদিকে, গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের গরু-ছাগল পালনে আগের চেয়ে খরচ বেশি হয়েছে। তাই কোরবানিকে ঘিরে ভারত থেকে কোনোভাবেই বৈধ বা অবৈধপথে দেশে গরু না আসতে পারে, এ ব্যাপারে সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

হাকিমপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, করোনাকালীন খামারিদের সবচেয়ে বেশি সমস্যা মার্কেটিং বা বিপণনে। এ জন্য আমাদের দফতর থেকে একটি গ্রুপ পেজ খুলেছি। এতে খামারিদের বিক্রয়যোগ্য পশুর ছবি, ওজন অনুযায়ী মূল্য ও খামারিদের মোবাইল নম্বর আপলোড করা হচ্ছে। ক্রেতারা সংশ্লিষ্ট খামারিদের সঙ্গে কথা বলে বাড়িতে বসেই পশু ক্রয় করতে পারবেন। এতে করে খামারি ও ক্রেতারা উভয়েই লাভবান হবেন বলে আমরা মনে করি।

দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহিনুর আলম জানান, গরু ও মহিষসহ ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৭৩টি এবং ছাগল-ভেড়া রয়েছে ৭২ হাজার ৪০৯টি। দিনাজপুরে আসন্ন কোরবানির ঈদে প্রয়োজন গরু-মহিষ প্রায় ৮৫ হাজার ৩৬৮টি এবং ছাগল-ভেড়া ৪৯ হাজার ৬৫২টি। শুধু কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ছোট-বড় খামার ও বাড়িতে গরু মোটাতাজাকরণ করেছে ৬০ হাজারের অধিক পশু।

তিনি আরও জানান, করোনায় গরুর সব হাটেই নজর রাখা হচ্ছে যাতে রোগাক্রান্ত কোনো গবাদিপশু বিক্রি না হয়। এজন্য জেলায় ২৩টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে এবং কাজ শুরু করেছে। ক্রেতা বিক্রেতাদের সচেতনতার জন্য ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া ও মনিটরিং করা হচ্ছে।