(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের কথিত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরী এবং তার পালিত কন্যা ও মুরিদ রূপালী বেগম হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।  সোমবার ভোরে কুড়িগ্রামে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা জয়মনিরহাট বাজার এলাকা থেকে পীর ফরহাদের মুরিদ শফিকুল ইসলাম বাবুকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়। শফিকুল দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার দৌলা শাহপাড়া গ্রামের আজিমুদ্দিনের ছেলে।  সকালে র‌্যাব-১৩ রংপুরের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে শফিকুলকে হাজির করা হয়। র‌্যাব-১৩ রংপুরের অধিনায়ক কমাণ্ডার এটিএম আতিকুল্যাহ বলেন, শফিকুলের নেতৃত্বে ছয়জন গুলি করে হত্যা করে পীর ফরহাদ ও মুরিদ রূপালী বেগমকে। হত্যাকাণ্ডের পর শফিকুল ভূরুঙ্গামারী উপজেলার জয়মনিরহাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল।  শফিকুলের জবানবন্দির উদ্ধৃতি দিয়ে র‌্যাব অধিনায়ক আরও জানান, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর কথিত পীর ইসাহাক আলীর সঙ্গে বোচাগঞ্জের কথিত পীর ফরহাদের মতাদর্শ ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ ছিল। ইসাহাক বোচাগঞ্জে গেলে শফিকুলের বাড়িতে থাকতেন। পীর ফরহাদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ইসাহাক আলী। ফরহাদকে হত্যা করতে পারলে শফিকুলকে খেলাফতের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলে ইসাহাক আলী।

শফিকুলের বাড়িতে বসেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সে অনুযায়ী শফিকুলের নেতৃত্বে ছয়জন কিলিং মিশনে অংশ নেয়। হত্যাকাণ্ডের পর পীর ইসাহাক তার বাড়ি কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথরডুবি গ্রামে চলে আসেন। একদিন পর শফিকুলও ইসাহাকের বাড়িতে চলে আসেন। গত ১৫ মার্চ ইসাহাককে গ্রেফতারের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন শফিকুল।

কে গুলি করেছে, আগ্নেয়াস্ত্র কোথায় আছে তা জানতে শফিকুলকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান র‌্যাব অধিনায়ক।

এদিকে, শফিকুলসহ এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে বোচাগঞ্জের দৌলা এলাকায় কথিত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরী এবং তার মুরিদ ও পালিত মেয়ে রূপালী বেগমকে গুলি ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।