(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার পার্বতীপুর রেলস্টেশনে অবস্থিত মনিরিয়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ও সভাপতির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, মনিরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়টি মামা-ভাগনার যোগ-সাজসে নানা অনিয়ম অপকর্মে স্কুলটি দূর্নীতির কারণে পড়ালেখা ব্যহত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ সভাপতি জয়নাল আবেদীনের ভাগনা হওয়ায় কাউকে কোন তোয়াক্কা না করে নিজ খেয়াল খুশীতে অনিয়মের জাল বুনছেন। করছেন শিক্ষক ও কর্মচারিদের অবহেলা।
সূত্রটি জানায়, স্কুলটি ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও অদ্যবদি নির্বাচিত কোন কমিটি নেই। প্রধান শিক্ষক একাধিক বার পরিবর্তন হলেও সভাপতির কৌশলে ফিরে আসে প্রধান শিক্ষক ভাগনে আব্দুর রউফ। শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগের নামে মামা ভাগনে হাতিয়ে লাখ লাখ টাকাও তিনিরা হজম করেছেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে চান্দোয়াপাড়ার কানিজ আয়শা ওরফে ফেন্সির কাছ থেকে নেয়া হয় টাকা, অপরদিকে জাহানাবাদের শওকত হোসেন, নারায়ণপুরের গোপাল চন্দ্র এবং আব্দুর রহিম শিক্ষকের বিল করার নামে মোটা অঙ্কের টাকা নেন ঐ প্রধান শিক্ষক।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, মিনিস্টারি অডিটের নামে প্রত্যেকটা শিক্ষক কর্মচারি কাছ থেকে একমাসের বেতন (এমপিওসিট মোতাবেক) হাতিয়ে নিয়েছে সভাপতি মো: জয়নাল আবেদীন। সরকারী অনুদান, ছাত্র/ছাত্রী সেশন ফি, ভর্তি ফি, মাসিক বেতন, উন্নয়ন ফি, স্কাউট ফি, খেলাধুলা ফি, উপবৃত্তির টিউশন ফি এ খাতগুলির কোন আয়-ব্যয় হিসাব নেই এবং সার্টিফিকেট, প্রসংশাপত্র, প্রবেশপত্র বাবদ ৩শ টাকা করে প্রত্যেক ছাত্র/ছাত্রীর কাছ থেকে নেয়ার অভিযোগ করেন অভিভাবকবৃন্দ। এ বিষয়ে কোন শিক্ষক কথা বললে অকারণে সেই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত ও চাকুরীচ্যুত ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমন ঘটনায় মাওলানা ইউনুস আলীকে ফাঁকা ১৫০ টাকা স্টাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে জিম্মি করে দীর্ঘ দিন সাময়িক বরখাস্ত করে রাখেন মামা-ভাগনে। সূত্রটি জানায়, দুর্নীতি ও অনিয়মের টাকা দিয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ বর্তমানে পার্বতীপুর শহরে গুলশান নগরে ২টি, নতুন বাজারে ১টি, গ্রামে ১টি বাড়ী এবং নামে বেনামে অনেক টাকার মালিক হয়েছেন। প্রধান শিক্ষক সরকারী ল্যাপটপ স্কুলে না রেখে নিজ বাসায় ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্কুলের কাজ প্রজেক্ট কমিটির মাধ্যমে করার বিধান থাকলেও প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি সে কোন নিয়ম মানেন না। পুকুর ভরাটের বরাদ্দ দিলেও সে পুকুর আজও ভরাট হয়নি বলে জানা গেছে। জেলা পরিষদ থেকে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা তা স্কুলে চোখে দেখা যায় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক জানান, স্কুলের নামে এফডিআর ফান্ডে টাকা জমা রাখার বিধান থাকলেও ঐ টাকা তুলে ব্যক্তিগত কাজে লাগানো হয়, যখন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ থেকে কোন কাগজ পত্র চাওয়া হয়তখন তড়িঘটি করে ব্যাংকের সাথে যোগসাজসে টাকা জমা করে এবং আবার সমুদয়র টাকা তুলে নেয়। শিক্ষক শিক্ষিকাদের টাইম স্কেল/উচ্চতার স্কেল, বিএড স্কেল পাওয়ার সময় হলে যথাসময়ে কাগজপত্র প্রদান করা হয় না। ৪-৫ বছর পর কারো কারো ক্ষেত্রে ৮-১০ বছর পর পর অনেক অর্থ বা জিনিস পত্রের বিনিময়ে কাগজ পত্রাদি দেওয়া হয়। সভাপতি প্রধান শিক্ষকের যোগসাজসে নিজ মেয়ের টাইমস্কেলের সময় পূর্ন না হয়েও রেজুলেশন করে বিল পাঠায়। সভাপতির জামাইকে ভুয়া সর্টিফিকেটে সহকারী গ্রন্থাগারীক হিসাবে নিয়োগ প্রদান করার অভিযোগ উঠেছে। বিল না হওয়ায় পরে বগুড়া থেকে পাশ করায়ে সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে নতুন ভাবে নিয়োগ দেয়া হয়।
আরও উল্লেখ যে কম্পিউটার শিক্ষক সাগর কুমার রায় ও সহকারী শিক্ষিকা সেবিনা ইয়াসমিন টাইম স্কেলের সময় হলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকা সত্বেও চার বছর যাবৎ তাদের কোন কাগজ পত্র দেওয়া হয়নি। অফিস সহকারীর সহযোগিতায় প্রতি বছর জেএসসি ও এসএসসি ফরম পূরণের টাকা বিনা রশিদে নেওয়া হয়। জেএসসি ফরম পূরনে ৪০০-৫০০ টাকা এবং এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে বিনা রশিদে নেওয়া হয়, রশিদ চাইতে গেলে বলে লাগবে না, এ নিয়ে আমরা অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন। প্রতি বছর ছাত্র প্রতি উন্নয়ন ফি নেওয়া হয় ৩০০ টাকা। তাছাড়া প্রধান শিক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে ৪/৫ জন ছাত্র/ছাত্রীর কোন না কোন তথ্য ভুলভাবে বোর্ডে পাঠায় এবং পরে তা সংশোধনের জন্য ছাত্র ছাত্রীদের বোর্ডে যাওয়ার নাম করে ১০০০-২০০০ টাকা আদায় করেন। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ রুহুল কুদ্দুস এর উপস্থিতিতে একটি রেজুলেশন করা হয়েছিল যে, মোঃ জয়নাল আবেদীন ৫ লক্ষ টাকা ডেমারিজ স্বরুপ স্কুলের ফান্ডে জমা করার জন্য বলা হলেও তার খবর কেউ জানে না। কোনও টার্মে বিধিমতো কমিটি গঠন করা হয় না। স্কুলের ফান্ডে নির্ধারিত অর্থ দান করে দাতা সদস্য হওয়ার বিধান থাকলেও প্রধান শিক্ষক সে বিধান না মেনে পরিচালনা কমিটির প্রতি টার্মে টাকা না নিয়ে দাতা সদস্য হিসাবে তার মামীকে (সভাপতির স্ত্রীকে) অর্ন্তভূক্ত করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে শিক্ষকদের মতামত উপেক্ষা করে অতিগোপনে নিকটতম, কাছের শিক্ষককে প্রতিনিধি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করেন। অ্যাডহক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও যাদের দ্বারা দুর্নীতি করা সহজ হয় তাদেরকে কমিটিতে অন্তুর্ভুক্ত করে কমিটি অনুমোদন করে। এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দিনাজপুর দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও দিনাজপুর জেলা শিক্ষা অফিস সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মিরাজুল ইসলাম দিনাজপুর২৪.কমকে জানান, দিনাজপুর জেলা শিক্ষা অফিসার আমাকে বিষয়টি তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে দুই এক দিনের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে। প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ দিনাজপুর২৪.কমকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করা হয়েছে আদৌ সত্য নয় কে জড়িত এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন স্কুলের অর্থ আত্মসাতের প্রশ্ন উঠে না। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন-আমি ১৩ মাস ধরে সভাপতি নেই। কমিটি অনুমোদনের জন্য জেলা শিক্ষা অফিসে আবেদন করেছিলাম। জেলা শিক্ষা অফিস কমিটি অনুমোদন দেয়নি। তবে স্কুলের অর্থ আত্মসাৎসহ যে সব বিষয়ে আমাকে জড়িয়ে অভিযোগ করা হয়েছে এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।