স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরে জেলায় আসন্ন কুরবানির ঈদ উপলক্ষে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৪০টি গবাদি পশু ও ছাগল/ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গবাদি পশু ১ লাখ ১৬ হাজার ৬২৮টি ও ছাগল/ভেড়া ৭২ হাজার ২১২টি। গবাদি পশুর মধ্যে ৮৬ হাজার ৪১৬টি ষাড়, ১২ হাজার ৮৮টি বলদ, ১৮ হাজার ১২৪টি গাভী ও মহিষ রয়েছে ২৭টি। অপরদিকে ৭২ হাজার ২১২টি ছাগল/ভেড়ার মধ্যে ৬৯ হাজার ৩৫৩টি ছাগল ও ভেড়া ২ হাজার ৮৫৯টি।
দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহিনুর আলম জানান, জেলার ১৩ উপজেলায় সর্বমোট ৬০ হাজার ৪৩০ জন গবাদি পশু ও ছাগল/ভেড়া হৃষ্টপুষ্টকারী বা খামারি রয়েছেন। এ সব খামারে আসন্ন কুরবানীর জন্য ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৪০টি কুরবানীযোগ্য পশুর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৬ হাজার ৪১৬টি ষাড়, ১২ হাজার ৮৮টি বলদ, ১৮ হাজার ১২৪টি গাভী, ২৭টি মহিষ, ৬৯ হাজার ৩৫৩টি ছাগল ও ভেড়া রয়েছে ২ হাজার ৮৫৯টি।
তিনি জানান, প্রস্তুতকৃত (মোটাতাজা/হৃষ্টপুষ্ট) গবাদি পশুগুলো সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা। প্রতিটি খামারে নিরাপদ উপায়ে গবাদি পশু হৃষ্টপুষ্ট করার জন্য তদারকি করা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিকর ওষুধের ব্যবহার প্রতিরোধে পশু খাদ্য নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহিনুর আলম জানান, ওষুধের অপব্যবহার, রাসায়নিক খাদ্য বর্জনের জন্য সবসময়ই খামারিদের পরামর্শ দিয়ে আসছেন তারা। রোগাক্রান্ত পশু কিংবা কুরবানির অনুপযোগী গবাদি পশু ক্রয়-বিক্রয় না করার পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি ওষুধের দোকানগুলো যাতে নকল বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করতে না পারে সে দিকেও নজর রাখছেন তারা।
ডা. শাহিনুর আলম আরো জানান, আসন্ন ঈদে জেলার ১৩ উপজেলায় প্রতিটি পশুর হাটে একটি করে ভেটেরিনারী মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, খামারি ও হাট কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন পরামর্শ দিবেন। এতে নেতৃত্ব দিবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। এছাড়া নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই এবং জবাই পরবর্তী বর্জ্য অপসারণে সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
দিনাজপুর সদর উপজেলার পুলহাট এলাকার খামারী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তাঁর খামারে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিভিন্ন জাতের ২০টি গরু দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এবার ভারতের গরু ছাড়াই আমাদের দেশীয় গরু দিয়ে কুরবানির হাট-বাজারগুলো ভরে যাবে। তবে ঈদের সময় ভারতীয় গরু যাতে বাংলাদেশে না আসে সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খেয়াল রাখার অনুরোধ জানান।
বিরল উপজেলার বুনিয়াদপুর গ্রামের গরু ব্যবসায়ী মো. আবুল কাসেম বলেন, গত বছর যে হারে গরু বিক্রি হয়েছে তার চেয়ে এবার বেশী পশু বেচাকেনা হবে। এতে খামারি ও ব্যবসায়ী উভয়ই লাভের মুখ দেখবেন।
উল্লেখ্য, দিনাজপুর জেলায় আসন্ন কুবানি ঈদে ৮৫ হাজার ১৬৫ গবাদি পশু চাহিদার বিপরিতে উৎপাদন করা হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬২৮টি গবাদি পশু। যার মধ্যে ৩৪ হাজার ৪৬৩টি গবাদি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। অপরদিকে ৩৫ হাজার ৩৫টি ছাগল/ভেড়ার চাহিদার বিপরিতে উৎপাদন করা হয়েছে ৭২ হাজার ২১২টি। যার মধ্যে ৪৬ হাজার ১৭৭টি ছাগল/ভেড়া উদ্বৃত্ত থাকবে।