(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলার উদ্দেশ্য এখনো অজানা। তিন দিন পেরিয়ে গেলেও রহস্যভেদ করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চুরির উদ্দেশ্যে ঢুকে হামলা হয়েছে- এমন তথ্য মানতে নারাজ বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিএএসএ)। সংগঠনের নেতারা মনে করেন, ইউএনওকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। আবার চুরির উদ্দেশ্যে ঢুকলে বাসা থেকে কিছু খোয়া না যাওয়ার বিষয়টি রহস্যের সৃষ্টি করেছে। এমনকি ইউএনওর মোবাইল ফোনটিও খোয়া যায়নি। এসব নানা প্রশ্নের উত্তর না পাওয়ায় চ্যালেঞ্জর মুখে পড়েছে গ্রেপ্তার আসাদের ‘চুরির উদ্দেশ্যে’ হামলার বক্তব্য।

বুধবার রাতের ওই হামলার পর শুক্রবার আসাদুল হক নামের স্থানীয় এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, চুরির উদ্দেশ্যে ইউএনওর বাসায় ঢুকেছিল আসাদ। অন্যদিকে একই দিন সন্দেহভাজন হিসেবে আটকের পর সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয় ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমকে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্রিফিং করে র‌্যাব জানায়, জাহাঙ্গীর আলমসহ আটক অন্য তিনজনের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আটক, দল থেকে বহিষ্কার এবং ছেড়ে দেওয়া নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। মামলাটির তদন্তভার থানা পুলিশের কাছ থেকে দিনাজপুর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়েছে।

বিএএসএর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাব ১৩-এর অধিনায়ক রেজা আহমেদ ফেরদৌস দিনাজপুর২৪.কমকে বলেন, আমরাও কিন্তু চুরির কথা বলিনি। এটা আসাদুল হকের দেওয়া বক্তব্য। আমি আগেই বলেছি, এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বিশদ অনুসন্ধান প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার আসাদের প্রাথমিক স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওই ঘটনায় চারজনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়েছে র‌্যাব। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অন্যজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

দুই আসামি ৭ দিনের রিমান্ডে

হামলার ঘটনায় মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি নবিরুল ইসলাম ও সান্টু কুমার দাসের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল শনিবার তাদের দিনাজপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিশির কুমার বসু শুনানি শেষে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা দিনাজপুর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ইমাম জাফর জানান, গ্রেপ্তার ৩ আসামির মধ্যে আসাদুল হক গুরুতর অসুস্থ থাকায় তাকে র‌্যাব হেফাজতে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। সুস্থ হলে আদালতের মাধ্যমে তাকেও হেফাজতে চাওয়া হবে।

গত বুধবার মধ্যরাতে বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে বাসায় ঢুকে ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বাসায় থাকা ইউএনওর বাবা শেখ ওমর আলী এগিয়ে এলে তাকেও সন্ত্রাসীরা আঘাত করে। গুরুতর আহত ওয়াহিদা খানম রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করেন ইউএনওর ভাই। এর পর গত শুক্রবার দিনভর অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করে র‌্যাব-পুলিশ। পরে ঘটনায় সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমসহ তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। -ডেস্ক