dinajpur-paddy-market-photo-02(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরে গত ক‘বছর থেকে আমন আবাদ করে লোকসান গুনলেও এবার বাম্পার ফলনের পাশাপাশি ধানের ভালো দাম পাওয়ায় দিনাজপুরের কৃষকরা খুশি।
কৃষকরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে আমন ও বোরো ধান আবাদ করে ন্যায্যমুল্য পায়নি তারা। ধান কাটার ভরা মৌসুমে সঠিক দাম না থাকলেও জরুরী প্রয়োজন মেটাতে বাধ্য হয়েই তাদের ধান বিক্রি করতে হয়। আর এ ধান চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগী ও মিল মালিকদের কাছে। মধ্যস্বত্ব ভোগী ও মিল মালিকদের হাতে ধান চলে যাওয়ার পর বাজারে বৃদ্ধি পায় ধানের দাম। এতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কৃষকের ফলানো ধানের লাভ ভোগ করে মধ্যস্বত্বভোগী ও মিল মালিকরা। বেশ ক’বছর ধরেই এই পরিস্থিতি বিরাজ করায় ধান চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে ধানের জেলা দিনাজপুরের কৃষকরা। কিন্তু চলতি আমন মৌসুমে শুরু থেকেই বাজারে আমন ধানের দাম বেশ ভালো।
বুধবার দিনাজপুরের সদর উপজেলার গোপালগঞ্জ ধানের হাটে গিয়ে গিয়ে দেখা যায়, ৭৫ কেজি ওজনের মোটা গুটি স্বর্ণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১৪৫০ টাকা থেকে ১৫’শ টাকা দরে, চিনিগুড়া ২৭৫০টাকা, কাটারী ২৭৫০টাকা, সম্পা কাটারী ১৭৫০ থেকে ১৮’শ টাকা এবং বিনা-৭ ধান বিক্রি হচ্ছে ১৬’শ টাকা বস্তা (৭৫ কেজি) দরে।
অন্যান্য বারের তুলনায় এবার ধানের ফলনও হয়েছে ভালো। কৃষকরা জানান, অনুকুল আবহাওয়া আর সার-কীটনাশকসহ ধান আবাদের অন্যান্য উপকরনের সরবরাহ ঠিকমত পাওয়ায় এবার তারা আমনের ভালো ফলন পেয়েছে। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে ধানের এই ভালো দাম পেয়ে খুশী দিনাজপুর জেলার কৃষকরা।
বিরল উপজেলার হাসিলা গ্রামের কৃষক সোহরাব হোসেন জানান, তিনি প্রতি বিঘা (৫০ শতাংশ) জমিতে গুটি স্বর্ণ ধান আবাদ করে ফলন পেয়েছেন ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। আর এক বিঘা জমিতে ফলন পেয়েছেন ১৭ বস্তা ধান। উৎপাদন খবচ বাদ দিয়ে গুটি স্বর্ণ ধান আবাদ করে উৎপাদন খবচ বাদ দিয়ে তার লাভ হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার টাকা। একই কথা জানালেন ওই গ্রামের ধানচাষী আব্দুল জব্বার, আবুল কালামসহ অন্যান্য কৃষকরা।
দিনাজপুর সদর উপজেলার নশিপুর গ্রামের বাবুল হোসেন জানান, এবার তার বিঘাপ্রতি কাঠারী ধানের ফলন হয়েছে ৯ থেকে ১০ বস্তা। বর্তমান বাজার অনুযায়ী প্রতি বিঘা জমির ধান বিক্রি করে তিনি পাবেন প্রায় ২৭ হাজার টাকা। কিন্তু এই ধান উৎপাদন করতে গিয়ে তার খরচ হয়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। এভাবে দাম পেলে ধান আবাদ করে লাভবান হতে পারবেন বলে জানান তিনি।
বীরগঞ্জ উপজেলার কৃষক আব্দুল লতিফ জানালেন, গত কয়েক বছর ধরে ধানের দাম না পাওয়ায় ধান আবাদে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছিলো তারা। কৃষি কাজ ছাড়া উপায় নেই ভেবে লোকসান গোনার পরও বাধ্য হয়ে ধান আবাদ করতে হচ্ছিল। পাশাপাশি অন্যান্য ফসল আবাদ করার চিন্তা করছিলো তারা। কিন্তু এবার যে ধানের মুল্য তারা পেয়েছে, এটা অব্যাহত থাকলে তারা বরাবরের মতো ধানই আবাদ করবেন।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক গোলাম মোস্তাফা জানান, দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় এবার ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৭ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়। কিন্তু এই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে মোট ধান আবাদ করা হয় ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে। তিনি জানান, অনুকুল আবহাওয়া, সরকারী সঠিক তদারকি এবং কৃষকদের সঠিক পরিচর্যায় এবার আমনের ভালো ফলন হয়েছে। এতে জেলায় এবার ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬৪৭ মেট্রিক টনেরও বেশী ধান উৎপাদন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।