আল আমিন জামিনুর, (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরে আনন্দ মেলার নামে চলছে কান্নার মেলা ! দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ ও কাহারোল উপজেলার মাঝামাঝি বটতলী নামক স্থানের দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে  প্রায় ৭ দিন আগে শুরু হয়েছে আনন্দ মেলা। উক্ত আনন্দ মেলায় হাউজি, র‌্যাফেল ড্র, ডাব্বু, স্যুটিং, কাঁটা সহ বিভিন্ন ধরনের  লাখ লাখ টাকার জুয়া চলছে। মেলা সন্ধ্যার পর শুরু হয়ে শেষ হয় সকাল পর্যন্ত। মেলায় সার্কাস নাম দিয়ে এখানে চলছে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক, অসামাজিক নগ্ন নৃত্যের আসর। উক্ত মেলায় উঠতি বয়সের যুবকরা সারারাত জেগে পড়ালেখা বাদ দিয়ে এসব নগ্ন নৃত্য দেখছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার নেশায় আসক্ত হচ্ছে ও বিভিন্ন ধরনের নেশা সামগ্রী মেলায় ও তার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে। এ দিকে মেলায় আসা বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বিশেষ করে জুয়ার আসরে লাখ লাখ টাকা জুয়া খেলে সর্বশান্ত হয়ে বাড়ি ফিরছে। বর্তমানে আম লিচুর ব্যবসা চলছে। ব্যবসায়ীদের হাতে প্রচুর পরিমান টাকা রয়েছে। এসব ব্যবসায়ীরা সন্ধ্যার পরেই মোটরসাইকেল, বাস, মাইক্রো, ট্রাক, ভ্যান, ভটভটি, নসিমন, অটোবাইক সহ বিভিন্ন যানবাহনে ব্যবসায়ী সহ সাধারন মানুষ আনন্দ মেলায় যাচ্ছেন।  উক্ত মেলায়  কেউ জুয়া খেলায় লাখ লাখ টাকা দিয়ে সর্বশান্ত হয়ে ফিরছেন। আর কেউ জুয়া খেলায় হেরে গিয়ে কান্নায় কাতরাচ্ছেন। যুব সমাজ জুয়া, নগ্ন নৃত্য, নেশার টাকা যোগাড় করতে বাড়ীর ধান, চাল, মুরগি, বাইসাইকেল, ডিম, গবাদি পশু সহ বিক্রি করে মেলায় যাচ্ছে ও মেলায় জুয়া, নগ্ন নৃত্য, নেশা সামগ্রী সেবন করে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা বিনষ্ট করছে। এতে করে পরিবারের অভিভাবকগণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। উক্ত আনন্দ মেলা এভাবে চলতে থাকলে মানুষ স্বাভাবিক থেকে অস্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহল ধারনা করছেন। যদিও মেলাটি আনন্দ মেলা কিন্তু মেলাটির ছদ্ম নাম অনেকেই দিয়েছেন কান্নার মেলা। উক্ত মেলা পরিচালিত হলেও মেলাটি অতিসত্তর সামাজিক নৈতিকতা রক্ষার লক্ষ্যে বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।