(দিনাজপুর২৪.কম) গত ১০ সেপ্টম্বর সোমবার দিনাজপুর কালিতলা প্রেস ক্লাবে ১ নং চেহেলগাজী ইউনিয়নের কর্ণাই মৌজায় আদিবাসী নাগরিকদের মালিকানা কৃষিজমি জবর-দখল প্রতিহতকরণে দিনাজপুর জেলার ৪টি সংগঠন আদিবাসী ফোরাম, বাংলাদেশ মাইনোরিটি ওয়াচ দিনাজপুর চ্যাপ্টার, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন দিনাজপুর জেলা শাখা ও কৃষাণী সভা একত্রিত হয়ে অবহেলিত এবং নির্যাতন, নিপীরিত আদিবাসী মালিকপক্ষ ও আদিবাসী গোষ্ঠীদেরকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। সংবাদ সম্মেলনে আদিবাসী গোষ্ঠীর দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি স্বপন এক্কা বলেন ১নং চেহেলগাজী ইউনিয়নের কর্ণাই মৌজায় ২৪২৪ নং দাগের ৪৯৪ ও ৪৯৫ খতিয়ানের প্রকৃত মালিক হচ্ছে ঝুকু সাঁওতাল এবং বড়কা মাঝি। কিন্তু কতিপয় স্বার্থলোভী ভূমিদস্যু আদিবাসী গোষ্ঠীর মধ্যে একজনকে ঝুকু সাঁওতালের কন্যা বড়ফুল মুরর্মু বানিয়ে জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং প্রকৃত জমির মালিকদেরকে জমিতে প্রবেশে বাঁধার সৃষ্টি করছে। তিনি এও বলেন যে ৪৯৩ নং খতিয়ানের মালিক বড়কা মাঝি মারা গেলে তার দুই কন্যা মঙ্গলী মুরমু ও মুখি মুরমু ওয়ারীশ থাকেন। মঙ্গলী মুরমু মারা গেলে তার একমাত্র কন্যা শান্তি বেসরা ওয়ারীশ থাকেন। এবং মুখি মুরমু মারা গেলে তার দুই পুত্র জিতেন হাসদা ও গোপিন হাসদা ওয়ারীশ থাকেন। গোপিন হাসদা মারা গেলে তার দুই পুত্র নয়ন হাসদা ও কাজল হাসদা ওয়ারীশ থাকেন। অপর দিকে ৪৯৫ নং খতিয়ানের মালিক ঝুকু সাঁওতাল মারা গেলে তার একমাত্র কন্যা মঙ্গরী হাসদার সাথে জেঠা মুরমুর বিয়ে হয় এবং তাদের দুই সন্তান জহন মুরমু ও শিমন মুরমু তফশীল জমির মালিক হোন। শিমন মুরমু মারা গেলে তার একমাত্র পুত্র মজেস মুরমু বর্তমান রয়েছে। কিন্তু সদর উপজেলাধীন ১ নং চেহেলগাজী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জ্ঞাতসারে জনৈক আদিবাসী নাগরিক বড়ফুল মুরমু, পিতা- বুধরাই মুরমু, মাতা-সুমি মুরমু, স্বামী-বাবুরাম, সাং-গড়নুরপুর, থানা-কাহারোল, জেলা-দিনাজপুরকে এস.এ রেকর্ডীয় মালিক ঝুঁকু সাঁওতালের মিথ্যা কন্যা হিসেবে দেখিয়ে একটি ওয়ারীশন সনদ প্রদান করলে উক্ত বড়ফুল মুরমু ৪৯৫ নং এস.এ খতিয়ানের জমি জবর-দখল করার জন্য কর্ণাই এলাকার কতিপয় ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে অত্র এলাকায় মারামারি ও শান্তি বিনষ্ট করছে বলে অভিযোগ করেন। মূলত জালিয়াত চক্রের নুহু গংরা বড়ফুল মুরমুকে দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহার করে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাই এদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রকৃত জমির মালিককে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। উক্ত সময়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্বরুপ কুমার বকশ্ (বাচ্চু), প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি তারক চন্দ্র রায়, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য স্বপন ভুঁইয়া, কৃষাণী সভার দিনাজপুর জেলা শাখার সভানেত্রী ছাবিয়া খাতুনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেত্রীবৃন্দ।