প্রশান্ত কুমার জুন / এম. আহসান কবির (দিনাজপুর২৪.কম) সারাদেশে যখন আইনশৃংখলা বিষয়ে মানবাধিকার কর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন। জনগণের নিরাপত্তা, যানমাল রক্ষা সহ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। সেখানে দিনাজপুরে তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। দিনাজপুরে আইনশৃংখলার ব্যাপক উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। এদিকে রংপুর বিভাগে এবারো শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার নির্বাচিত হয়েছেন দিনাজপুর পুলিশ সুপার রুহুল আমিন এবং কোতয়ালি অফিসার ইনচার্জ মো. খালেকুজ্জামান পিপিএম। তাদের নেতৃত্ত্বে পাকড়াও হয়েছেন এবং জেল হাজতে রয়েছেন সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা। এমন সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন দিনাজপুর পুলিশ সুপার ও কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. খালেকুজ্জামান পিপিএম।

অপরদিকে দিনাজপুর সদর সহ ১৩ থানার অফিসার ইনচার্জদের সঠিক দায়িত্ব পালন করায় কমেছে মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ীর সংথ্যা। কমেছে বিভিন্ন অপরাধ চিত্র। বর্তমানে পুলিশের এ ভূমিকা নিয়ে সন্তষ্ট সচেতন মহল এবং দিনাজপুরবাসী।

দিনাজপুর পুলিশ সদস্যদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় আইন শৃংখলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। কারণ হিসেবে জানা যায়, দিনাজপুরে পুলিশ সুপার হিসেবে মো: রুহুল আমিন তার কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকে তার অধিনস্থ ১৩ থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জদের নিয়ে আইন শৃংখলা উন্নতির বিষয়ে নিয়মিত বৈঠক ও মত বিনিময় করে থাকেন। তার মূল লক্ষ্য দিনাজপুর জেলায় অপরাধ প্রবনতা যেন না থাকে। দিনাজপুর সদর, বিরল, বোচাগঞ্জ, কাহারোল, খানসামা, চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ি, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট থানা নিয়ে দিনাজপুর জেলা। এই ১৩টি  থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ পুসার রুহুল আমিন সরেজমিনে সার্বক্ষনিক তদারকি করে থাকেন। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ, রাহাজানি, খুন, চাঁদাবাজি, পকেটমারি, অজ্ঞান পাটি, হরতাল, মিছিল, মিটিং, মানববন্ধন, অর্নশন, ধর্মঘট, সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গন, টেন্ডার বাজি, কালোবাজারি চক্র, মোটর  সাইকেল চক্র, নেশাদ্রব্য, অবৈধ অস্ত্র, রাজনীতিবিদ, জে,এম,বি, জালনোট চক্র, চোরাকার, কালোবাজার ব্যবসা, পর্নোগ্রাফী, মোবাইল ফোনে হুমকী সহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ প্রবণতার সাথে যেসব ব্যক্তি অতো প্রতোভাবে জড়িত থেকে সমাজ তথা দেশের ক্ষতি করে আসছিল এসব ব্যক্তিদের সনাক্ত করে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা কার্যকরী ভূমিকা দ্রুততার সাথে পালন করছে।

উল্লেখ্য সূত্র জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে পড়ে থাকা ক্রাইম ফাইল গুলো নিয়ে রংপুর বিভাগীয় ডি,আই,জি ও আই,জি’র নির্দেশে সেই ক্রাইম ফাইল বা নথিগুলো তদারকি করে দিনাজপুর পুলিশ সুুপার মো: রুহুল আমিন তিনি তার আমলে নিয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ ১৩ থানার অফিসার ইনচার্জদের সেই পুরোনো ফাইল গুলো তদারকি করার নির্দেশ দেন। ফলে বর্তমান পুলিশ সুপার তার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দলমত নির্বিশেষে সকল প্রকার অপরাধমূলক কার্যক্রমের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছেন। এ ব্যাপারে দিনাজপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এ,কে,এম, খালেকুজ্জামান এই প্রতিনিধিকে জানান, অপরাধী যে কেউ হলে, কেউকেই ছাড় দেয়া হবে না। কারণ, অপরাধ যে, করে আর অপরাধ যে সহ্য করে তারা “উভয়েই অপরাধী”। এ কারণে শুধু নয়, পুলিশ বাহিনীর লক্ষ ও উদ্দ্যেশ্য জনগনের জানমালের নিরাপত্তা সহ প্রতিটি সেবামূলক কাজে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের অগ্রণী ভূমীকা পালন করে থাকে বর্তমানে। যাতে মানুষ পুলিশের মাধ্যমে উপকৃত হয়। পুলিশ যেন মানুষের সেবক ও বন্ধু হতে পারে, সেই লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের কাজ করা। যাই হোক, দিনাজপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এ,কে,এম খালেকুজ্জামান আরো বলেন, মানুষের নিরাপত্তা দেওয়াই হলো পুলিশ বাহিনীর কাজ। এজন্য আমরা সমাজ থেকে সকল প্রকার নেশা দ্রব্য বিক্রি ও বন্ধ করতে পেরেছি। যারা হরতাল অবরোধে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষকে হত্যা করেছে, যানবাহন পুড়ে ফেলেছে তাদের কে চিহ্নিত করে গ্রেফতার  করছি, যারা পলাতক রয়েছে তাদের কে গ্রেফতার করার জন্য অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়ে  অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনের মাধ্যমে গ্রেফতার করছি। ফলে দিনাজপুরে বর্তমানে অপরাধ প্রবণতা একেবারে নেই বললেই চলে। ইতিপূর্বে যেসমস্ত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর দিকে দৃষ্টি দিয়েছি আমরা। বর্তমানে দিনাজপুর জেলায় অপরাধ প্রবণতা নেই আর মানুষ শান্তি ও নিরাপদে রয়েছে। সুন্দরভাবে ঘুমাতে পারছে। ব্যবসা- বাণিজ্য করছে। দিনাজপুরে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যেভাবে কাজ করছেন তা নিসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার। কারণ আগের তুলনায় আইন শৃংখলার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে সামনে মুসলমানদের পবিত্র ঈদ-উল-আযহা আর কয়েকদিন পরেই, হিন্দু ধর্মাম্বলী মানুষদের শারদীয় দূর্গাপূজা। তাই এ উপলক্ষে দিনাজপুরে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন সহ সকল প্রকার অপরাধ কার্য্যক্রম কাঠিন হস্তে দমন করার লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। যাতে কোন ভাবেই দিনাজপুরে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি না হয়। দিনাজপুরে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যেভাবে কাজ করছেন তাতে করে দিনাজপুরের মানুষ নিরাপদে রয়েছেন, ভাল আছেন। শান্তিতে রয়েছেন। এক কথায় আগের তুলনায় দিনাজপুর জেলায় অপরাধ প্রবণতা নেই এবং আইন শৃংখলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। এই আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে।