স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) দিনাজপুরের প্রধান তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। পানি বাড়তে থাকলে রাতের মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করবে বলে আশঙ্কা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্মকর্তাদের।

পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বন্যা মোকাবিলায় খোলা হয়েছে জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম।দিনাজপুর পাউবোর পানি বিজ্ঞান উপ-বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, বিকেল ৩টা পর্যন্ত জেলার প্রধান তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

পানি বাড়া অব্যাহত থাকলে রাতের মধ্যে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করবে।

দিনাজপুর শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পুনর্ভবা নদীর ৩৩ দশমিক ৫০০ মিটার বিপৎসীমার বিপরীতে বর্তমানে পানির স্তর রয়েছে ৩০ দশমিক ১১ মিটার, আত্রাই নদীর ৩৯ দশমিক ৬৫০ মিটারের বিপৎসীমার বিপরীতে বর্তমানে ৩৮ দশমিক ৫৫মিটার ও ইছামতি নদীর ২৯ দশমিক ৯৫০ বিপৎসীমার বিপরীতে ২৬ দশমিক ৯৭ মিটারে অবস্থান করছে।

বিকেল ৩টার পরও দিনাজপুরে ভারী বর্ষণ হয়েছে। এতে নদীর পারি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। অন্যান্য সকল নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দিনাজপুর শহরের মাঝাডাঙ্গা গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুনর্ভবা নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এতে মাঝাডাঙ্গা গ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলোর নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে ফসলের ক্ষেত।এছাড়াও দিনাজপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আগাম তৈরি করা আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে গেছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত দিনাজপুরে ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী তিনদিন এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।

দিনাজপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবিএম আকরাম হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া যদি কোনো এলাকা বন্যা কবলিত হয়, তাহলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এজন্য জেলা প্রশাসনের ত্রাণ ভাণ্ডারে মজুদ রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য। এছাড়াও আগামী রোববার আরও ত্রাণ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে ফ্যাক্সবার্তা পাঠানো হবে।