স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুর জেলার খানসামা থানায় শ্রীমতি ফুলবাসী (২০) এর হত্যাকান্ডকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালিয়ে দেওয়ার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিল এলাকার মানুষ। ২বছর পর স্বাক্ষীদের জবানবন্ধিতে আবারো আদালতে প্রমাণ হতে চলেছে। ফুলবাসীর স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না বরং স্বামী কমলচন্দ্র ও তার পিতা মাতা সহ ৮জন মিলে ফুলবাসীকে হত্যা করা হয়েছিল। এব্যাপারে হত্যার পক্ষে এলাকার অন্ত্যন্ত ১০জন মানুষ ২ বছর পর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট জবানবন্দি প্রদান করেন।
মামলার এজাহারের ভিত্তিতে জানাযায়, ৮০ হাজার টাকা যৌতুক নিয়ে দিনাজপুুর জেলার খানসামা উপজেলার ভান্ডার দহ গ্রামে প্রকাশ চন্দ্র রায়ের পুত্র কমল চন্দ্র (২৫) এর সাথে একই উপজেলার ভেড়ভেরী গ্রামের দ্বীনেশ চন্দ্র রায়ের কন্যা শ্রীমতী ফুলবাসী রায় এর বিবাহ সম্পন্ন হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫ ইং তারিখে। বিয়ের এক মাস অতিবাহিত হতে না হতেই কমল আবারো একটি মোটরসাইকেল যৌতুক হিসেবে কিনে দেওয়ার জন্য ফুলবাসীর উপর চাপ দিতে থাকে। ফুলবাসীর পিতা একজন দিনমুজুর ও নির্ক্ষর মানুষ। বিধায় মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার সমর্থ নেই বলে ফুলবাসী তার স্বামীকে জানায়। পরে তার উপর চার প্রয়োগ করে ও শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। এভাবে ৯মাস পাড় হয়ে যায়। গত ১৫ জুলাই ২০১৫ তারিখ রাতে ফুলবাসী ফাঁসিতে আতœহত্যা করেছে বলে কমলের বাড়ীর মানুষ জানায়। বাড়ীর লোকজন পুলিশ বা চেয়ারম্যান এর অগচরে লাশটি মাটিতে নামিয়ে ফেলে ও বাড়ীর লোকজন সবাই বাড়ী থেকে পালিয়ে যায়। সে সময় ফুলবাসী ৪মাসে অন্তসত্ত্বা ছিল। তৎকালিন খানসামা থানার ওসি কৃষ্ণ সরকার ফুলবাসীর পিতাকে আটকে রেখে জোর পূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তাতে স্বাভাবিক মৃত্যুর বয়ান লিখে আদালতে প্রেরন করেন এবং দ্রুত ফাইনাল রিপোর্ট দিয়ে দেয়। এমতাবস্থায় কন্যা হত্যার বিচার না পেয়ে এবার ফুলবাসীর মাতা শ্রীমতি পবিত্রা রানী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মামলাটি রুজু করে। যার মামলা নং ১২৮/২০১৬। গত ৫ মে এবং ২১ মে ২০১৭ তারিখে সি আর ই এস আদালতের বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেড প্রায় ১০ জন স্বাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহন করেন।
ভান্ডার দহ গ্রামের প্রকাশ চন্দ্র রায়ের পুত্র কমল চন্দ্র রায় একজন অর্থ শালি ও কস্মেটিক ব্যবসায়ী। খানসামার পাকের হাটে তার একটি কসমেটিকের দোকান আছে। ফুলবাসী হত্যাকান্ড থেকে বাঁচার জন্য সে বহুটাকা ব্যায় করেছে বলে এলাকার মানুষ জানান।