(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরের কোরবানী পশুর হাট জমে উঠেছে। ভারতীয় গরু আসতে শুরু করেছে। এবার লক্ষাধিক গরু ও ছাগল কোরবানী করা হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।  পবিত্র কোরবানীকে সামনে রেখে দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলা ও ৯টি পৌরসভা এলাকার হাটে কোরবানীর পশুর আমদানী শুরু হয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুরের বিরামপুর, সদর, ফুলবাড়ী, বিরল ও বোচাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে গত ১০ দিনে প্রায় ৫ হাজারের অধিক ভারতীয় গরু এসেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। কোরবানীর বড় হাট বিরামপুর, কাটলা, কেটরা, মাদিলাহাট, রুদ্রানী, খানপুর, আমতলী, কমলপুর, বিরল, কাহারোল, সেতাবগঞ্জ, মঙ্গলপুর, আমবাড়ী, ফাসিলাডাঙ্গাসহ অন্যান্য হাটে দিন দিন ভারতীয় গরুর আমদানী হওয়ায় জমে উঠেছে কোরবানী পশুর কেনাবেচা। তবে কোরবানীকে সামনে রেখে জেলার ১৩টি উপজেলায় ২০ হাজার খামারী প্রায় ৭১ হাজার গরু মোটাতাজাকরণ করছেন বলে জানান জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা শংকর কুমার বসাক। তিনি বলেন, গতবারের কোরবানীতে জেলায় ৫০ হাজার গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়।
জেলা চামড়া মালিক গ্রুপের সভাপতি তৈয়ব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, এবার ১লাখ ৩০ হাজার গরু ও ছাগল কোরবানী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ৬০ হাজার গরু ও ৭০ হাজার ছাগল রয়েছে। তবে তিনি ভারতে চামড়া পাচারের আশঙ্কা করে বলেন, স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীদের এখন পর্যন্ত ট্যানারী মালিকেরা অগ্রিম অর্থ দেননি। জেলার ১৫ হাজার চামড়া ব্যবসায়ী পাওনা রয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা। ট্যানারী মালিকরা বকেয়া টাকা না দেয়ায় গরু ও ছাগলের চামড়া ভারতে পাচারের আশঙ্কা করে তিনি বলেন, সময় থাকতে অর্থ না দিলে দেশে চামড়া রাখা যাবে না।
কোরবানীর হাটে ভারতীয় গরু আসায় স্থানীয় খামারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এর ফলে তাদের গরুর দাম কমে যাবে। সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুরের পশুর হাটগুলোতে দিন দিন ভারত থেকে আসা গরুর সংখ্যা বেড়েই চলছে। এর ফলে ক্রেতাদের কোরবানীর পশু কিনতে অধিক টাকা গুনতে হবে না বলে অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। -মোঃ ওয়াহেদুর রহমান