স্টাফ রিপোটার (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরের ঐহিত্যবাহী লোভনীয় টসটসে রসালো লিচু এখন বাজারে। দিনাজপুর কোতয়ালী থানার রাস্তাগুলো যেন ফল ব্যবসায়ীদের দখলে। ফল বিক্রির আড়ৎ হিসেবে পরিচিত কালিতলার কোতয়ালী থানার চারপাশ। বিক্রি হচ্ছে সাধ্যের মধ্যেই ২০০ থেকে ৭০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে উৎকৃষ্ট মানের লিচু। যে দিকে দৃষ্টি যায় সেদিকে দৃষ্টিনন্দন নানান রঙের, নানান জাতের লিচু মিলছে সেখানে। লিচু বাগানে মৌ মৌ সুগন্ধে মাতাল করেছে মানুষদের মন। দিনাজপুরের টসটসে রসালো লিচু বাংলাদেশের মন কেড়েছে। যে একবার খায় সে বার বার লিচু চায়। কি যাদু আছে দিনাজপুরের লিচুতে। ইতোমধ্যে ঈদ উল ফিতর ও মৌসুমী ফল লিচু খেতে চলেছে অনেকের জামাই। যারা চাকুরি করছেন তারাও দিনাজপুরের লিচুর জন্য দিনাজপুরে ঈদ করবেন। ঈদ ও লিচুর খাওয়ার দুইটি আনন্দ একসাথে পাচ্ছেন অনেকেই। দিনাজপুরের লিচুর মধ্যে বেদেনা, বোম্বাই, চায়না-৩, মাদ্রাজী, সিদুর লিচু প্রসিদ্ধ। বাংলাদেশের মধ্যে দিনাজপুর জেলা ধান ও চালে বিখ্যাত হলেও দিনাজপুরে লিচুরও কদর কম নয়।
ইতোমধ্যে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের পাকা লিচু বাজারে আসতে শুরু করায় ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতা ও ফরিয়ারা ব্যস্ত সবাই। দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলা জুড়ে লিচুর আবাদ হয়েছে । সদর উপজেলার মাশিমপুরে ও বিরল উপজেলা সহ ১৩ থানার দেশের উৎকৃষ্টমানের লিচু উৎপাদন করে লিচু চাষি। এছাড়া বিরল ও সদর উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাড়ির ভিটা, উঠান, আঙ্গিনাতেও লিচুর গাছ লাগিয়ে থাকে লিচু প্রেমিকরা। প্রায় ৩০ কোটি টাকার লিচু কেনা বেচা হয় লিচু মৌসুমে। যা দিনাজপুরের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে এই লিচু। দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর তথ্য মতে জেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় ৩১ হাজার লিচুর বাগান রয়েছে। প্রতিদিন দিনাজপুর থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ লিচু রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় কিনে নিয়ে যায় লিচু ব্যবসায়ীরা। রাজধানী সহ বিভিন্ন জেলায় দিনাজপুরের লিচু চাহিদা রয়েছে। তাই দিনাজপুরের লিচু কিনে বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে লাভের মুখ দেখেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি লিচু মৌসুমে দিনাজপুরে প্রায় ১ লক্ষ মহিলাদের কর্মসংস্থান হয়। অন্যদিকে প্রায় ৫০ হাজার পুরুষ বিভিন্নভাবে শ্রম দিয়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪শত টাকা আয় করে থাকে। যা দিয়ে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনে তারা।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ তৌহিদুল ইকবাল জানান, এবার জেলার ১৩টি উপজেলায় ৫ হাজার ২ হেক্টর লিচু বাগানে লিচু চাষ করা হয়েছে। মোট ৩ হাজার ২৬৭টি লিচু বাগান রয়েছে। এছাড়া বসতবাড়ি ও অন্যান্য স্থানে ব্যক্তিউদ্যোগে থাকা লিচু গাছে বাম্পার লিচু ফলন হয়েছে। দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী বেদেনা, হাইব্রিড জাতের চায়না থ্রি, চায়না ফোর জাতের লিচু ব্যাপক চাষ করা হয়েছে। এছাড়া দেশি জাতের মাদ্রাজি, বোম্বাই ও কাঁঠালি লিচু বাজারে উঠেছে। দিনাজপুর জেলার সর্ব বৃহৎ লিচুন উৎপাদনকারী বিভিন্ন উপজেলায় লিচুর বাম্পার ফলন হওয়ায় এখান কার মানুষ অনেক খুশি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় দিনাজপুর জেলায় লিচু সংরক্ষনের কোন হিমাগার না থাকায় প্রতি বছর লিচু পচে নষ্ট হয়। যার ফলে ক্ষতি গ্রস্থ হয় লিচু উৎপাদনকারী কৃষকরা। তাই দিনাজপুরে একটি লিচু সংরক্ষনের হিমাগার স্থাপনের দাবি উঠেছে।