(দিনাজপুর২৪.কম) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিংয়ে মঙ্গলবার রাত থেকে টানা ভারি বর্ষণের ফলে ভূমিধসে অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মিরিকেই কমপক্ষে ২০ জন মারা  গেছেন। এছাড়া, কালিম্পংয়ে মারা  গেছেন কমপক্ষে ৭ জন এবং সুকিয়াপোখরি, গরুবাথান অঞ্চলে মারা গেছেন ৩ জন। লাভাতে নবম শ্রেণীর এক ছাত্র ভূমিধসে চাপা পড়ে মারা  গেছেন। দার্জিলিং জেলার অবস্থা ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সূর্যপ্রতাপ যাদব। ভূমিধসের ফলে বহু জায়গাতেই বাড়ি ভেঙে বহু মানুষ চাপা পড়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকেই। বহু সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। অনেকেই নিখোঁজ বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দার্জিলিং পরিস্থিতি নিয়ে সরজমিন খোঁজ করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরণ রিজিজুকে দার্জিলিং পাঠিয়েছেন।  বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন বলে  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন।  এদিন সকালে তিনি টুইটারে জানিয়েছেন, দার্জিলিং পরিস্থিতির উপর তিনি নজর রাখছেন। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব জানিয়েছেন, উদ্ধার কাজে সেনাবাহিনীর সাহায্য চাওয়া হয়েছে। সশস্ত্র সুরক্ষা সীমা বল-এর জওয়ানরা বৃষ্টির মধ্যেই উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। এছাড়া, উদ্ধারকাজে শামিল হয়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরা। দার্জিলিং ও সিকিমে যাওয়ার পথে ধস নামায় যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জাতীয় সড়কের অনেক জায়গাতে ধস নামায় উদ্ধারকাজ চালাতে বাধা পেতে হচ্ছে। তবে বর্ডার রোড অর্গানাইজেশনের কর্মীরা যুদ্ধকালীন ভিত্তিতে রাস্তা থেকে ধস সরানোর কাজ করছেন। জাতীয় সড়কে অনেক জায়গাতেই মানুষ আটকা পড়েছেন। এদের মধ্যে পর্যটকরাও রয়েছেন। তাদের উদ্ধার করার তৎপরতা চলছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ৮ মাইল ও ১১ মাইল এলাকায় ১৫ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদের খোঁজে জোর তল্লাশি শুরু হয়েছে। ৫৫ নং জাতীয় সড়কে একটি ব্রিজ পানির তোড়ে ভেসে  গেছে। গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান বিমল গুরুং হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজ নিয়েছেন। শিলিগুড়ির সঙ্গে দার্জিলিং, কালিম্পং  ও কার্শিয়াং-এর সবক’টি রাস্তাই ধসের কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।-(ডেস্ক)