(দিনাজপুর২৪.কম) ফাইনাল ম্যাচের দুদিন আগেই শিরোপা জয়ের ঈঙ্গিত দিয়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ। আজ সেই ঈঙ্গিত সত্যি করলেন এই ক্যাপ্টেন। দাপটি জয়ে শিরোপা নিজেদের করে নিলেন রুবেল-মাহমুদুল্লাহরা। রোববার মিরাপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনালের লড়াইয়ে নাজমুল একাদশকে সাত উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিয়েছে মাহমুদুল্লাহর দল।

শিরোপা জিততে মাহমুদউল্লাহদের প্রয়োজন ছিল ১৭৪ রান। লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই মিডল অর্ডার থেকে ওপেনিংয়ে উঠে আসা মুমিনুল হকের উইকেট হারায় মাহমুদউল্লাহর দল। সেট হয়ে বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ তরুণ মাহমুদুল হাসান জয়ও। ব্যাটিংটা পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই ভুগিয়েছে মাহমুদউল্লাহর দলকে। ফলে শুরুতে দুই উইকেট পতনের পর অনেকেই হয়তো মনে করছিলেন, আজও হয়তো পারবে না মাহমুদউল্লাহরা। তাছাড়া শান্তদের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচেও যে হেরেছিল দলটি।

এই শঙ্কা কী দারুণভাবেই না মিথ্যা প্রমাণিত করলেন লিটন দাস, ইমরুল কায়েস ও মাহমুদউল্লাহরা। শুরুটা লিটনের হাত ধরে। টপ অর্ডারের অন্য ব্যাটসম্যানদের মতো তিনি নিজেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ব্যর্থ ছিলেন। ডানহাতি ওপেনার আজ রানে ফিরলেন একেবারে মোক্ষম সময়ে। ফাইনালে দল দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে যখন চাপে পড়ে গেল তখন চাপমুক্তির ব্যাটিং দেখিয়েছেন লিটন।

দুর্দান্ত তাসকিন আহমেদ, আল-আমিন হোসেনদের বিপক্ষে সাবলীল ক্রিকেট খেলে ফিফটি তুলে নিয়েছেন ৪৭ বলে। মাহমুদউল্লাহ একাদশের চাপ কমেছে তাতেই। ৬৮ বলে ১০ চারে ৬৯ রান করে লিটন যখন ফিরছিলেন মাহমুদউল্লাহ একাদশের জয়ের রাস্তাটা ততক্ষণে পাকা। দারুণভাবে চলেছেন দুই অভিজ্ঞ ইমরুল কায়েস ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ নিজে। চারে ব্যাটিং করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমাণাত্মক ক্রিকেট খেলেছেন ইমরুল। আর পাঁচে নেমে মাহমুদউল্লাহ ছিলেন বিস্ফোরক।

৫৫ বলে ৫৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন ইমরুল। বাঁহাতি অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের ইনিংসে চারের মার ১টি, ছক্কা ৬টি। মাহমুদউল্লাহ ১১ বলে ৩ চার ১ ছয়ে ২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। ২৯.৪ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে জয়ের জন্য ১৭৭ রান তুলে ফেলে মাহমুদউল্লাহ একাদশ।

এর আগে নাজমুল একাদশ ১৭৩ রানের সংগ্রহ পেয়েছে ইরফান শুক্কুরের ব্যাটে। আজও ব্যর্থ হয়েছে নাজমুলের দলের টপ অর্ডার। ৩৫ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক শান্ত রানের চিন্তা বাদ দিয়ে উইকেটে পড়ে থাকতে চেয়েছেন। তবে সফল হয়নি তাদের এই চেষ্টা।

৩৭ বলে ১২ রান করে ফিরেছেন মুশফিক। নাজমুল শান্ত ৩২ রান করতে খেলেছেন ৫৭ বল। পাঁচে নেমে কোনো রান না করেই ফিরেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। বিপদে পড়া দলটির পক্ষে তখন দাঁড়িয়ে যান ইরফান শুক্কুর। একপ্রান্ত আগলে রেখে সাতে নেমে ৭৭ বলে ৭৬ রান করেন বাঁহাতি ক্রিকেটার। তার ইনিংস চার ৮টি, ছক্কা ২টি।

৪৭.১ ওভারে ১৭৩ রানে গুটিয়ে যায় নাজমুল একাদশ। মাহমুদউল্লাহদের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন তরুণ সুমন খান। ১০ ওভারে ৩৮ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়েছেন। রুবেল হোসেন ২৭ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট।

ম্যাচ সেরা ব্যাটসম্যান হয়েছেন ইরফান শুক্কুর, বেস্ট বোলার হয়েছেন সুমন খান, সেরা ফিল্ডার হয়েছেন নুরুল হাসান সোহান, ম্যাচ সেরা হয়েছেন সুমন খান, প্লেয়ার অব দ্যা টুর্নামেন্ট হয়েছেন মুশফিকুর রহিম, সেরা ব্যাটসম্যান হয়েছেন ইরফান শুক্কুর, সেরা বোলার হয়েছেন রুবেল হোসেন, সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হয়েছেন তাসকিন আহমেদ, সেরা প্রোমিসিং প্লেয়ার হয়েছেন রিশাদ আহমেদ এবং প্রেসিডেন্টস কাপ স্পেশাল এওয়ার্ড জিতেছেন সাইফ উদ্দিন, মেহেদী হাসান, সুমন খান, আফিফ হোসাইন ও তৌহিদ হৃদয়। -ডেস্ক