জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা সাহা মিম। করোনার কারণে দীর্ঘদিন ঘরের মধ্যেই আছেন তিনি। এর মধ্যেই নিজের ইউটিউব চ্যানেল খুলেছেন। সেই চ্যানেলের জন্য নির্মাণ করেছেন শর্টফিল্ম ‘কানেকশন’। ইউটিউব চ্যানেল, প্রযোজনায় আগ্রহ, বন্ধ থাকা কাজসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হলো তার সঙ্গে।

গেল ঈদে আপনার ও তাহসান খান অভিনীত ‘হঠাৎ বিয়ে’ ওয়েব ফিল্মটি বেশ পছন্দ করেছে দর্শক। সেটি সম্পর্কে কিছু বলুন?

রেসপন্স অনেক ভালো ছিল। দর্শক এটা অনেক পছন্দ করেছে। আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি যখন একটা কাজ দর্শক পছন্দ করে। ইউটিউবেও ভালো ভিউ হয়েছে ওয়েব ফিল্মটির। মনে হয় আমাদের কষ্ট সার্থক হয়েছে।

আপনার ইউটিউবের চ্যানেলের জন্য নির্মিত শর্টফিল্ম ‘কানেকশন’ দিয়ে প্রযোজনা শুরু করেছেন। ভবিষ্যতে প্রযোজক হিসেবে আপনাকে দেখা যাবে তো?

প্রযোজক হিসেবে কাজ করার ইচ্ছা আছে। আসলে মিডিয়ার সব সেক্টরে কাজ করার ইচ্ছা আছে। দেখা যাক সামনে কী হয়।

ইউটিউব চ্যানেলের অনুসারীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। খুব কম সময়ের মধ্যেই এত অনুসারী হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আপনি সফল। ভবিষ্যতে চ্যানেল নিয়ে কী পরিকল্পনা আছে?

করোনার মধ্যে আমরা যখন সবাই ঘরবন্দি ছিলাম, তখন আমার ইউটিউব চ্যানেলটি শুরু করেছিলাম। দর্শক খুব ভালোভাবে নিয়েছে বলেই এত অল্প সময়ের মধ্যে এক লাখের ওপর সাবস্ক্রাইবার হয়েছে। হ্যাঁ, চ্যানেলটি নিয়ে আমার অনেক পরিকল্পনা আছে। যখন আবার সবকিছু আগের মতো শুরু হয়ে যাবে, তখন আরও নতুন নতুন অনুষ্ঠান তৈরি করব চ্যানেলটির জন্য। দর্শক আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছে, আমি তাদের নিরাশ করতে চাই না।

করোনায় বন্ধ থাকা ছবিগুলোর কী খবর?

যে কাজগুলো বন্ধ হয়ে আছে, সেগুলো অনেক বড় বাজেটের ছবি। যেহেতু ছবিগুলো বিগ বাজেটের, তাই এ মুহূর্তে এত বড় অ্যারেঞ্জমেন্ট করে শুরু করা সম্ভব না হয়তো। তবে আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে আটকে থাকা ছবির কাজ শুরু হতে পারে।

নতুন কোনো ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন?

নতুন কয়েকটি ছবির ব্যাপারে আলাপ হচ্ছে, তবে এখনো সবকিছু চূড়ান্ত হয়নি। যখন চূড়ান্ত হবে, তখন আপনাদের সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।

শোনা যাচ্ছে, মালেক আফসারি তার ২৫তম ছবি ‘থুতু’ আপনাকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করবেন। এ বিষয়ে যোগাযোগ হয়েছে?

এখনো আমার সঙ্গে এ ব্যাপারে কোনো কথা হয়নি। যদি কোনো প্রস্তাব আসে, অবশ্যই ভেবে দেখব।

কোনো স্বপ্নের চরিত্র আছে, যেটিতে ভবিষ্যতে কাজ করতে চান?

একটা নয়, এমন অনেক স্বপ্নের চরিত্র আছে। আমাদের ফিল্মে সাধারণত ব্যতিক্রম চরিত্র কম হয়। পছন্দের চরিত্র অনেক আছে, যেগুলো আসলে ফিল্মে হয় না। তবে সুযোগ এলে অবশ্যই ব্যতিক্রমধর্মী চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছা আছে।

বড়পর্দায় এখন পর্যন্ত অনেকের সঙ্গেই জুটি বেঁধে কাজ করা হয়েছে। কো-আর্টিস্ট হিসেবে কার সঙ্গে কাজ করে সবচেয়ে বেশি স্বাছন্দ্যবোধ করেছেন?

এখন পর্যন্ত সবার সঙ্গে কাজ করে ভালো লেগেছে। একেকজন তো একেক রকম। কারও সঙ্গে কারও কম্পেয়ার করতে পারব না। সবাই অনেক ভালো অভিনেতা এবং খুব ভালো কো-আর্টিস্ট। আমি আমার সব সহশিল্পীর সঙ্গেই কাজ করতে স্বাছন্দ্যবোধ করি।

আপনার অগণিত ভক্ত ও অনুরাগী আছে, যারা করোনার কারণে অনেক দিন ধরে হলে গিয়ে নতুন ছবি উপভোগ করতে পারছে না। সেই দর্শকদের উদ্দেশে কিছু বলুন?

দেখুন এখন যেই অবস্থাটা, সেটা শুধু আমাদের দেশে নয়, পৃথিবীর সব জায়গাতেই একই রকম। সবাই অনেক ধৈর্য ধরে আছে। দর্শকদের হয়তো আরও কিছুদিন ধৈর্য ধরতে হবে। এ বছর নতুন কোনো সিনেমা মুক্তি পাবে কিনা আমি সঠিক বলতে পারছি না, তবে সামনের বছর অবশ্যই অনেক ভালো ভালো ছবি মুক্তি পাবে। আশা করি, সিনেমা হল খুললে দর্শকরা হলে গিয়ে ছবি দেখে বাংলা চলচ্চিত্রের পাশে থাকবে। -সূত্র :  আ.সময়