ছবি-সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) করোনা ভাইরাস। প্রাণঘাতী ভাইরাসটির কারণে থমকে আছে দেশ। বন্ধ রয়েছে যোগাযোগ ব্যাবস্থা। কিন্তু থেমে নেই ধর্ষণ। ধর্ষকদের নেই মৃত্যুভয়ও। যখন করোনা আতঙ্কে কাঁপছে দেশ , তখনও থেমে নেই ধর্ষণের মত ঘৃণিত ঘটনা।

করোনা বিপর্যয় কালেও দেশব্যাপী যেন ধর্ষণের মহোৎসব চলছে। লকডাউনের মধ্যেই হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে ধর্ষণ। ধর্ষকের লোলুপ দৃষ্টি থেকে বাদ যাচ্ছে না শিশু ও বৃদ্ধরা। এমনকি রেহাই পাচ্ছেন না বাকপ্রতিবন্ধী ও পাগলেরাও।

কখনো ৬ বছরের শিশু, কখনো প্রতিবন্ধী বালিকা কখনো আবার ৬০ বছরের বৃদ্ধাকেও আটকে রেখে করা হচ্ছে গণধর্ষণ। ধর্ষণের শিকার অধিকাংশই করোনা প্রকোপে থানায় যাচ্ছে না মামলা করতে। ফলে মামলার সংখ্যা কমেছে। বেড়েছে ধর্ষণ। বেপরোয়া হচ্ছে ধর্ষকেরা।

অপরদিকে রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি, তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা ও সাক্ষ্য গ্রহণের সময় ভিকটিমকে হয়রানির কারণেই অধিকাংশ ধর্ষণ মামলার বিচার হয় না। তাই ভুক্তভোগীদের মামলাতেও আগ্রহ কম। করোনায় দেশ স্থবির হয়ে পড়ার পরেও সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের শিকার হয়েছে শিশুরা।

ক্রান্তিকালেও কমেনি ধর্ষণ বরং এই ভয়াবহতা ও নৃশংসতা আরও বেড়েছে। শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচারের সাম্প্রতিক দৃষ্টান্তের পরেও। নির্যাতন যেন চলছেই।

অনেকসময় ধর্ষন মামলার বাড়তি ঝামেলা এড়াতে লোকলজ্জার ভয়ে ধর্ষিতার পরিবার আসামির সাথে করছেন সমঝোতার। ফলে ধর্ষণ মামলার অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ার পেছনে সমঝোতাকে বড় একটি কারণ হিসাবে ধরা হয়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ধর্ষণের শিকার নারী-শিশু দরিদ্র পরিবারের। আর্থিক প্রলোভনে তারা সমঝোতা করে। সামাজিকভাবে লজ্জা ও ভয়েও মীমাংসায় আগ্রহী হয় তারা।

আবার অনেক ক্ষেত্রে ডাক্তারি পরীক্ষা বা প্রমাণ সংগ্রহের অভাবেও ভিকটিমের পক্ষে ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন তারা বাধ্য হয়েই অভিযুক্তের শর্ত মেনে সমঝোতায় যেতে বাধ্য হয়।

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত সূত্র জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগর এলাকায় ২৬ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ২৪ দিনে ধর্ষণ, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও অপহরণের অভিযোগে মামলা হয়েছে ৭২ টি। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রায় শতাধিক।

এছাড়া বিভিন্ন গনমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, করোনা ভাইরাসে ২৬ মার্চ সরকারি ছুটির পর থেকে সারাদেশে লকডাউন চলাকালিন সময়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫২ টি। এরমধ্যে ১২ জন শিশু ধর্ষনের শিকার হয়েছেন। আর ধর্ষনের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে শতাধিক।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, করোনা মহামারিতে ধর্ষণের মত ঘটনা বেড়েছে এটা অত্যান্ত উদ্বেগজনক। করোনা আক্রান্ত রোগী তল্লাশীর নামে এদেশে ধর্ষণ হয় মেনে নেয়া যায় না। করোনায় ত্রান দেবার কথা বলেও এদেশে ধর্ষণ হয়।একদিন করোনারও প্রতিষেধক আবিস্কার হবে। ধর্ষণ রয়ে যাবে অপ্রতিরোধ্য।

তাদের দাবি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় ৯৮ দশমিক ৬৪ ভাগ আসামি খালাস পেয়ে যায়। সাজা হয় মাত্র ১ দশমিক ৩৬ ভাগ আসামির।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, করোনায় প্রশাসনে নজরদারি আরো বাড়াতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের হওয়া মামলার বিচারের ধীরগতির জন্য পুলিশের গাফিলতি ও আদালতের কাঠামো অনেকাংশে দায়ী।

বিচারক সংকট, সাক্ষী গরহাজিরসহ নানা কারণে এ-সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে না। আর ধর্ষণের মামলায় সাজার নজির খুব কম তাই অপরাধীরা এসব অপরাধ করতে একটুও দ্বিধাবোধ করেন না। সুতরাং বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারলেই এসব অপরাধ কমানো সম্ভব হবে বলে মত দেন তারা।

আইন ও সালিশকেন্দ্র আসকের ধর্ষণের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে— চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২৫৭ টি।

এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার ১২৩ জনই শিশু। আর ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা গেছেন ১৬ জন। এসব ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে মাত্র ১৮৩ টি। বাকি ৭৫ টি কোন মামলাই হয়নি।

এদিকে ২০১৯ সালে সারা দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১ হাজার ৪১৩ জন নারী। ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭৩২ জন। এক বছরের ব্যবধানে এ সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, করোনায় ধর্ষকরা অপ্রতিরোধ্য। ধর্ষকদের কখনো মৃত্যু ভয় থাকেনা।

তাহলে তারা ধর্ষণ করতো না। নারী ও শিশুর প্রতি নির্যাতনের মাত্রা যে ভায়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তা দেখে মনে হয় সমাজ একটি বিবেকহীন, পাশবিক বৈকলাঙ্গের দিকে এগুচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক আইন, নারী ও মানবাধিকার সংগঠন, সরকারের প্রচেষ্টা থাকার পরও দুর্ভাগ্যজনকভাবে নারীর প্রতি সহিংস আচরণ হচ্ছে, নারীর চরম নিরাপত্তাহীনতায় যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের সংখ্যা বাড়ছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, আমার করোনার সময়ে ধর্ষণের ঘটনায় যেন মামলা নিতে পুলিশের গাফিলতি না হয় সেজন্য সংশ্লিস্টদের অনুরোধ জানিয়েছি। অনেক সময় আসামি পক্ষের ভয়ভীতি দেখানোর ও মামলা করতে চায় না।

আবার দীর্ঘসূত্রতায় বাদিপক্ষ মামলা চালাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ধর্ষণের ঘটনায় প্রায়ই সামাজিক ও পারিবারিক পরিসরে আপসের কথা শোনা যায়।

তারপরও কেউ কেউ আছেন, যারা সুবিচার পাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্যোগেও সমঝোতা করেন ভিকটিম।

মামলার ধীরগতি থেকে পরিত্রানের ব্যাপারে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালকে আরও গতিশীল করতে হবে। আসলে রাষ্ট্রপক্ষের দুর্বলতার কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন-সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত বিচার হচ্ছে না।

মামলার তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল ও সাক্ষী হাজিরেই পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা অনেক সময় নষ্ট করে ফেলেন। ফলে বিচার বিলম্ব হয়। এ ব্যাপারে প্রসিকিউশনের অধীনে পুলিশের একটি নির্দিষ্ট ইউনিট করা যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বেশকিছু ধর্ষণের ঘটনা তুলে ধরা হলো:

মার্চের শেষের দিকে জামালপুরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী তল্লাশির কথা বলে পুলিশ পরিচয়ে ঘরে প্রবেশ করে এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে পাঁচ বখাটে।

এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহের ঘটনা। কেরানীগঞ্জে ত্রাণ নিতে গেলে ত্রাণের কথা বলে ঘরে আটকে রেখে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

২৬ মার্চ যশোর সদরে চার বছর বয়সী নিজের মেয়েকে ৪৫ বছর বয়সী এক বাবা ধর্ষণ করেছেন অভিযোগ করে মেয়ের মা মামলা করলে পুলিশ ওই বাবাকে গ্রেপ্তার করে।

২৬ মার্চ ময়মনসিংহের গফরগাঁওতে এক মসজিদের মোয়াজ্জিন ধর্ষণ করে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে হত্যা করেন। পরে ওই মোয়াজ্জিন কিশোরীর লাশ মসজিদের পাশে একটি গাছে ঝুলিয়ে রেখে ফজরের আজান দেন ও ইমামতি করেন।

১৪ মার্চ কুমিল্লা সদরে সাড়ে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

২৩ মার্চ পাবনায় এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এক ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে গণধর্ষণের অভিযোগ করে গৃহবধূ মামলা করেছেন। একই দিন নওগাঁয় এক কিশোরীকে (১৬) গণধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা তিন তরুণকে আটক করে ধামইরহাট থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

১২ মার্চের প্রকাশিত খবর বলছে, ধর্ষণের মামলায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে মতিহার থানার পুলিশ। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এক স্বজনের বাসায় নিয়ে গিয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন দুজনের একজন। অন্যজন সহযোগিতা করেছেন।

২৪ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় ৫ দিন ঘুরেও মামলা নেয়নি পুলিশ। ধর্ষক ইব্রাহিম মিয়া ও তার পরিবারের হামলা থেকে বাঁচতে উপজেলার রূপগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে কাফনের কাপড় পরে আশ্রয় চেয়েছে ধর্ষিতার পরিবার। বর্তমানে ধর্ষক ও তার পরিবারের হুমকি-ধামকির কারণে তারা ঘরছাড়া।

২৩ এপ্রিল নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় বিয়ের প্রলোভনে এক তরুণীকে (২০) ‘ধর্ষণের’ শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় বুধবার রাতে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ‘ধর্ষণের শিকার’ তরুণীর বাবা। পাশাপাশি ‘ধর্ষণের শিকার’ তরুণী বিয়ের দাবিতে বর্তমানে ‘ধর্ষকের’ বাড়িতে অবস্থান করছেন।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার মাঝগাঁও ইউনিয়নের গুরুমশৈল বিলপাড়া ধানক্ষেতে তরুণীকে ‘ধর্ষণ’ করেন আমিন হোসেন পরান (২২) এক যুবক। আমিন হোসেন গুরুমশৈল বিলপাড়া গ্রামের আকতার হোসেনের ছেলে।

১৭ এপ্রিল রাতে রামগতি উপজেলায় বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে গেলে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিবেশী হোসেন তাকে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে গত ১৯ এপ্রিল রোববার রাতে রামগতি থানায় মামলা করেন।

অন্যদিকে গত ১৭ এপ্রিল শুক্রবার রাতে উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের বয়ারচর এলাকার বেলাল উদ্দিনের ছেলে রাশেদ ওই এলাকার বাড়ির পাশের একটি নির্জন জায়গায় কৌশলে ডেকে নিয়ে অপর কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় গত ১৮ এপ্রিল নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী নিজেই বাদী হয়ে রামগতি থানায় মামলা করেন।

২১ এপ্রিল করোনা পরিস্থিতিতে যানবহন সঙ্কটের কারণে গাজীপুর থেকে খুলনায় বাড়ি ফেরার পথে গোপালগঞ্জে এক পোশাককর্মী (২৫) ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এদিন রাতে শহরতলীর ঘোষরচর এলাকায় এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাতেই শহরের মৌলভিপাড়া এলাকা থেকে ধর্ষক ইজিবাইক চালক খায়রুল ইসলামকে (২৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

১৬ এপ্রিল করোনা ইস্যুতে গৃহকর্মীর কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই নারী তার মেয়ের বাড়িতে যান। এসময় লক্ষ্মীগঞ্জ বাজার থেকে কিশোরগঞ্জের দিকে যাওয়ার পথে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের মারধর করে মুঠোফোন ছিনতাই করে এবং ওই নারীকে টেনেহিঁচরে নিয়ে যায় পাশের একটি জঙ্গলে।

সেখানে নিয়ে সুজন মিয়া (৪২) নামের এক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করে। এসময় সুজনকে সহযোগিতা করে মোজাটিয়া গ্রামের শফিক মিয়া, শহীদ মিয়া ও মল্লিকপুর গ্রামের লাল মিয়া। ধর্ষণ শেষে নারীর সঙ্গে থাকা প্রায় ৯ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয় তারা।

১৩ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরশহরের মধ্যপাড়া এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লুবনা আক্তারের (১৮) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। দুই বন্ধু মিলে ধর্ষণের পর গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করে।

হত্যকাণ্ডে জড়িত রানা কর (৩০) ও নুপুর বসাক (৩২) নামে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তাদের দুইজনের বাড়ি মধ্যপাড়া এলাকার বসাকপাড়া মহল্লায়। নিহত লুবনার সঙ্গে নুপুরের পূর্বপরিচয় ছিল।

৯ এপ্রিল সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় প্রেমের অভিনয় করে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিওচিত্র ধারণের অভিযোগে ইব্রাহিম হোসেন তানভীরসহ ৭ কলেজ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেল ও রাতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা সবাই অভিযুক্ত ইব্রাহিমের বন্ধু। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার বাড়িতে ডেকে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করে। এসময় কয়েকজন বন্ধু ও বান্ধবী ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ধারণ করে। এসব ভিডিওচিত্র সম্প্রতি বন্ধুরা বিভিন্ন জনের মোবাইলে প্রচার করে।

৮ এপ্রিল রাজশাহীর পুঠিয়ায় দুলাভাইয়ের যৌন লালসার শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছে ইভা খাতুন (১২) নামের এক কিশোরী।পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এর আগে ৭ এপ্রিল উপজেলার রামজীবনপুর এলাকার নিজবাড়িতে আত্মহত্যা করে ইভা।

৯ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় নয় বছর বয়সী এক শিশুকে ঈমান আলী নামের এক যুবক ধর্ষণ করে । এদিন বিকেলে উপজেলার সোনারাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাতে শিশুটিকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত লিটন মিয়াকে (২৮) আটক করেছে পুলিশ। তিনি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার মৃত ঈমান আলীর ছেলে।

৯ এপ্রিল শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সাইদুল ইসলাম মালত নামে এক বখাটেকে আটক করেছে পুলিশ। আটকের পর বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) তাকে শরীয়তপুর কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আটক সাইদুল ইসলাম মালত (২০) উপজেলার সখিপুর থানার চরভাগা ইউনিয়নের শনিকান্দি গ্রামের সোহেল মালতের ছেলে।

৯ এপ্রিল ঝালকাঠির রাজাপুরে এক প্রতিবন্ধী তরুণীকে (২৫) ধর্ষণের অভিযোগে শাস্তি হিসেবে ধর্ষককে জুতাপেটা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গালুয় দুর্গাপুর গ্রামে সালিশ বৈঠকে জুতাপেটার পর ওই প্রতিবন্ধী তরুণীর পরিবারের ওপর হামলা করে ধর্ষক সুজন (২০)। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। সূত্র : আ. সংবাদ