(দিনাজপুর২৪.কম) আগস্টে জিম্বাবুয়েতে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে রাজি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রাজি নাকি পাকিস্তানও। যদিও সম্ভাব্য সিরিজের সূচি চূড়ান্ত হয়নি। সিরিজটা আয়োজন করা হলে ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের সাত নম্বর জায়গাটা হারানোর শঙ্কা রয়েছে বাংলাদেশের। সে ক্ষেত্রে সংশয় দেখা দিতে পারে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলা নিয়েও। ভারতের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের আনন্দের মাঝে তাই চাপা একটা উৎকণ্ঠা কাজ করছে বাংলাদেশের দর্শকদের মধ্যে। বিসিবি অবশ্য বলছে, এ নিয়ে মোটেও ভাবছে না তারা। বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ত্রিদেশীয় সিরিজ নিয়ে আমরা ভাবছি না। ত্রিদেশীয় সিরিজে কে কাকে হারাল, সেখানে কী সমীকরণ হলো, তা নিয়ে আমাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। আর শঙ্কিত হবই বা কেন? আমাদের সব মনোযোগ আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে। এ সিরিজটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজে তিনটি ওয়ানডে আছে। আমাদের মূল লক্ষ্য সিরিজ জেতা। একটা ম্যাচ জিতলেও তো কোয়ালিফাইয়ের পথ পরিষ্কার হবে। এখন একটাই বিষয়, সিরিজটা ভালো খেলতে হবে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানকে নিয়ে জিম্বাবুয়ের এই সিরিজটি এফটিপি বা আইসিসির করে দেওয়া সূচিতে ছিল না। পাকিস্তানে কদিন আগে খেলে গেছে জিম্বাবুয়ে। ফিরতি সফর হিসেবে পাকিস্তানের যাওয়ার কথা ছিল জিম্বাবুয়েতে। কিন্তু র‍্যাঙ্কিংয়ের কথা ভেবেই আকস্মিকভাবে এমন সিরিজ আয়োজনের উদ্যোগ। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদে​শ যেভাবে খেলছে, তাতে নিজেদের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অন্তত একটি ওয়ানডে না-জেতার কথা নয়। কিন্তু ক্রিকেট তো অনিশ্চয়তার খেলা। কোনো কারণে সমীকরণ বাংলাদেশের বিপক্ষে চলেও যেতে পারে। তাই বাংলাদেশ সমর্থকদের মনে প্রশ্ন, বিসিবিও কি পারে না ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে আরেকটি সিরিজ করতে?
এমন সম্ভাবনা যে নেই, সেটি নিশ্চিত করেছেন জালাল ইউনুস, ‘আরেকটা সিরিজ বা টুর্নামেন্ট আয়োজন সম্ভব নয়। হাতে পর্যাপ্ত সময়ও নেই। এ বছর বাংলাদেশ একটার পর একটা সিরিজ খেলছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়া আসবে। আগস্টে কোনো দল ফাঁকা থাকলেও আমরা এ ধরনের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যাব না। তা ছাড়া হুট করে এমন সিরিজ আয়োজন করলেই যে আমরা জিতব, তারই বা নিশ্চয়তা কী? কাজেই সূচি অনুযায়ী যে ম্যাচ আছে সেগুলো ভালো খেলতে চাই।’
ছোট দলগুলোর বিপক্ষে খেলে লাভ নেই। ভালো রেটিং পয়েন্ট পেতে হলে বড় দলগুলোর বিপক্ষে জিততে হবে। তাই আফগানিস্তান-স্কটল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজ আয়োজন করে লাভ নেই। আবার দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নিউজিল্যান্ডের মতো দলের সঙ্গে খেললে রেটিং পয়েন্ট হারানোরও শঙ্কা আছে। বাংলাদেশ শুধু চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিয়ে ভাবছে না। ভাবনায় আছে আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার বিষয়টিও। বিসিবিকে তাই অনেক হিসেব করেই পা ফেলতে হচ্ছে। বাংলাদেশ দলের কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্ট যে ওয়ানডেতেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে, এটাও পরিষ্কার।
গত নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ঘরের মাঠে ১১ ম্যাচের ১০টিই জিতেছে বাংলাদেশ। হারেনি একটি সিরিজও। প্রতিপক্ষের মধ্যে রয়েছে ভারত-পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলও। পারফরম্যান্সের বিচারে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখতেই পারে বাংলাদেশ। আর সেটা করতে পারলেই তো চুকে যায় সব ল্যাঠা। জালাল ইউনুস তাই বললেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমরা ভালো পারফর্ম করেছি। সেটার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই এ সিরিজেও। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো সম্মানজনক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ অবশ্যই খেলতে চায়। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে আমাদের চোখ আসন্ন সিরিজে। এটি ভালো খেললেই দূরে হবে সব জটিলতা।’ -(ডেস্ক)