(দিনাজপুর২৪.কম) ত্যাগের মহিমায় সারাদেশে উদযাপতি হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। সকল ভেদাভেদ ভুলে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে আজ সবাই এক কাতারে। ঈদুল আজহায় এ ওয়ান নিউজ এর পক্ষ থেকে সকলকে ঈদ মোবারক। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসব আমেজের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশেও উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ধর্মীয় উৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হয়ে হালাল পশু কোরবানির মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ।   দুই রাকা’আত ওয়াজিব নামাজ দিয়ে শুরু হয়েছে ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন। ঈদের নামাজ শেষে মহান সৃষ্টিকর্তাকে সন্তুষ্ট করার জন্য দেয়া হয়েছে পশু কোরবানি। ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্যের পাশাপাশি উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকার অলিতে গলিতে। অবশ্য এ আনন্দ উদযাপনের প্রস্তুতি চলছিল গত কয়েকদিন ধরেই। কোথাও সিটি করপোশনের উদ্যোগে টানানো হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ব্যানার ফেস্টুন, আবার কোথাও এলাকার তরুণরা রঙিন কাগজে সাজিয়েছে তাদের পাড়া-মহল্লাকে। বড়দের হাত ধরে নতুন কাপড় পরে ছোট ছোট শিশুদের ঈদগাহে আসা স্বভাবতই ঈদের আনন্দে ভিন্নরকম মাত্রা যোগ করে। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। শুক্রবার সকাল ৮টায় ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। এতে ইমামিত করেন বায়তুল মোকাররমের ইমাম মাওলানা মো. মিজানুর রহমান। এই প্রধান জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিচারপতিরা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, রাজনৈতিক, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষসহ লাখো মুসল্লি। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তারা। তবে এর আগে রাজধানীতে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে। সকাল সাড়ে ৭টায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামাতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মুহিব্বুল্লাহিল বাকী। এছাড়া ঈদুল আজহায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।    সেখানে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সোয়া ৮টায়। এতে ইমাম হিসেবে ছিলেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা এহসানুল হক। এরপর তৃতীয় জামাত হয় সকাল পৌনে ৯টায় হয়। এ জামাতে কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা জসিম উদ্দিন আযহারী ইমামতি করেন।

১০টায় অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ জামাত। এতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. মাওলানা মুহাম্মদ আবদুস সালাম ইমামমতি করেন। সর্বশেষ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রব মিয়া আল বাগদাদী ইমামতিতে বেলা ১১টায় একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বায়তুল মোকররাম মসজিদে অনুষ্ঠিত প্রতি জামাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় থেকে লাখো লাখো মুসল্লিকে অংশ নিতে দেখা গেছে।
এ বছর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) জামাতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ঈদের নামাজ আদায়। এখানে সকাল ৭টায় আদায় হয় ঈদের প্রথম জামাত। এছাড়া সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় খিলক্ষেত কুর্মিটোলা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দারুস সালাম মীরাবাড়ি (মাদবর বাড়ি) জামে মসজিদ ও লক্ষ্মীবাজার মিয়া সাহেব খানকাহ দরবার শরীফ মসজিদে।

৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, কারওয়ান বাজার আম্বরশাহ জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর জামে মসজিদ সংলগ্ন ঈদগাহ, মোহাম্মদপুর জহুরি মহল্লা মসজিদ, মোহাম্মদপুর জয়েন্ট কোয়ার্টার মসজিদ, কলাবাগান বশিরউদ্দিন রোড জামে মসজিদ, মিরপুর ১২ ডি ব্লক ঈদগাহ, মিরপুর ১২ এ ব্লক হারুন মোল্লা ঈদগাহ, মিরপুর ৬ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, কল্যাণপুর হাউজিং এস্টেট জামে মসজিদ, নয়াপল্টন জামে মসজিদ এবং পুরান ঢাকার হাটখোলা ফকির বানু আল ফালাহ মসজিদে।

সকাল সাড়ে ৮ থেকে ৯টায় জামাত অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় ঈদগাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠ, ধানমণ্ডি ঈদগাহ, দেওয়ানবাগ শরীফ, ফার্মগেট বায়তুশ শরফ মসজিদ, রূপগঞ্জ পূর্বগ্রাম ঈদগাহ মাঠ, ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন প্লাটফর্ম, মগবাজার বিটিসিএল কলোনি জামে মসজিদ, সরকারি মাদরাসা-ই-আলীয়া, সায়দাবাদ আরজু শাহ পার্ক দরবার শরিফ জামে মসজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল প্রধান ফটকসংলগ্ন মাঠ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল লন, লক্ষ্মীবাজারের নুরানি জামে মসজিদে এবং নারিন্দার মশুরীখোলা শাহ্ সাহেব বাড়ি জামে মসজিদে।

সর্বশেষ জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদ এবং সায়দাবাদ আরজশাহ পাক দরবার শরিফ বড় জামে মসজিদ।

সব জামাতে সৌদি আরবের মিনায় পদদলিত হয়ে এবং ক্রেন দুর্ঘটনায় শহীদ হাজিদের রুহের মাহগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সেইসঙ্গে দেশবাসীর মঙ্গল কামনা করা হয়। -ডেস্ক