হাফিজুর রহমান হাবিব (দিনাজপুর২৪.কম) পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাষন্ড স্বামী তুলা মিঞার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে শালবাহান ইউনিয়নের জামরিগুড়ী গ্রামে স্ত্রী অন্তরা বেগম (২২) কে নির্মমভাবে হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর পাষন্ড স্বামী তুলা মিয়া পলাতক রয়েছে ও সে ওই গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর পুত্র। নিহত অন্তরা বেগম উপজেলার সদর ইউনিয়নের বুড়ীমুটকি এলাকার আজিজুল হকের কন্যা। সে তুলা মিয়ার তৃতীয় নম্বর স্ত্রী ছিল বলে জানা যায়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটি হওয়ার পর সবাই ঘুমাতে যায়। ভোরে ছয়টার দিকে অন্তরা বেগমের ৪০ দিনের শিশুর কান্নাকাটি হলেও তার মায়ের নিস্তব্ধতা পাওয়া যায়। পরে পরিবারের লোকজন ঘরে গিয়ে দেখেন অন্তরা নিথর অবস্থায় পড়ে আছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পৌছে সুরতহাল দেখে ঘটনাটি হত্যাকান্ড বলে নিশ্চিত করেন।

নিহত অন্তরা বেগমের পিতা আজিজুল হক বলেন, প্রায় ১৪ মাস আগে তুলা মিঞার সাথে আমার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে প্রায় স্বামী স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া হতো, আমার মেয়েকে মারধর করতো। নিহতের মা রোকেয়া বেগম বলেন, আমার মেয়েকে গলা টিপে মারা হয়েছে, আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই।

তেতুঁলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তদন্ত আবু সাঈদ চৌধুরী শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সুরতহাল রিপোর্টে গলা এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহের ময়না তদন্তের জন্য জেলা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছে, তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুলা মিঞার চাচাতো ভগ্নিপতি মজিবর রহমান ও মেয়ে তাহমিনা খাতুঁনকে থানায় নিয়েছে পুলিশ।

এদিকে ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুদর্শন কুমার রায় সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পর থেকে ভিকটিমের স্বামী পলাতক রয়েছে, তাকে গ্রেপ্তারের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত আমরা তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পারব।