মোঃ জাকির হোসেন সৈয়দপুর (দিনাজপুর২৪.কম) দেশের বৃহত্তম তিস্তা ব্যারাজের উপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কেউ মানছেন না। রাতের অন্ধকারে ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। সিসি ক্যামেরা নষ্ট দেখিয়ে খুলে রাখা হয়েছে। দায়িত্বরতদের ম্যানেজ করে এসব কারবার চলছে। নিষেধাজ্ঞা সত্বেও এই ব্যারাজের উপর দিয়ে মাল বোঝাই ভারী যানবাহন পারাপারের অভিযোগ উঠেছে। ফলে যে কোন সময় ব্যারেজে ফাটলসহ যান চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে এলাকাবাসী মনে করছেন।
অভিযোগ মতে, ভারী যানবাহন যাতে ব্যারাজের উপর দিয়ে পারাপার করতে না পারে সেজন্য ব্যারিকেড নির্মাণ করা হয়। কিন্ত সেই ব্যারিকেডের খুঁটি ভেঙে দিয়ে ও একটি গাছ কেটে তিস্তা ব্যারাজের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য ও কিছু অসাধূ কর্মকর্তা রাতের অন্ধকারে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভারী যানবাহন পারাপারের সুযোগ করে দিচ্ছে। এদিকে তিস্তা ব্যারাজে যে ৪টি সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণের জন্য লাগানো হয়েছিল সেগুলো অকেজো করে দেয়া হয়েছে। এতে কেপিআই ওযানের আওতায় থাকা তিস্তা ব্যারাজটি পুনরায় হুমতির মুখে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশন সূত্র মতে, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা ব্যারাজের উপর দিয়ে ৪০ মেট্রিক টন মাল বোঝাই ট্রাক পারাপারের কারণে ব্যারাজের বেশ কিছু স্থানে ফাটল দেখা দেয়। ব্যারাজ রক্ষার স্বার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ড  কর্তৃপক্ষ গেল বছরের ২৫ নভেম্বর থেকে তিস্তা ব্যারাজের উপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি নোটিশ ঝুলিয়ে দেয়। এজন্য ব্যারাজের দুই প্রান্তের সড়কে স্থাপন করা হয় গোলপোষ্টের ন্যায় ব্যারিকেডের আরসিসি খুঁটি। তবে এই ব্যারিকেডের মাঝপথে শুধু প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটর সাইকেল, ভ্যান চলাচলে অনুমতি রাখা হয়।
এলাকাবাসী ও সেচ সুবিধাভোগী কৃষকরা অভিযোগ করে জানায়, সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে তিস্তা ব্যারাজের ব্যারিকেডের খুঁটি ভেঙে দিয়ে রাতের অন্ধকারে ৪০ মেট্রিক টন মালবোঝাই ট্রাক পারাপার করা হচ্ছে। এতে দেশের বৃহত্তম তিস্তা ব্যারাজটি পুনরায় ফাটলসহ হুমকির মুখে পড়েছে। প্রায় ১৫শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিস্তা ব্যারাজটি নীলফামারীর ডালিয়ায় তিস্তা নদীর উপর নির্মাণ করা হয়েছিল নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলার ১ লাখ ১১ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৮ সালে সেচ কার্যক্রম শুরু করা হয়। এই অবস্থায় ২০০২ সালে বিএনপি- জামায়াত জোট সরকার ব্যারাজের উপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য ইজারা ব্যবস্থা চালু করেন। অতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাক পারাপারের ফলে ব্যারাজের ২, ২০, ২১ ও ২৪ নম্বর গেটের উপর ফাটল ধরে। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গতবছরের ২৫ নভেম্বর থেকে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
সরজমিনে দেখা যায়, তিস্তা ব্যারাজ দিয়ে যাতে ভারী যানবাহন পারাপার করতে পারে সেজন্য নির্মিত আরসিসি খুঁটি ভেঙে ও একটি গাছ কেটে ওই পথ দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে। রাতের অন্ধকারে ভারী যানবাহন চলাচলের নমুনা ও চাকার চিহৃ দেখা যায়। পাশাপাশি তিস্তা ব্যারাজে যে ৪টি সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণের জন্য লাগানো হয়েছিল সেগুলোও অকেজো করে দেয়া হয়েছে। তিস্তা ব্যারাজ রক্ষা কমিটির সভাপতি ও খালিশা চাপানি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান  আতাউর রহমান সরকার জানান, রাতের আঁধারে ভারী চলাচলের কারনে আবারও হুমকির মুখে পড়েছে তিস্তা ব্যারাজটি।
তিস্তা ব্যারাজের দোয়ানি আনসার ক্যাম্পের ইনচার্জ আবুল কাশেম জানান, মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া ব্যারাজের পাহারায় ৭-১০ জন আনসার সদস্য রয়েছে। রাতের অন্ধকারে কে কিভাবে ভারী যানবাহন পারাপার করছে আমার জানা নেই। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তিস্তা ব্যারাজে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে না পারলে চরম বিড়ম্বনায় ও হুমকির মুখে ব্যারাজটি পড়বে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের যান্ত্রিক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সামসুদ্দিন বলেন, সিসি ক্যামেরাগুলোর যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ায় তা মেরামতের জন্য খুলে রাখা হয়েছে।