(দিনাজপুর২৪.কম) প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন দিল্লি সফরে তিস্তা চুক্তি সইয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছে ঢাকা। সরকার প্রধানের ওই সফরের এজেন্ডা নির্ধারণে ঢাকায় দিল্লির বিদেশ সচিব ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্করের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এ নিয়ে বাংলাদেশের আশাবাদের কথা জানান। এ সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্নের জবাবে রাজধানীর একটি হোটেলে (বৈঠক ভেন্যুতে) পররাষ্ট্র সচিব সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে সব বিষয়েই আলোচনা হয়েছে। এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের এজেন্ডা নির্ধারণী বৈঠক। প্রধানমন্ত্রীর সফরটি এপ্রিলের প্রথমার্ধে হবে। তারিখ চূড়ান্ত হলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। নির্ধারিত এজেন্ডায় ‘তিস্তা’ ও ‘সীমান্ত হত্যা’ থাকছে কিনা জানাতে চাইলে সচিব বলেন, সবকিছুই (এজেন্ডায়) থাকছে। জ্বালানি সহায়তা, কানেকটিভিটি, বাণিজ্য, সীমান্ত ইস্যু, কনস্যুলারসহ নতুন নতুন আরো অনেক ক্ষেত্র নিয়ে সরকারপ্রধানের সফরে আলোচনা হবে। নতুন নতুন ক্ষেত্র কি- জানতে চাইলে সচিব বলেন, কানেকটিভিটির নতুন নতুন ধারণা নিয়ে আমরা কথা বলেছি। আমরা দেখবো তা কতটা ফলপ্রসূ হয়। তবে এ নিয়ে এখনো বিস্তারিত বলার সময় আসেনি। তিস্তা চুক্তি সইয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি কতটা সম্পন্ন হয়েছে? এমন প্রশ্নে সচিব শহীদুল হক বলেন, ‘উনারা কি করছেন, উনারা আপনাদের বলতে পারবেন। আমরা বলতে পারি এখনো আশাবাদী। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে চুক্তিটি সইয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’ তবে তিস্তা না হলে প্রধানমন্ত্রীর সফর বিলম্বিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই উল্লেখ করে সচিব বলেন, আগে (দু’দফা) সফর পেছানোর কারণ হিসেবে তিস্তা কখনোই ছিল না। পররাষ্ট্র সচিব গত বছর গোয়া সম্মেলনেও এ নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেদিন সচিব বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরে তিস্তা কোনো শর্ত নয়। উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে ঢাকা। দিল্লির বিদেশ সচিব ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর বৃহস্পতিবার মোদির সেই আমন্ত্রণ শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এ নিয়ে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনাও করে গেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুই পররাষ্ট্র সচিবের আলোচনা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘায়িত হয়। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সেখানে পররাষ্ট্র সচিবদ্বয়ের নেতৃত্বাধীন দুই দেশের কর্মকর্তাদের আলোচনায় ঝুলে থাকা তিস্তা, গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্পসহ উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে সুনির্দিষ্ট আলোচনা হয়েছে। ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, ওই আলোচনায় নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিদ্যুৎ জ্বালানি, নৌপরিবহন, রেলওয়েসহ বিভিন্ন খাতে সমপ্রতি বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনা করেছেন দুই পররাষ্ট্র সচিব। ঢাকার কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, সেখানে ঢাকা-দিল্লি সামরিক সহযোগিতার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণে ভারতের সহযোগিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, খুব শিগগির এ বিষয়ে গঠিত যৌথ কারিগরি কমিটি বৈঠকে বসবে। দিল্লির বিদেশ সচিবের ঢাকা সফরের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া দুই পররাষ্ট্র সচিব নতুন ও সৃজনশীল কিছু ক্ষেত্রের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছেন। দুদিনের সফর শেষে গতকাল (শুক্রবার) সকালে ভারতের বিদেশ সচিব এস জয়শঙ্কর নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যান। -ডেস্ক