(দিনাজপুর২৪.কম) প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেয়ার পরদিন রাষ্ট্রের তিন অঙ্গ আইন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে সমন্বয় রক্ষার চেষ্টা করার কথা জানিয়েছেন সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় আপিল বিভাগের এক নম্বর বেঞ্চ আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে এ মন্তব্য করেন নতুন দায়িত্ব পাওয়া প্রধান বিচারপতি।

গত ১ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ছুটিতে যাওয়ার পর থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দিয়ে চলছিল দেশ। ১০ নভেম্বর সিনহা সিঙ্গাপুর থেকে পদত্যাগপত্র পাঠানোর আড়াই মাসেরও বেশি সময় পর ২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। একই দিন ১ অক্টোবর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আবদুল ওয়াহহাব মিয়া পদত্যাগ করেন।

আপিল বিভাগে ওয়াহহাব মিয়াই ছিলেন জ্যেষ্ঠ বিচারক। আর মাহমুদ হোসেন জ্যেষ্ঠতার ক্রম তালিকায় ছিলেন দুই নম্বরে। অবশ্য জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকেই প্রধান বিচারপতি করতে হবে, এমন কোনো বিধান নেই।নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে বাছাইয়ের পর দিন শনিবার রাতে প্রধান বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের কাছ থেকে শপথ নেয়ার পর সকালে প্রথম কার্যদিবস শুরু হয় মাহমুদ হোসেনের।

সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধান বিচারপতিকে সংবর্ধনা দেয় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতি। শুভেচ্ছা জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও। এ সময় তাকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি বিএনপি নেতা জয়নুল আবেদীন।মাহমুদ হোসেনের শপথ অনুষ্ঠানেও বঙ্গভবনে ছিলেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির শীর্ষ পদে থাকা বিএনপি নেতারা।

পরে নতুন প্রধান বিচারপতি তার বক্তব্যে তিন বিভাগের সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বলেন, ‘আইন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের এই তিনটি অঙ্গের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই কেবল একটি দেশ উন্নয়নের পথে অগ্রসর হতে পারে।’

সুরেন্দ্র কুমার সিনহা প্রধান বিচারপতি থাকাকালে নির্বাহী বিভাগ তথা সরকারের সঙ্গে তার এক ধরনের অস্তস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সিনহার বেশ কিছু বিরূপ মন্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে সরকারি দলের শীর্ষ নেতারাও।

সিনহার জায়গায় প্রধান বিচারপতির পদ পাওয়া মাহমুদ হোসেন বলছেন, ‘যেখানে এই তিনটি অঙ্গের কাজের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থাকে, সেখানে উন্নয়ন ব্যাহত হয়। এই তিনটি অঙ্গের কাজের মধ্যে যেন সমন্বয় রক্ষা করা যায় সেজন্য আমি সব সময় চেষ্টা করব।

‘সুপ্রিম কোর্ট যেন সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে সংবিধান অনুসারে তার নিজ দায়িত্ব পালন করে সেটিও আমি নিশ্চিত করতে চেষ্টা করব। বিচার বিভাগের অগ্রসরতার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন আমি তার সবকিছু করার চেষ্টা করব ‘

বিচার বিভাগরে জন্য বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি, বিচারকদের জন্য দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, দেশে একটি ন্যাশনাল জুডিসিয়াল একাডেমি প্রতিষ্ঠা, মামলা অনুপাতে বিচারক সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিচার প্রক্রিয়ার গতি তরান্বিত করতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালানো ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রাথমিক লক্ষ্য হবে বলেও জানান মাহমুদ হোসেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের এমনভাবে আদালতের ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে হবে যেন আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করার সাথে সাথে শক্তিমান-দুর্বল, ধনী-গরিব সকলের মধ্যে এই বিশ্বাস জন্মে যে তারা সকলেই সমান এবং আদালতের নিকট হতে শুধুমাত্র আইন অনুযায়ী তারা ন্যায় বিচার পাবেন। এতে করে আদালতের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা দৃঢ় হবে।’ -ডেস্ক