(দিনাজপুর২৪.কম) শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষার জন্য ৩৫ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের (অডিট ফার্ম) প্যানেল চূড়ান্ত করেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। শিগগির এ প্যানেল ঘোষণা করবে সংস্থাটি।
সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, কমিশন নির্ধারিত এ প্যানেলের বাইরে অন্য কোনো অডিট ফার্ম দিয়ে করানো নিরীক্ষা প্রতিবেদন গ্রহণ করবে না কমিশন। সময়ে সময়ে এ প্যানেল সংশোধন করা হবে। অডিট ফার্মের অংশীদার, জনবল, কর্মদক্ষতা, বিদেশি কোনো অডিট ফার্মের সঙ্গে অংশীদারী চুক্তিসহ আরও কিছু যোগ্যতার মাপকাঠিতে এ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ২৮৩টি। এ ছাড়া ৪১টি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড এবং ১১টি বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড রয়েছে।
বিএসইসির এক কর্মকর্তা জানান, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন জোরালো করতে নিরীক্ষা প্রতিবেদনের মানোন্নয়ন, গ্রহণযোগ্যতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া হিসেবে প্রাথমিকভাবে এ অডিট ফার্ম প্যানেল করা হচ্ছে। এ জন্য কমিশন ইতিপূর্বে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্যানেলভুক্ত হওয়ার জন্য আগ্রহপত্র আহ্বান করে। এতে ৫৬ অডিট ফার্ম সাড়া দেয়।
বিএসইসির ওই কর্মকর্তা আরও জানান, অডিটর প্যানেল করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর সুনাম এবং কত বছর কার্যক্রম পরিচালনা করছে, অর্থাৎ অভিজ্ঞতার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বড় ধরনের কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট অডিট ফার্মকে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কালো তালিকাভুক্ত করার বিধান থাকবে। অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য হলে ওই প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিলের জন্য আইসিএবিকে চিঠি দেবে বিএসইসি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, কোম্পানির নিরীক্ষা প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে এর সরাসরি সুফল পাবে সংশ্লিষ্ট সব কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা। পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধও ঠেকানো যাবে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।

এ ছাড়া শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে দেশের মানুষ আরও বেশি আস্থা পাবেন এবং আগ্রহী হবেন।
কেবল অডিট ফার্ম প্যানেল করাই নয়, নিরীক্ষা প্রতিবেদনগুলো যথাযথভাবে তৈরি হচ্ছে কি-না, তা পর্যবেক্ষণের জন্য দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে করপোরেট গভন্র্যান্স বিভাগকে আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেবে বিএসইসি। এ ক্ষেত্রে বিভাগে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট নিয়োগের শর্ত আরোপ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
কমিশন কর্মকর্তারা জানান, তালিকাভুক্ত প্রবিধানমালার (লিস্টিং রেগুলেশনস) দুর্বলতার কারণে এতদিন স্টক এক্সচেঞ্জগুলো তালিকাভুক্ত কোম্পানির কাছে ব্যাখ্যা তলব করতে পারত না। তবে এ বছর নতুন করে এ প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে স্টক এক্সচেঞ্জকে বেশ ক্ষমতায়িত করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির অডিট রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডেকে পাঠাতে পারবে। শেষ পর্যন্ত সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলে স্টক এক্সচেঞ্জ পর্যবেক্ষণ পাঠালে কমিশন ব্যবস্থা নেবে।
তারা আরও বলেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিরীক্ষা প্রতিবেদনের মানোন্নয়নে ইতিমধ্যে নিরীক্ষকদের সংগঠন ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আইসিএবি নিরীক্ষকদের নিবন্ধন দিয়ে থাকে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।(ডেস্ক)