বি. এম. জুলফিকার রায়হান (দিনাজপুর২৪.কম) সারা দেশে একযোগে গত রোববার (৭ ফেব্রুয়ারী) সকালে বহু কাংখিত কোভিট-১৯ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমের উদ্ভোধন হয়েছে। সরকারী পরিপত্র অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রমের সাথে জড়িতদের সর্বাগ্রে টিকা নিতে হবে। কিন্তু তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র কোনো ডাক্তার বা নার্স ভ্যাকসিন নিতে রাজি হননি। অগত্যা জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ আমিনুর শেখ’র শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে তালায় এই কার্যক্রম উদ্ভোধন করা হয়। ভ্যাকসিন গ্রহিতা আমিনুর শেখ উপজেলার আটুলিয়া গ্রামের মৃত সিরাজ শেখের পুত্র।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে তালা সরকারী হাসপাতালে কোভিট-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজিব সরদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তারিফ-উল-হাসান। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তালা থানার ওসি মো. মেহেদী রাসেল, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সরদার মশিয়ার মহমান ও মুর্শিদা পারভিন পাপড়ি।
সভা শেষে, উদ্বোধনী দিনে ভ্যাকসিন গ্রহনের জন্য অনলাইনে আবেদন করা তালা উপজেলার ১৮জন ব্যক্তির মধ্যে কাউকে ভ্যাকসিন নিতে দেখা যায়নি। এই তালিকায় তালা হাসপাতালের ডাক্তারগন থাকলেও তাঁরা কেউ ভ্যাকসিন গ্রহন করতে আগ্রহী হননি। এমনকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা-ও আগ্রহী হননি। যদিও ভ্যকসিন প্রদানের সময়ে সকল ডাক্তার সহ স্বাস্থ্য কর্মীরা উপস্থিত থাকলেও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তাঁরা ভ্যাকসিন নেননি। অগত্যা গ্রাম পুলিশ আমিনুরকে সামনে পেয়ে তাকে টিকা প্রদানের মাধ্যমে তালায় কোভিড-১৯ প্রতিষেধকের ভ্যকসিন প্রয়োগ করে কার্যক্রমের উদ্ভোধন করা হয়। ডাক্তারদের এমন অবহেলার বিষয়টি জানাজানি হলে তালার সকল মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
গ্রাম পুলিশ আমিনুর বলেন, হাসপাতালের কেহই টিকা নিতে রাজি না হওয়ায় আমি সাহস করে এগিয়ে গিয়ে টিকা নিয়েছি।
ডা. রাজিব সরদার বলেন, তালায় ভ্যাকসিন গ্রহনের জন্য ১৮জন ব্যক্তি আবেদন করেন। এরমধ্যে উদ্বোধনী দিনে ১জনকে প্রয়োগ করে কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। তিনি জানান, সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে সকলে সঠিক ভাবে আবেদন না করায় আবেদন কম রয়েছে।
প্রসঙ্গক্রমে ডা, রাজিব সরদার বলেন, হাসপাতালের সকল ডাক্তাররা পর্যায়ক্রমে পরবর্তীতে ভ্যাকসিন গ্রহন করবেন।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার বলেন, হাসপাতালের ডাক্তার বা নার্সরা টিকা না নেওয়া দুঃখজনক। সবার আগে তাদের টিকা নিয়ে মানুষের মধ্যে ভীতি দূর করতে হবে। তা না হলে সরকারের এ মহতি উদ্দ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।