বি. এম. জুলফিকার রায়হান তালার শাহাপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিত মিথ্যা মামলায় এক স্কুল শিক্ষক সহ একই পরিবারের আরো ৪জন নারী এবং পুরুষকে হয়রানী করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার শাহাপুর গ্রামের আনছার শেখের ছেলে নাজিম উদ্দীন ও তার পরিবারের সদস্যরা এই অভিযোগ করেন।
নাজিম উদ্দীন জানান, শাহাপুর গ্রামে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত এস.এ ৮৭ নং খতিয়ানের ১২২৯ ও ১২৩০ দাগের ভোগ দখলীয় বাঁশ বাগান ও কবরস্থানের জমি অবৈধ ভাবে এবং জোর করে শরিক আলাউদ্দীন শেখ লোকজন নিয়ে গত ১৬/০৯/১৯ তারিখে দখলের চেষ্টা করে। এসময় বাঁধা দিলে তারা ধারালো অস্ত্র সহ লোহার রড দিয়ে হামলা চালায়। দূর্বৃত্ত আলাউদ্দীন গংদের হামলায় নাজিম উদ্দীন শেখ ও তার স্ত্রী নাসিমা বেগম এবং কামরুল শেখ ও তার স্ত্রী পারভীন বেগম সহ ৫জন আহত হয়। এদেরমধ্যে গুরুতর আহত কামরুল শেখ, পারভীন বেগম ও নাসিমা বেগমকে তালা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এঘটনায় আলাউদ্দীন গংদের বিরুদ্ধে কামরুল ইসলাম তালা থানায় একটি মামলা (১০/১৯) দায়ের করেন।
নাজিম উদ্দীন বলেন, হামলার ঘটনা থেকে রেহায় পেতে এবং উল্টো আমাদের ফাঁসানোর জন্য আলাউদ্দীন শেখ পরিকল্পিত ভাবে ওই একইদিন তালা হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে সে বিজ্ঞ আদালতে একটি কাউন্টার মামলা (১৬৮/১৯) দায়ের করে। মামলায় পরিকল্পিতভাবে শাহাপুর সিরাজ উদ্দীন গাজী স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জুয়েলকে সহ ৫জনকে আসামী করা হয়। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে মামলাটি তালা থানা পুলিশ তদন্ত করছে।
ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষক জুয়েল গাজী বলেন, ঘটনার দিন তিনি স্কুলে ছিলেন। এমতাবস্থায় আলাউদ্দীন শেখ গং জমি দখল করতে যেয়ে কামরুল শেখদের মারপিট করেছে বলে তিনি জানতে পারেন। অথচ, আলাউদ্দীন শেখ বিজ্ঞ আদালতে মিথ্যা ও হয়রানীকর মামলা দায়ের করে তার শিক্ষকতার চাকরির ক্ষতিসাধন সহ কামরুল শেখের নিরিহ পরিবারকে হযরানী করার চেষ্টা করছে। এঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তিনি প্রশাসনের নিকট দাবী জানান।
এবিষয়ের শাহাপুর সিরাজ উদ্দীন গাজী স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজিজুর রহমান গাজী জানান, কামরুল শেখদের জমি দখল করা নিয়ে আলাউদ্দীন শেখ’র হামলার ঘটনার সময় শিক্ষক জুয়েল গাজী স্কুলের অবস্থান করছিলেন। চাকরির ক্ষতিসাধন করার জন্য পরিকল্পিত মামলায় শিক্ষক জুয়েলকে আসামী করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।