বি. এম. জুলফিকার রায়হান তালা (দিনাজপুর২৪)  উপজেলার জাতপুর গ্রামে সৎ পিতার পাশবিক ও শারীরিক অত্যাচারে লিপি খাতুন (১৬) নামের এক মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর ঘটনার সাথে সৎ পিতা, সৎ মাতা ও নিজ মাতা জড়িত থাকার অভিযোগ এনে তালা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে এই মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাঁপা দিতে সৎ পিতা বিভিন্ন মহলে দোড়ঝাপ শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে লিপির চাচা অভয়নগর উপজেলার শংকরপাশা গ্রামের মেহেদী হাসান জানান, প্রায় ১৮ বছর পূর্বে লিপির মা শিউলি বেগম’র সাথে প্রথম বিয়ে হয় যশোরের অভয়নগর উপজেলার শংকরপাশা গ্রামের মৃত শামছুর খাঁর’র পুত্র শরিফ হোসেন খাঁ’র সাথে। এখানে শিউলী বেগমের লিপি ও লতা নামের দু’টি কন্যা সন্তান হবার পর স্বামী শরিফ খাঁ মারা যান। একপর্যায়ে শিউলী বেগম দুই কন্যাকে নিয়ে পিতার বাড়ি তালা উপজেলার খেশরা-ডুমুরিয়া গ্রামে চলে আসে। পিতার বাড়িতে অভাবের কারনে শিউলী জাতপুর গ্রামের একটি ধান চাতালে কাজ শুরু করে। এসময় একই চাতালে কাজ করা তালার মাহমুদপুর গ্রামের রজব আলী শেখের পুত্র মনি শেখের কূ-নজরে পড়ে শিউলী বেগম। জাতপুর গ্রামে ঘর জামাই হিসেবে বসবাস করা মনি শেখ এক পর্যায়ে বাধ্য করে শিউলী বেগমকে বিয়ে করে।
লিপির মামা তালার খেশরা-ডুমুরিয়া গ্রামের আদম আলী মোড়ল জানান, বিয়ের পর শিউলী বেগম তার দু’কন্যাকে নিয়ে জাতপুরে স্বামী মনি শেখের সাথে ঘর সংসার করছিল। এরইমধ্যে শিউলীর প্রথম স্বামীর বড় কন্যা লিপি খাতুন বড় হথে থাকলে তারও প্রতি নজর পড়ে সৎ পিতা মনি শেখের। মনি শেখ বিভিন্ন সময় কন্যা লিপি খাতুনকে জোরপূর্বক ধর্ষন করে। বিষয়টিতে মা শিউলী বেগম বাঁধা দিলে, মা ও কন্যার উপর মনি শেখ শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন চালাতো। এমনকি শিউলী বেগম একাধিকবার তার কন্যাদের নিয়ে পিতার বাড়িতে চলে গেলেও বালিয়া গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে শালিস সভার মাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে মনি শেখ তাদের আবারও জাতপুর গ্রামে ফিরিয়ে আনতো। বাড়িতে ফিরিয়ে এনেই মনি শেখ মা ও মেয়ের উপর চালাতো অকথ্য নির্যাতন। নির্যাতন সইতে না পেরে লিপি একাধিকবার বাড়ি ছেড়ে ঢাকাতে চলে গেলেও সেখান থেকে আবার ফিরিয়ে আনা হতো। লিপির অপর মামা আব্দুল জব্বার জানান, সৎ পিতা হয়েও মনি শেখ প্রতিনিয়ত লিপিকে ধর্ষন করতো। পৈশাশিক এঘটনাটি লিপি ফাঁস করে দিলে, বুধবার শিশু লিপির উপর সৎ পিতা মনি শেখ, মাতা শিউলী বেগম ও সৎ মাতা জোসনা বেগম অমানুষিক ভাবে শারীরিক নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে লিপির মৃত্যু হলে তার মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে বিষয়টি আতœহত্যা বলে অপপ্রচার চালানো হয়। পরে সংবাদ পেয়ে তালা থানা পুলিশ নিহত লিপির লাশ উদ্ধার করে। ওইদিন রাতে তালা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। বৃহস্পতিবার লিপির মরদেহ সাতক্ষীরা মর্গ থেকে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। এদিকে, লিপিকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে লিপির মামা হায়দার মোড়ল বৃহস্পতিবার তালা থানায় ৩জনের নামে একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। এবিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিন্টুলাল দাস জানান, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাবার পর প্রয়োজনীয় আইনগত সকল ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।