বি. এম. জুলফিকার রায়হান (দিনাজপুর২৪.কম) স্বামীকে মারপিট করার প্রতিবাদ করায় সাতক্ষীরার তালায় স্ত্রীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে খুন করেছে দূর্বৃত্তরা। ঘটনার পর থেকে খুনিরা বাড়ি ছেড়ে পালালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে। তবে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার সকালে ৩ জনকে আটক করা হলেও তালা থানার ওসি মো. মেহেদী রাসেল মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য তাদের নাম প্রকাশ করেননি। খুনের ঘটনাটি ঘটেছে, মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মহান্দি গ্রামে। নিহত গৃহবধূ নাসিমা বেগম (৪৫) এই গ্রামের নাজের শেখ’র স্ত্রী।
নিহত গৃহবধূর ননদ শাহানারা বেগম জানান, প্রতিবেশি করিম মোড়ল’র ছেলে মনিরুল মোড়ল ও নরিম মোড়ল’র ছেলে মিন্টু মোড়ল চুরির মিথ্যা অভিযোগ তুলে গত বুধবার বিকালে নাজের শেখকে বেধম মারপিট করলে সে গুরুতর আহত হয়ে প্রায় ১সপ্তাহ বাড়িতে চিকিৎসাধিন রয়েছে। এঘটনার প্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে নাজের শেখ’র স্ত্রী নাসিমা বেগম গ্রামের গভীর নলকূপ থেকে পানি আনতে যায়। এসময় তিনি মনিরুল ও মিন্টু’র দেখা পেয়ে তার স্বামীকে মারপিট করার প্রতিবাদ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মিন্টু মোড়ল, মনিরুল মোড়ল ও তার স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম সহ দু’ বোন আমেনা বেগম এবং জামেলা বেগম হামলা চালিয়ে নাসিমা বেগম’র মাথায় কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
এসময় এলাকার লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় নাসিমা বেগমকে উদ্ধার করে স্থানীয় মহান্দি বাজারের গ্রাম্য ডাক্তার শহিদুল মোল্যার কাছে নিয়ে যায়। এখান থেকে এই ডাক্তারের পরামর্শে মুমুর্ষ নাসিমা বেগমকে বাড়ি আনার পর মঙ্গলবার সকালে সে মারা যায়।
নিহত নাসিমা বেগমের স্বামী নাজের শেখ জানান, হুমকি দিয়ে হামলাকারীরা তার স্ত্রীকে তালা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা করাতে দেয়নি। এছাড়া, গ্রাম্য ডাক্তার শহিদুল মোল্যা হামলাকারীদের নিকট আত্মীয় হওয়ায় সে পরিকল্পিত ভাবে অবস্থা আশংকাজনক দেখার পরও নাসিমা বেগমকে নিজের অধিনে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করায়। মঙ্গলবার সকালে নাসিমা বেগম মারা গেলে গ্রাম্য ডাক্তার শহিদুল মোল্যা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
মঙ্গলবার দুপুরে এরিপোর্ট লেখাকালে নিহত গৃহবধুর স্বামী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এদিকে, ঘটনার সংবাদ পেয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (তালা সার্কেল) মো. হুমায়ুন কবির ও তালা থানার ওসি মো. মেহেদী রাসেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং নিহত’র লাশ ময়না তদন্ত করার জন্য সাতক্ষীরা মর্গে প্রেরন করেছে।