বি.এম. জুলফিকার রায়হান, তালা (দিনাজপুর২৪.কম) সাতক্ষীরার তালা উপজেলার উত্তর সুজনশাহা ব্লকে হাইব্রীড শক্তি-২ জাতের আউশ ধান চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি আউশ মৌসুমে কৃষকরা স্থানীয় জাতের ধানের বদলে হাইব্রীড ধান চাষ করে একর প্রতি ৯০মন ধান উৎপাদন করেছে। পূর্বে আউশ মৌসুমে কৃষকরা দেশীয় উফশী জাতের ধান চাষ করে একর প্রতি গড় ৩০ মন ধান উৎপাদন করতো। কিন্তু উন্নত প্রজাতীর হাইব্রীড শক্তি-২ ধান চাষ করে এবর একর প্রতি গড় ৯০ মন ধান উৎপাদন করেছে। আউশ মৌসুমে ধানের এই বাম্পার ফলনে কৃষক’র মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস ও বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক’র সহযোগীতায়, চলতি আউশ মৌসুমে উপজেলার উত্তর সুজনশাহা ব্লকে ২৬ একর জমিতে ৪৪জন কৃষক উন্নত প্রজাতীর হাইব্রীড শক্তি-২ ধান চাষ করে। বাম্পার ফলন হওয়া উক্ত ধান রোববার বিকালে আনুষ্ঠানিক কর্তন উপলক্ষ্যে ব্র্যাকের শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস সভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্র্যাক তালা শাখার সিনিয়র ম্যানেজার কল্যাণ হালদার’র সভাপতিত্বে, সভায় তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, উপজেলা কৃষি অফিসার- কৃষিবিদ মো. সামছুল আলম ও ইসলামকাটী ইউপি চেয়ারম্যান রঞ্জন রায়। ব্র্যাক কর্মী তাপস কুমার ঢালী’র পরিচালনায়, সভায় অন্যান্যের মধ্যে সাংবাদিক বি.এম. জুলফিকার রায়হান, ইউপি সদস্য সালাউদ্দীন বাবু, ব্র্যাক কর্মী প্রদ্যুৎ কুমার ঢালী, নুরুল হুদা, আনোয়ার হোসেন, স্থানীয় কৃষক আজিজুল ইসলাম, শিবুপদ, ইউছুপ আলী, কালীপদ, গৌরনন্দী, সুফিয়া বেগম, রেহেনা বেগম ও নরেশ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এসময় ব্র্যাক তালা শাখার সিনিয়র ম্যানেজার কল্যাণ হালদার জানান, ব্র্যাকের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায়, চলতি আউশ মৌসুমে উপজেলার উত্তর সুজনশাহা ব্লকে হাইব্রীড শক্তি-২ জাতের ধান চাষ হয়। ব্র্যাক কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কৃষকরা ধানক্ষেতে লোগো ও পার্সিং ব্যবহার করে। এছাড়া ৪০/৪৫ দিনের পরিবর্তে ২০/২৫ দিন বয়সের চারা রোপন করায় ধানের কাংখিত ফলন পাওয়া গেছে। তালা উপজেলা কৃষি অফিসার, কৃষিবিদ মো. সামছুল আলম ধানের উচ্চ ফলনে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, উন্নত প্রজাতীর হাইব্রীড শক্তি-২ ধান চাষ করাতে একদিকে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে, অপরদিকে কৃষকরা অধিক লাভবান হয়েছে। তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আউশ ধান চাষ করে কৃষকরা একর প্রতি ৯০ মন ধান উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে, যা’ খুবই উৎসাহব্যাঞ্জক। তিনি বলেন, অল্প জমিতে অধিক ফসল উৎপাদন করার জন্য এখানকার কৃষকরা দের্শীয় জাতের ধান চাষের বদলে এবার উন্নত প্রজাতীর হাইব্রীড শক্তি-২ ধান চাষ করে সফলতা অর্জন করেছে। এসময় তিনিÑ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ধানচাষে অধিক লাভ অব্যাহত রাখতে আগামীতে আধুনিক পদ্ধতিতে উন্নত প্রজাতীর ধানচাষের জন্য সকল কৃষকদের আহবান জানান।