বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা, সাতক্ষীরা (দিনাজপুর২৪.কম) সাতক্ষীরার তালা থানা পুলিশের সাথে তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (এম.এল জনযুদ্ধ) এর আঞ্চলিক নেতা মোজাফফর সানা গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের চারিখাদা বটতলায় বন্দুকযুদ্ধের এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১টি মোটর সাইকেল, ১টি দেশীয় তৈরী ওয়ান শুটার বন্দুক, ৩ রাউন্ড গুলি ও বিষ্ফোরিত বোমার অংশ বিশেষ উদ্ধার করেছে।
নিহত মোজাফফর সানা দোহার গ্রামের আবদুল গফফার সানার ছেলে। প্রায় ১৫ বছর আগে পূর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে নিজ নামে বাহিনী গঠন করে এলাকায় সে ব্যাপক অপকর্ম চালাচ্ছিল। সাতক্ষীরা ডিএসবির তালিকাভূক্ত ২৫ নং সন্ত্রাসী মোজাফ্ফ একাধিকবার পুলিশের হাতে আটক হয়। সর্বশেষ জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়লে, পুলিশ তাকে খুঁজতে থাকে। যে কারনে সে ভারতে পালিয়ে যায়। সম্প্রতি এলাকায় ফিরে এসে আবারো ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই ও ধর্ষনের মত অপরাধে সংগঠিত করে। অতিশীঘ্রই তালার জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের শীর্ষ এক নেতাকে খুন করার জন্য মোজাফ্ফরের পরিকল্পনা ছিল বলে একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে তালা থানায় ৩টি হত্যা মামলা সহ সাতক্ষীরা এবং নওগাঁ জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্র আইন, বিস্ফোরক, দস্যুতা ও চাঁদাবাজিসহ ১৫টি মামলা রয়েছে।
তালা থানার ওসি মো. ছগির মিয়া জানান, পুলিশের বিশেষ অভিযান চলাকালে তার নেতৃত্বে¡ পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মাগুরা ইউনিয়নের চারা বটতলা এলাকায় টহলে ছিল। এ সময় ২টি মটরসাইকেলে তিনজন আরোহী দ্রুত বেগে চলে যাবার চেষ্টা করলে  পুলিশ তাদের চ্যালেঞ্জ করে। সাথে সাথে ১টি মটরসাইকেল মাগুরা অভিমূখে পালিয়ে যায় এবং অপর মটরসাইকেল থেকে সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ ও গুলি ছোড়ে। পরে আতœরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পুলিশের গুলিতে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মোজাফফর সানা আহত হয়। রাত ৪টার দিকে তাকে তালা হাসপাতালে আনা হলে হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
তবে, পুলিশের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা অস্বীকার করে একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানিয়েছে, চরমপন্থী ক্যাডার মোজাফ্ফর বুধবার বিকালে উপজেলার ইসলামকাটী ইউনিয়নের সুজনশাহা বাজারে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করে। এদিন রাতে এলাকার অন্য সঙ্গীদের সাথে নিয়ে সে বাউখোলা গ্রামে জামাল শেখের বাড়ি সহ একাধিক বাড়িতে চুরি এবং ডাকাতি করে। এছাড়া এক গৃহবধুকে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে সারারাত ধর্ষন করে। বৃহস্পতিবার সকালে এলাকাবাসী একটি বিল থেকে গৃহবধু (৩৫)কে উদ্ধার করে তালা হাসপাতালে নিয়ে আসে। এখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওইদিন তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। এদিকে সারারাত চুরি, ডাকাতি ও ধর্ষন শেষে বৃহস্পতিবার ভোররাতে পালিয়ে যাবার সময় সুজনশাহা বাজারের পাহারাদাররা মোজাফ্ফরকে আটক করে তালা থানা পুলিশে সোপর্দ করে। বৃহস্পতিবার পুলিশ তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী অন্য অপরাধীদের আটকের জন্য মোজাফ্ফরকে সাথে নিয়ে ইসলামকাটী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৩জনকে আটক করে। শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে ওই ৩জনকে থানা হাযতে আটক রেখে চরমপন্থী মোজাফ্ফরকে চারিখাদা এলাকায় নিয়ে গেলে কথিত বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটায়। তবে, চরমপন্থী মোজাফ্ফর নিহত হওয়ায় তালার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।