বি. এম. জুলফিকার রায়হান (দিনাজপুর২৪.কম) তালার জেঠুয়া গ্রামে এক গৃহবধুর (২৫) নগ্ন ছবি তুলে জিম্মি করে তাকে ৩বার ধর্ষন করা হয়েছে। পরে আবারও ওই গৃহবধুকে ধর্ষনের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ায় গৃহবধুর নগ্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। সেই ছবি ভাইরাল হওয়ায় নির্যাতিত গৃহবধু কামাল সানা নামের এক নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষন সহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে। এঘটনার তালা থানার ওসি মো. মেহেদী রাসেল’র নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় লম্পট কামাল সানাকে গ্রেফতার করেন। আটক কামাল সানা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক ও দোহার গ্রামের মৃত. ফাজেল সানা’র ছেলে।
মামলা সুত্রে জানাগেছে, ইটভাটা শ্রমিক স্বামী যশোরে থাকার সুযোগে বাড়ির জমির বিরোধ মিমাংশার জন্য আওয়ামীলীগ নেতা কামাল সানা ওই গৃহবধুর বাড়িতে তার মোবাইল নং সংগ্রহ করে। পরে কামাল সানা ২ সন্তানের জননী ওই গৃহবধুকে ফোনের মাধ্যমে কু-প্রস্তাব দিতে থাকে। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়ার একপর্যায়ে কামাল সানা নানান হুমকি দিয়ে গৃহবধুকে নদীর ধারে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে এক সহযোগীর মাধ্যমে কামাল তার একাধিক অশ্লিল ও আপত্তিকর ছবি তোলে। পরবর্তীতে ওই ছবি স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেবার হুমকি দিয়ে লম্পট কামাল সানা গত ১ মাসে গৃহবধুকে ৩দফায় ধর্ষন করে। এরপর আবারও ধর্ষনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে লম্পট কামাল সানা তার সহযোগী হাফিজের মাধ্যমে সেই আপত্তিকর ছবি “অভিমান” নামের একটি ফেসবুক আইডির মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এছাড়া ছবিগুলো গৃহবধুর স্বামী সহ প্রতিবেশিদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। গত এক সপ্তাহ ধরে আওয়ামীলীগ নেতা কামাল সানা ও গৃহবধুর সেই নগ্ন ছবি ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্ষোভে, দুঃখে গৃহবধু সহ তার ইট ভাটা শ্রমিক স্বামী গলাই ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
এব্যপারে তালা থানার ওসি মো. মেহেদী রাসেল জানান, নির্যাতিত ওই গৃহবধু বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে তালা থানায় কামাল সানা ও অজ্ঞাত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাত দমন আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা (০৯/১৯) দায়ের করেছে। বিষয়টি তৎক্ষনাত উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে একদল চৌকোস পুলিশ অফিসার নিয়ে দোহার গ্রামে অভিযান চালানো হয়। সেখানকার একটি বিলের ধানক্ষেতে পালিয়ে থাকাকালে কামাল সানাকে আটক করা হয়। শনিবার সকালে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলা হাযতে প্রেরন করা হয়। এছাড়া সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভিকটিম গৃহবধুকে পরীক্ষা করানোর জন্য পাঠানো হয়। মামলাটির অধিকতর তদন্ত করা হবে এবং ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে- ওসি মেহেদী রাসেল জানান।
এঘটনায়, জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি রবিউল ইসলাম মুক্তি বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের মিটিং করে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে সাংগঠকি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া তালা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম জানান, কামাল সানা জালালপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী। সে কোনও অপরাধ করলে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। আর আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, আওয়ামীলীগ নেতা কামাল সানার অশ্লিল ছবি চারিদিক ছড়িয়ে পড়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে এলাকায় ব্যপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।