বি. এম. জুলফিকার রায়হান (দিনাজপুর২৪.কম)  তালার কুমিরা মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আদিত্য ব্যানার্জীকে পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসাতে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। পূর্ব শত্রুতাকে কেন্দ্র করে একটি মহলের উস্কানিতে কতিপয় ব্যক্তি ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে পাবলিক পরীক্ষার খাতা ও অনার্স পড়–য়া ছাত্রীর অনাকাংখিত ছবি তুলে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে প্রভাষক আদিত্য ব্যানার্জী অভিযোগ করেন। এঘটনায় সচেতন মানুষের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
উপজেলার কুমিরা মহিলা কলেজ’র প্রভাষক আদিত্য ব্যানার্জী বলেন, তাঁর নিজ এলাকার একটি মহল পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দীর্ঘদিন ধরে তাকে নানাবিধ ক্ষতিসাধন করার জন্য পিছে লেগে রয়েছে। ওই মহলটি প্রতিনিয়ত প্রভাষক আদিত্য ব্যানার্জীকে সামাজিক, পারিবারিক ও জীবন নাশের হুমকি দেয়া সহ নানাবিধ ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।
তিনি জানান, চলতি বছরে অনুষ্ঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিন অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষার ৫০টি খাতার নাম্বার মূল্যায়ন শেষে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই কলেজের আবাসিক ছাত্রী ও নিকট আত্বীয়’র হেফাজতে রেখে যান। কিন্তু গত বুধবার সরকারি ছুটির দিনে ৪/৫জন যুবক পরিকল্পিত ভাবে কুমিরা মহিলা কলেজে অবৈধ ভাবে প্রবেশ করে গোপনে কলেজ ছাত্রী’র একাধিক ছবি ক্যামেরায় ধারন করে। সেসময় ওই ছাত্রী কলেজের মধ্যে ঘরোয়া পরিবেশে এবং ওড়নার বিকল্প হিসেবে গামছা পরিধান করা ছিল। একপর্যায়ে ওই যুবকরা কলেজ ছাত্রীকে ছবির ভয় দেখিয়ে রুমের ভিতরে রক্ষিত জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের অধিন অনার্স প্রথম বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরীক্ষার সকল খাতা বাইরে আনতে বাধ্য করে। এসময় ওই যুবকরা পরীক্ষা একাধিক খাতার সহ ছাত্রীর আরো একাধিক ছবি তোলে।
প্রভাষক আদিত্য ব্যানার্জী বলেন, অবৈধভাবে ছবিগুলো ক্যামেরায় তোলার পর ওই যুবকরা সহ আমার প্রতিপক্ষরা পরস্পর যোগসাজসে কলেজ ছাত্রীর অনাকাংখিত অবস্থার এবং অনার্স পরীক্ষা খাতার ছবি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য সম্বলিত ভাবে অপপ্রচার করে। একই সাথে তারা অনার্স পরীক্ষার ওই খাতায় প্রশ্নের উত্তর লেখা অংশ সহ কভার পৃষ্টা প্রকাশ করে খাতার গোপনীয়তা ফাঁস করে দেয়।
এবিষয়ে কুমিরা মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নীং বডির সদস্য নারায়ন মজুমদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষক অপরাধ করলে তদন্ত সাপেক্ষে তার শাস্তি হবে, কিন্তু একটি মহিলা কলেজকে সংশ্লিষ্ট করে ওই কলেজ’র ছাত্রীর আপত্তিকর অবস্থার ছবি সহ পাবলিক পরীক্ষার খাতা ইন্টারনেটে দেয়া চরম অপরাধ। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করা হচ্ছে। একই সাথে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
পাটকেলঘাটা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল হাই জানান, শিক্ষক অপরাধ করলে তার শাস্তি হতে পারে। কিন্তু ইন্টারনেটে কলেজ ছাত্রীর ও পাবলিক পরীক্ষার খাতার ছবি দেয়া মোটেই ঠিক হয়নি।
এব্যপারে সংশ্লিষ্ট কলেজ’র অধ্যক্ষ লুৎফুন আরা জামান’র মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় তাঁর মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুেেদ্ধ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিশ^স্ত সূত্রে জানাগেছে।
এঘটায় তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন জানান, অনলাইনে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিউজটি দেখেছি। কিন্ত একজন ছাত্রীর বিনা অনুমোতিতে তার ছবি তুলে তা প্রকাশ করা এবং পাবলিক পরীক্ষার খাতা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দয়ার ঘটনায় তিনি বিষ্ময় প্রকাশ করেন।