বি. এম. জুলফিকার রায়হান (দিনাজপুর২৪.কম) তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তারিফ-উল-হাসান’র নির্দেশনায় তালায় বিপন্ন প্রজাতীর পাখি শিকার রোধ ও আটক পাখি উদ্ধারে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। উপজেলার মহান্দি, রহিমাবাদ ও বেতগ্রামে অভিযান চালিয়ে পাখি ও পাখি শিকারের ফাঁদ উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার হওয়া পাখি উন্মুক্ত করে ফাঁদগুলো ভেঙ্গে দেয়া হয়। তালা উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী’র উপস্থিতিতে বাংলাদেশ জীব-বৈচিত্র সংরক্ষন ফেডারেশন’র অঙ্গ সংগঠন- ওয়াইল্ড লাইফ মিশন বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারী) সকালে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে তালার রহিামাবাদ গ্রামের হাকিম শেখ এর বাড়ি থেকে খাচায় আটক ৩টি বিপন্ন প্রজাতীর ঘুঘু পাখি, মহান্দি গ্রামের বজলু ওরফে ভজুর বাড়ি থেকে আটক বিপন্ন প্রজাতীর ১১টি মুনিয়া পাখি ও ১টি ঘুঘু পাখি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বেতগ্রামের ইউছুপ মোড়ল’র বাড়ি থেকে ১টি ডাউক ও ১টি ঘুঘু পাখি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত পাখিদের মধ্যে বিশেষ প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত ১টি ডানা কাটা শিকারী ঘুঘু উড়তে অক্ষম হওয়ায় সেটি চিকিৎসার জন্য হেফাজতে রাখা হয় এবং অন্য পাখিগুলো অবমুক্ত করা হয়। তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তারিফ-উল-হাসান বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা বন বিভাগ থেকে পাখিগুলো উন্মুক্ত করেন। একইসাথে উদ্ধার হওয়া পাখি ধরার ৮টি বিশেষ খাচা এবং ফাঁদের সরঞ্জাম নষ্ট করেন। এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
পাখি উদ্ধার অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে ওয়াইল্ড লাইফ মিশনের সাধারন সম্পাদক শিক্ষক মো. রাশেদ বিশ্বাস, তালা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারন সম্পাদক বি. এম. জুলফিকার রায়হান, বন বিভাগের স্টাফ মো. ইউনুচ আলী, ওয়াইল্ড লাইফ মিশনের সাংগঠনিক সম্পাদক রায়হান প্রিন্স, প্রচার সম্পাদক জসিম শেখ এবং সদস্য তানভীর হুসাইন বাবু ও আবীর হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তারিফ-উল-হাসান বলেন, পাখি শিকার এবং খাচায় পাখি আটকিয়ে রাখা দন্ডনীয় অপরাধ। পাখি শিকার এবং ক্রয়-বিক্রয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, যাদের কাছে পাখি সহ অন্যান্য বন্য প্রাণি পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।