আবু রায়হান, তালা (দিনাজপুর২৪.কম)  তালায় বিতর্কিত দূর্নীতিবাজ সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার গাজী মনিরুজ্জামান ও পেশকার অহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার কর্তৃক গঠিত ৩সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি, গতকাল মঙ্গলবার তদন্ত কাজ শুরু করেছে। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে গঠিত তদন্ত কমিটিকে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করতে হবে। গঠিত তদন্ত কমিটি সরকার পারমিশন কেস বন্ধ করে দেয়ার পর ভূয়া আপত্তি কেস সৃষ্টি করে আপীল কেস দাখিল করা হয়েছে কিনা, তামাদী মওকুফ বন্ধ থাকলেও অফিসের মূল রেজিষ্টার বই টেম্পারিং করে তারিখ পরিবর্তন করে তামাদী মওকুফ করা হয়েছে কিনা, ইতোপূর্বে দায়েরকৃত আপত্তি ও আপীল কেসগুলিতে টেম্পারিং এর মাধ্যমে বাদী বিবাদীর নাম পরিবর্তন কিম্বা নতুন নাম সংযোজন করা হয়েছে কিনা ইত্যাদি বিষয়গুলো সামনে রেখে তদন্ত কাজ শুরু করলে উল্লেখিত অভিযোগগুলির শত শত প্রমান মেলে। এদিকে তদন্ত চলাকালে ওই দুই ব্যাক্তির দূর্নীতিতে সহায়তাকারীদের মধ্য থেকে যে সকল সাংবাদিকরা জনগনকে রক্ষা করার জন্য বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করছেন তাদের বিরুদ্ধে পোষ্য এক কথিত সাংবাদিককে কয়েক হাজার টাকা দিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করিয়ে সংবাদের কাটিং তদন্তকারীদের সুকৌশলে ধরিয়ে দেন। তদন্তকারী টিম এক পর্যায়ে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহাবুবুর রহমানের সাথে সাক্ষাত করেন।
জানাযায়, তালা সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসের ৮টি বেঞ্চে বিভিন্ন মৌজার কার্য্যক্রম চলমান থাকলেও এই একটি মাত্র বেঞ্চে ওই দুই ঘুষখোর অফিসার যা খুশি তাই করছেন। তালার জনগন চায়, ওই দুই বিতর্কিত ব্যক্তির অপসারন ও বিভাগীয় মামলার আওতায় আনা। উল্লেখ্য যে, পেশকার অহিদুজ্জামান তালায় দুই বছর কর্মরত থাকলেও জাল জালিয়াতির কারনে একটি মৌজাও তার আমলে প্রিন্টে পাঠানো সম্ভব হয়নি। পাটকেলঘাটায় দায়িত্ব পালনকালে একই ভাবে বিতর্কিত কর্মকান্ডের পর অফিসটিকে পুড়িয়ে প্রায় ৭০টি মৌজার কাগজপত্র পুড়িয়ে ভষ্মিভূত করে দেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে ওই অফিস পোড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, গাজী মনিরুজ্জামান ইতোপূর্বে বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারনে আশাশুনি এবং শ্যামনগর উপজেলা থেকে জনরোষের মূখে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন। এসব বিষয়ে তদন্তকারী টিমের প্রধান সদর সেটেলমেন্ট অফিসার মো. মশিউর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, তদন্ত শেষ হবার আগে কোনও কিছুই বলা ঠিক হবে না। তবে, তদন্তে যা পাওয়া যাবে প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে তার ব্যাত্যয় ঘটবে না।