-ফাইল ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে যারা গুম, নিহত ও পঙ্গু হয়েছেন তাদের পরিবারকে এবারও ‘ঈদ উপহার’ দিয়েছে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এই উপহার দেওয়া হয়। মাত্র আড়াই হাজার টাকার উপহার নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হতাশা প্রকাশ করেছেন। আবার তা ঠিকভাবে বণ্টন না করায় জেলা নেতাদের মাঝেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভিন্ন চিত্রও পাওয়া গেছে। করোনা পরিস্থিতিতে দুস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে ঈদ উপহারও দিচ্ছেন বিএনপি নেতারা।

দলীয় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারাদেশে ১৩ লাখের অধিক পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা করা হয়েছে। বিএনপি নেতারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় দুস্থ মানুষের মাঝে এ সহায়তা দেন। এ ছাড়াও কৃষকের ধান কাটা ও চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে পিপিই বিতরণ এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন-ড্যাব বিনিমূল্যে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। যদিও করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে জনগণকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় আমাদের সময়কে বলেন, দলীয় নেতাকর্মী যারা যেখানে আছেন, যেমন সামর্থ্য আছে, তেমন সাহায্য দিচ্ছেন। নেতাকর্মীরা কেউ বসে নেই। সামনে ঈদ। এই সময়েও যাতে মানুষকে একটু খুশি করা যায় তার চেষ্টা করছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

দলটির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু তার নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীতে ২০ হাজারের মতো ও মো. শাহজাহান নোয়াখালী-৪ আসনের প্রায় ১৬ হাজার দুস্থ অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।

দুস্থদের মাঝে ত্রাণসামগ্রীর যেমন চাল, ডাল, তেল, আলু, লবণ, সাবানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এবার সেমাই, চিনি, শাড়ি, লুঙ্গিসহ ঈদ সামগ্রীও দেওয়া হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার গয়েশ্বরচন্দ্র রায়ের উদ্যোগে তার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৩ আসনের ২২০০ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে শাড়ি, লুঙ্গি বাসায় বাসায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ছিলেন তাবিথ আউয়াল ও প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। তারাও ত্রাণ বিতরণ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে গতকাল শুক্রবার সাবেক মন্ত্রী বরকতউল্লাহ বুলু বলেন, বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর গত ৩১ মার্চ থেকে আমরা ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করি। প্রতিটি ওয়ার্ডে একাধিকবার করে দরিদ্র শ্রেণির পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।

এদিকে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে গুম, নিহত, আহত ও পঙ্গু নেতাকর্মীদের ৮৬৭ পরিবারকে এ বছর ঈদ উপহার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির ৩৩৩ জন, যুবদলের ২৫২ জন, ছাত্রদলের ২৩১ জন এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের রয়েছে ৫১ জন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই তালিকায় বেশ কয়েক জনের নাম স্থান পায়নি, যারা আন্দোলন করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, আবার কেউ গুম হয়েছিলেন। এদের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নয়ন বাছার, যার পায়ে গুলি লেগেছিল। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মিরাজও দীর্ঘদিন গুম থাকার পর ফিরেছিলেন। ঢাকা মহানগরের এ রকম আরও কয়েক জন বিএনপির ঈদ উপহার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

কুমিল্লা জেলার এক নেতা জানান, তার জেলায় একটি প্রত্যন্ত এলাকায় বিএনপির একটি নির্যাতিত পরিবার রয়েছে। তাকে সিএনজি ভাড়া দিয়ে কুমিল্লা সদরে এসে আড়াই হাজার টাকা (বিএনপির ঈদ উপহার) নিতে হয়েছে। টাকা হাতে পাওয়ার পর ওই পরিবারটি কেঁদে ফেলেছেন। বলেছেন, যাতায়াতে খরচের পর যা থাকবে সেই টাকা দিয়ে কী হবে।

সাতক্ষীরা জেলার অলি মোল্লা নামের এক বিএনপি নেতা ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছিলেন। তার পরিবারে এখন ৭ জন সদস্য। তার স্ত্রীও গ্রাম থেকে ৪০০ টাকা ভ্যান ভাড়া করে শ্যামনগর সদরে এসে আড়াই হাজার টাকা নেন। এ রকম নীলফামারী জেলা বিএনপির নেতা গোলাম রাব্বানীও ক্রসফায়ারে নিহত হন। তাঁর স্ত্রী ও ৫ মেয়ে রয়েছে। বিএনপির উপহার হিসেবে পাওয়া টাকা তারাও পেয়েছেন।

নীলফামারীর একজন স্থানীয় বিএনপি নেতা বলেন, ঈদ উপহার দেওয়ায় নামে তামাশা করা হয়েছে। এই টাকায় গোলাম রাব্বানীর ৬ জনের পরিবারের কী হবে। তা-ও নেতারা টাকা দিতে গিয়ে ফটোসেশন করে তা ফেসবুকে দিচ্ছেন। তারা একবারও চিন্তা করছেন না এই পরিবারগুলোরও সম্মান আছে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন নেতা বলেন, কত টাকা তা বড় কথা নয়। এটি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ঈদ উপহার। দলের নির্দেশনা ছিল গুম, নিহত, আহত ও পঙ্গু নেতাকর্মীদের পরিবারের বাড়িতে গিয়ে টাকা পৌঁছে দিতে হবে। কিন্তু এক জায়গায় জড়ো করে ফটোসেশন করে দেওয়াটা অবশ্যই ঠিক হয়নি।

এদিকে বিএনপির জাতীয় পর্যবেক্ষণ সেলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতি সার্বিকভাবে আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে দশ নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে এ সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা বিভাগের দায়িত্বে যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, চট্টগ্রাম বিভাগে স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, খুলনা বিভাগে ড্যাবের ডা .হারুন অর রশিদ, রাজশাহী বিভাগে যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বরিশাল বিভাগে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. রফিকুল ইসলাম, সিলেট বিভাগে স্বেচ্ছাসেবক দলের আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, ময়মনসিংহ বিভাগে যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, কুমিল্লা বিভাগে ড্যাবের ডা. আব্দুস সালাম, রংপুর বিভাগে ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন এবং ফরিদপুর বিভাগে ছাত্রদলের ইকবাল হোসেন শ্যামল। -সূত্র : আমাদের সময়