(দিনাজপুর২৪.কম) যারা মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান অস্বীকার করে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় আদৌ বিশ্বাস করে কি না, সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার বিকেলে গণভবনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ভাষণে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে ইয়াহিয়া খান শুধু বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারই করেননি, ২৬ মার্চ ইয়াহিয়া খান যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তাতে আর কারও কথা বলেননি। তিনি বঙ্গবন্ধুর কথাই বলেছেন। বঙ্গবন্ধুকেই দোষারোপ করেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে প্রহসনমূলক বিচার করে ফাঁসির রায় সই পর্যন্ত করেছিলেন। কই, ইয়াহিয়া খান তো জিয়াউর রহমানকে চাকরিচ্যুত করেননি। বা তার কথা বলেননি। অন্য কারও কথাও বলে যাননি, একজনের কথা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর কথা। তাঁকেই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সময় একটা জিনিস আমরা বিশ্বাস করি এবং বলি, আমাদের দেশে যার যার ধর্ম সে শান্তিতে পালন করবে। একমাত্র যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকে, তখনই দেশে আমরা সে রকম পরিবেশ রাখতে সমর্থ হই। সবাই সবার উৎসবে সমানভাবে শরিক হয়। এটাই আমাদের দেশের সংস্কৃতি এবং নিয়ম।

২০০১ সালে নির্বাচন-পরবর্তী এবং ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সংখ্যালঘু শব্দটির পক্ষপাতি নয়। বাংলাদেশের নাগরিক হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এবং মুসলমান যারাই হোক, সবাই সমান অধিকার নিয়ে বাস করবে। এখানে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর কোনো প্রশ্নই ওঠে না। সবার সমান অধিকার রয়েছে এবং থাকবে—এটাই আমরা বিশ্বাস করি। আমাদের ধর্ম ইসলামে সব ধর্মের কথাই বলা আছে। আওয়ামী লীগ সব সময়ই আপনাদের পাশে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্গাপূজার সময় যেন সঠিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা হয়, ইতিমধ্যেই সে ধরনের নির্দেশ দেওয়া আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, পূজার সময়ে মুসলমানরাও সহায়তা করে ও পাহারা দেয়। আবার বাংলাদেশে এ রকমও দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছে যে ঈদের জামাতে যেন কোনো রকম জঙ্গি হামলা না হয়, সে জন্য হিন্দু ভলান্টিয়ার ভাইয়েরা পাহারা দেয়। এ রকম চমৎকার পরিবেশ বোধ হয় পৃথিবীর খুব কম দেশেই পাওয়া যাবে।

এর আগে জন্মাষ্টমী উদ্‌যাপন পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ এবং মহানগর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত সেন দীপু, জন্মাষ্টমী উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি দেবাশীষ পালিত, মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি ডি এন চট্টোপাধ্যায়, জন্মাষ্টমী উদ্‌যাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি রমেশ ঘোষ এবং জন্মাষ্টমী উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চন্দন তালুকদারও বক্তব্য দেন। -ডেস্ক