-পুরনো ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) মনোমুগ্ধকর অভিনয় কিংবা মডেলিংয়ের গুণে তারা পৌঁছে গিয়েছিলেন প্রতিটি বাসার ড্রইংরুমে। তাদের নিয়ে আড্ডা জমত পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানে। টেলিভিশন খুললেই তাদের দেখা যেত নিয়মিত। বলা হচ্ছে সেই সব অভিনয়শিল্পী-মডেলের কথা, যারা ছিলেন টিভি নাটক-অনুষ্ঠান-বিজ্ঞাপনের সোনালি যুগের চালক। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই কাজ ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন দেশের

বাইরে। অনেকে আবার কাজ করছেন পর্দার আড়ালে কিংবা অন্য ভুবনে। কিন্তু সাধারণ মানুষ তাদের মনে রেখেছে। আমাদের আজকের আয়োজন তাদের মধ্য থেকে চার তারকাকে নিয়ে। লিখেছেনÑ ফয়সাল আহমেদ

বিপাশা হায়াত

নব্বইয়ের দশকে টিভি নাটকে অভিনয়ের জন্য বিশাল খ্যাতি অর্জন করেন অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত। পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, মঞ্চ নাটক ও চলচ্চিত্রে দারুণ সফল ছিলেন তিনি। বিপাশা হায়াত অভিনীত প্রথম নাটক ১৯৮৩ সালে বিটিভিতে প্রচারিত হয়। ১৯৯৪ সালে তিনি ‘আগুনের পরশমণি’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। অভিনয় দিয়ে সারাদেশের মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন বিপাশা হায়াত। এক সময়ের অন্যতম ব্যস্ত অভিনেত্রী বিয়ের পর বলতে গেলে সম্পূর্ণভাবে অভিনয় থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। অভিনয় ছেড়ে দিলেও আঁকাআঁকি, নিয়মিত নাটকের পান্ডুলিপি লেখা আর মাঝে মাঝে পরিচালনায় তাকে দেখা যায়। ২০০৯ সালে মে মাসে অ্যাসিড আক্রান্ত নারীদের সাহায্যার্থে আয়োজিত প্রদর্শনীতে নিজের আঁকা ছবি দান করেন তিনি। শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও অবহেলিত নারীদের পুনর্বাসনে কাজ করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেনের’ শুভেচ্ছাদূত হয়েছেন এই তারকা।

রোমানা

এক সময়ের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী রোমানা। বিজ্ঞাপন ও টিভি নাটক দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও নিজেকে চলচ্চিত্রেও খুব ভালোভাবেই প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তিনি। অসংখ্য বিজ্ঞাপন ও নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি ২৬টি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী। ‘এক টাকার বউ’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান রোমানা। সুদারুণ অভিনয় দক্ষতা দিয়ে তিনি দেশের সব মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। সেই রোমানাই হঠাৎ করে নিজেকে অভিনয় থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। একেবারেই মিডিয়া জগতে নেই তিনি। সর্বশেষ তিনি রহমতুল্লাহ তুহিনের নির্দেশনায় ২০১৪ সালে জিয়াউল ফারুক অপূর্বর বিপরীতে ‘যত দূরে যাবে বন্ধু’ নাটকে অভিনয় করেন। এর পর তাকে আর চলচ্চিত্রে কিংবা নাটকে অভিনয়ে দেখা যায়নি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন তিনি। ২০১৫ সালে রুমানা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ব্যবসায়ী এলিন রহমানকে বিয়ে করেন। গত বছর ফুটফুটে এক কন্যা সন্তানের মা হয়েছেন তিনি।

আফসানা মিমি

এক নামেই তার অনেক পরিচয়। একাধারে তিনি একজন পারদর্শী অভিনয়শিল্পী, দক্ষ নির্মাতা ও সংগঠক। নব্বই দশকে যে কয়জন অভিনয়শিল্পী টিভি নাটকের জগৎটাকে রাঙিয়ে তুলেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম আফসানা মিমি। অভিনয়ে অভিষেক হয়েছিল মঞ্চের মাধ্যমে আর টিভি পর্দায় তার মিষ্টিমুখ প্রথম দেখা যায় বিজ্ঞাপনচিত্রে। তার পর অভিনয় করছেন অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকে। এখনো সাধারণ মানুষ তাকে মনে করে আফসোস করেন এবং তার অভিনয় দেখার জন্য অধীর অপেক্ষায় বসে থাকেন। সেই আফসানা মিমি অভিনয় থেকে প্রায় নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। টিভি পর্দায় তাকে দেখা যায় না বললেই চলে। মাঝে মাঝে উপস্থাপনা এবং ক্যামেরার পেছনে নির্দেশনা দিতে দেখা যায়। তার সব ব্যস্ততা এখন বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন একাডেমি ঘিরে। আরও দুটি একাডেমি শুরুর কাজ হাতে নিয়েছেন। তবে তার ভক্তদের জন্য সুখবর হলোÑ দীর্ঘদিন পর গিয়াসউদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘পাপ-পুণ্য’ ছবিতে বড়পর্দায় দেখা যাবে তাকে।

বিন্দু

রিয়েলিটি শো লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টারের মাধ্যমে মিডিয়া জগতে নাম লেখান বিন্দু। এ মডেল-অভিনেত্রী বিজ্ঞাপন, নাটক ও চলচ্চিত্র-তিন মাধ্যমেই কাজ করেছেন। প্রথম ‘দারুচিনি দ্বীপ’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি মিডিয়া অঙ্গনে পা রাখেন। শাকিব খানের বিপরীতেও চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন তিনি। তবে বড়পর্দায় নয়, বিন্দু বেশি সরব ছিলেন নাটকে। ছোটপর্দায় অভিনয় করেই তিনি দর্শক জনপ্রিয়তা পান। অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক রয়েছে তার। এক সময় অনেক ব্যস্ত সময় পার করেছেন অভিনয় জগতে। অভিনয় দক্ষতা দিয়ে খুব তাড়াতাড়ি তারকা হয়ে উঠেছিলেন মিডিয়াতে, কিন্তু এখন আর টিভি পর্দায় দেখা যায় না তাকে। ক্যারিয়ারের মাঝপথে বিয়ে করে পুরোপুরি সংসারী হয়ে যান বিন্দু। এর পর থেকেই মিডিয়ার আড়ালে চলে যান। কিছুদিন আগে শোনা যাচ্ছিল, তার সেই সংসারেও বাজছে বিচ্ছেদের ঘণ্টা। মিডিয়ার কোথাও এখন আর দেখা যায় না বিন্দুকে। সবশেষ গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ‘ব্র্যাক ব্যাংক দৌড়-২০১৯ : কল্যাণের পথচলা’ শীর্ষক ম্যারাথনে অংশ নিতে দেখা গেছে তাকে। -ডেস্ক